২৮ বছর হেঁটে পৃথিবী ঘুরে হালে বীরের সংবর্ধনা কার্ল বুশবির

২৮ বছর ধরে হেঁটে পৃথিবী প্রদক্ষিণের পথে নিজ শহর হালে ফিরেছেন সাবেক প্যারাট্রুপার কার্ল বুশবি; শহরের কুইন ভিক্টোরিয়া স্কয়ারে তাকে বীরের সংবর্ধনা দিয়েছে মানুষজন।
৫৭ বছর বয়সী বুশবি ভিড়ের মধ্যে দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বলেন, কোন দিকে যেতে হবে তিনি জানেন না, সবাই যেন পথ দেখিয়ে দেন। অপেক্ষা করানোর জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, একটু সময় লেগে গেছে।
দক্ষিণ আমেরিকার সর্বদক্ষিণের শহর চিলির পুন্তা আরেনাস থেকে শুরু করে হাল পর্যন্ত পায়ে হাঁটার এই যাত্রার শেষের আগের ধাপটি সোমবার সম্পন্ন করেন তিনি। এমন সংবর্ধনা আগে কখনো দেখেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
১৯৯৮ সালে ২৯ বছর বয়সে সেনাবাহিনী ছেড়ে ১২ বছরে শেষ করার পরিকল্পনা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন বুশবি; শেষ পর্যন্ত লেগেছে ২৮ বছর।
এই সময়ে তিনি ২৯টি দেশ ঘুরে মোট ৩৬ হাজার মাইল পথ হেঁটেছেন — চারটি মহাদেশ, জমে যাওয়া সাগর, মরুভূমি, জঙ্গল ও পাহাড় পেরিয়ে।
যাত্রাপথে তিনি আলাস্কা ও রাশিয়ার মাঝের জমাট বেরিং প্রণালির বরফ এবং মধ্য আমেরিকার দুর্গম দারিয়েন গ্যাপ পায়ে হেঁটে পেরিয়েছেন।
পথে তাকে বন্দুকের মুখে হুমকির শিকার হতে হয়েছে, মেরু ভালুকের মুখোমুখি হতে হয়েছে, গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হতে হয়েছে এবং রাশিয়ায় আটক অবস্থায় বহিষ্কারের সাজাও পেতে হয়েছে।
পুরো যাত্রায় বুশবি দুটি নিয়ম মেনে চলেছেন: যাত্রা পুরোপুরি শেষ না করে ঘরে না ফেরা, আর এগিয়ে যেতে কোনো যানবাহন ব্যবহার না করা।
রোববার কুয়াশাচ্ছন্ন হাম্বার ব্রিজ পেরিয়ে তিনি হালে ঢোকেন — ১৯৯৮ সালে যাত্রা শুরুর একই তারিখে।
এর মধ্য দিয়ে বুশবি হচ্ছেন প্রথম ব্যক্তি, যিনি অবিচ্ছিন্নভাবে হেঁটে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করেছেন। তার এই যাত্রা পৃথিবীর ২৫ হাজার মাইল পরিধিকেও ছাড়িয়ে গেছে, যা দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন পদযাত্রা।
সোমবার পরে তিনি যাত্রা শেষ করবেন নিজের শৈশবের বাড়িতে, যেখানে বাগানের গেটে মা অ্যাঞ্জেলা তার জন্য অপেক্ষা করবেন বলে জানিয়েছেন।




