জন্মদিনে সিলেটের লালাখালে তৌসিফ, সাফা ও টয়া: স্মৃতির জায়গায় তিন দিনের বন্ধু-আড্ডা

গত ২৭ অক্টোবর ছিল অভিনেতা তৌসিফ মাহবুবের জন্মদিন। প্রতিবার জন্মদিনে কোনো না কোনো কাজ পড়ে গেলেও এবার আগে থেকেই শুটিং বন্ধ রেখেছিলেন তিনি। স্ত্রী ও বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার সেই পরিকল্পনায় তাঁর গন্তব্য ছিল সিলেটের লালাখাল।
তৌসিফ বলেন, ‘এবার জন্মদিনে হারিয়ে যেতে চেয়েছিলাম, পেরেছি। নিজের মতো করে ঘুরেছি। বন্ধুরা সব সময় জন্মদিনে পাশে থাকে, সে কারণে তাঁদের জানিয়েছিলাম, আমার সঙ্গে যাবে কি না। রাজি হয়ে গেল সাফা, টয়া ও সিয়াম (আহমেদ)।’ তবে ব্যস্ততার কারণে সিয়াম আহমেদ শেষ পর্যন্ত যেতে পারেননি। টয়ার সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্বামী অভিনেতা সৈয়দ জামান শাওন।
তৌসিফের কাছে লালাখাল স্মৃতিবিজড়িত জায়গা। এখানেই কেটেছে তাঁর গানের ক্যারিয়ারের শেষ দিন, আবার এখান থেকেই শুরু নাটকের ক্যারিয়ার। তিনি বলেন, ‘তখন আমাদের ব্যান্ড ছিল। ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে এই লালাখাল থেকে গান করে সারা রাত বাসে জার্নি করে ঢাকার বাসায় ফিরি; আর ফিরেই ভোর চারটার দিকে আমার ক্যারিয়ার শুরুর নাটক অলটাইম দৌড়ের ওপর-এর শুটিংয়ে আবার এই লালাখালে এসেছিলাম। এই জায়গা একটি ক্যারিয়ারের শেষ আর আরেকটির শুরু।’
বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাঘুরির সুযোগ কখনোই হারাতে চান না সাফা কবির। প্রস্তাব পাওয়া মাত্র রাজি হয়ে যান তিনি। আদনান আল রাজীবের অলটাইম দৌড়ের ওপর নাটকের শুটিং থেকেই তৌসিফের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব; আর সুপার গার্লস ধারাবাহিক নাটকের শুটিং থেকে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে মুমতাহিনা টয়ার সঙ্গে।
লালাখালের নীল পানি মুগ্ধ করেছে সাফাকে। তিনি বলেন, ‘আমি লালাখালের এমন নীল পানি সেন্ট মার্টিন ছাড়া আর কোথাও দেখিনি। পরিবেশটা অসাধারণ। আমি আর টয়া সকালে ঘুম থেকে উঠে সূর্যোদয় দেখেছি, ঘুরেছি। সিয়ামকে মিস করলাম, তাঁকে সুন্দর মুহূর্তের ভিডিও পাঠালাম।’
সাফার কাছে এই ভ্রমণ ছিল মানসিকভাবে নিজেকে তৈরি করার যাত্রা। তাঁর ভাষায়, ‘মনে হলো বয়স কমে গেছে। ভাবছি, প্রতিমাসে একবার এখানে আসতে পারলে এটা আমার জন্য প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে কাজ করত।’
তিন দিনের আড্ডায় টয়ার হাসি যেন থামেই না। টয়া বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার সময় সুন্দর পোজ দেওয়ার চেয়ে হাসি থামানো অনেক বেশি কঠিন; শেষ পর্যন্ত সুন্দর পোজের চেয়ে হাসতে হাসতে তোলা ছবির সংখ্যাই বেশি হয়, কিন্তু পরে এই ছবিগুলো দেখেই সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে।
এক যুগের বেশি সময়ের এই বন্ধুত্ব এখন তাঁদের কাছে পরিবারের মতো। সাফা বলেন, ‘এখন আমরা বন্ধুর চেয়েও অনেক বেশি কিছু, বলা যায় পরিবারের অংশ। টয়া, তৌসিফ, সিয়াম আমার কাছে স্পেশাল।’ তৌসিফ জানান, বন্ধুরা তাঁর জন্য আস্থার জায়গা; বিমান থেকে নামার সময় তাঁকে লাগেজ নেওয়ার দায়িত্ব দিয়ে বন্ধুরা সিলেট শহর থেকে কেকসহ নানা সারপ্রাইজ জিনিস নিয়ে এসেছিল, যার কিছুই তিনি জানতেন না।
সিলেট থেকে ফিরেই শুটিংয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন তাঁরা সবাই।



