সন্তান জন্মের তিন দিন পর ওসমানীনগরে অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় মায়ের মৃত্যু, আইসিইউতে নবজাতক

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় সন্তান জন্ম দেওয়ার তিন দিনের মাথায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন হালিমা বেগম (৩০) নামের এক নারী। রোববার রাত আটটার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের কাশিকাপন এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে একটি অ্যাম্বুলেন্স ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত হালিমা বেগম তাজপুর ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী রাজু মিয়ার স্ত্রী। সোমবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেটের শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার চৌধুরী।
এই দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবারের চারজনসহ মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন অ্যাম্বুলেন্সচালক মুহিবুর রহমান, হালিমা বেগমের মা রুবেনা বেগম, শাশুড়ি শাহেনা বেগম, শ্বশুর আনহার মিয়া ও ননদ ইমা বেগম।
পরিবারের কাছ থেকে জানা গেছে, গত শুক্রবার সকালে তাজপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন হালিমা বেগম। রোববার নবজাতকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল।
পথে রাত আটটার দিকে অ্যাম্বুলেন্সটি কাশিকাপন এলাকায় পৌঁছালে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা হালিমা বেগম ঘটনাস্থলেই মারা যান।
নবজাতকসহ আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নবজাতক শিশুটি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
হালিমা বেগমের মামা আলাল মিয়া বলেন, অ্যাম্বুলেন্সচালক নিয়ন্ত্রণহীনভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তিনি জানান, নবজাতকের শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল, এ কারণে স্থানীয় একটি ক্লিনিক থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল, পথেই এই দুর্ঘটনা ঘটে।
আলাল মিয়া আরও জানান, প্রায় এক বছর আগে প্রবাস থেকে দেশে ফিরে হালিমাকে বিয়ে করেন রাজু মিয়া। বিয়ের প্রায় চার মাস পর তিনি আবার প্রবাসে চলে যান। গত শুক্রবার জন্ম নেওয়া কন্যাসন্তানটিই তাঁদের প্রথম সন্তান, আর সন্তান জন্মের খবরে খুব খুশি হয়েছিলেন রাজু মিয়া।
স্ত্রী ও সন্তানের এমন অবস্থার কথা শুনে সৌদি আরবে থাকা রাজু মিয়া ভেঙে পড়েন। আলাল মিয়া বলেন, খবর শুনে প্রবাসে রাজু নিজেও জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন, পরে সেখানে থাকা স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আলাল মিয়া জানান, সোমবার দুপুরে হালিমা বেগমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আহত অন্যরা চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তাঁর ভাষায়, এখন পরিবারের সবার একটাই চাওয়া—নবজাতক শিশুটি যেন বেঁচে থাকে।
পুলিশ জানিয়েছে, রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটিকে অ্যাম্বুলেন্সটি ধাক্কা দেয় এবং ওই জায়গায় আলো কিছুটা কম ছিল। দুর্ঘটনার পর ট্রাক ও অ্যাম্বুলেন্স থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।




