মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মেইনের লবস্টার শিল্পে শুল্কযুদ্ধের চাপ, চাপে সিনেটর কলিন্স
যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্যের জেলে হর্নার অর্ধশতাব্দী ধরে প্রতিদিন নৌকা নিয়ে উত্তর আটলান্টিকের ঠান্ডা পানিতে লবস্টার ধরে আসছেন। ধরা লবস্টার ট্রাকে করে প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রে পাঠানো হয়, সেখান থেকে যায় বিশ্বের নানা দেশের রেস্তোরাঁয়।
হর্নার তিনবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছেন এবং এখনো নিজের ভোটের পক্ষে আছেন। বাণিজ্যিক মাছ ধরার কাজে প্রভাব ফেলে এমন পরিবেশগত বিধিনিষেধ শিথিল করায় তিনি ট্রাম্পকে সমর্থন করেন।
তবে আরেকটি নীতিতে তিনি হতাশ—কানাডার প্রতি ট্রাম্পের বৈরী মনোভাব। মেইনের সীমান্তঘেঁষা কানাডার সঙ্গে অঙ্গরাজ্যটির লবস্টার শিল্প গভীরভাবে জড়িত। আল জাজিরাকে হর্নার বলেন, প্রচারণার সময় কানাডাবিরোধী এমন মনোভাবের কথা তিনি শোনেননি; কানাডার সঙ্গে এই বিশাল বৈরী বাণিজ্যযুদ্ধের তিনি সম্পূর্ণ বিরোধী।
এর মধ্যে বেড়েছে ফাঁদের খাদ্য ও নৌকার ডিজেলের দাম। যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, রাশিয়া ও ইউক্রেন ঘিরে উত্তেজনায় বিশ্বজুড়ে ডিজেলের দাম বেড়ে সেপ্টেম্বরে রেকর্ড ছুঁয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর আগে ডিজেলের গড় দাম ছিল গ্যালনপ্রতি ৩ দশমিক ০৮ ডলার; এখন তা দ্বিগুণের বেশি বেড়ে ৬ দশমিক ২৯ ডলারে পৌঁছেছে।
মেইনের লবস্টার খাত ২০২৫ সালে ৪৬ কোটি ১০ লাখ ডলারের ব্যবসা করেছে। এই সামুদ্রিক প্রাণীর ওপর নির্ভর করেই গড়ে উঠেছে অঙ্গরাজ্যটির সামুদ্রিক খাদ্য অর্থনীতি।
ট্রাম্প কানাডীয় পণ্যে ব্যাপক শুল্ক ঘোষণা করলে শিল্পটি শঙ্কায় পড়ে এবং অটোয়া পাল্টা শুল্ক আরোপ করে। আগস্টে ট্রাম্প মার্কিন পণ্যের প্রতি অন্যায্য আচরণের অভিযোগ তুলে ২ হাজার কোটি ডলারের কানাডীয় পণ্যে শুল্ক বসান। কানাডা পাল্টা শুল্ক দেয়, তবে সেই মাসের শেষের দিকেই সামুদ্রিক খাদ্যের ওপর থেকে শুল্ক তুলে নেয়।
মেইনে লবস্টারের ভরা মৌসুম গ্রীষ্মের শেষ থেকে শরতের শুরু পর্যন্ত। এ সময় ধরা এত বাড়ে যে স্থানীয় প্রক্রিয়াজাতকারীরা সামাল দিতে হিমশিম খায়। ফলে ধরা লবস্টারের বড় অংশ কানাডায় পাঠানো হয় লেজ, মাংস ও ঝোলজাতীয় খাবার (বিস্ক) তৈরির জন্য, যার কিছু আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে বিক্রি হয়। হিসাব অনুযায়ী, মেইনের ধরা লবস্টারের প্রায় ৬০ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত হয় কানাডায়।
মেইনের লবস্টার শিল্পে কর্মরত ও ডেমোক্র্যাট কৌশলবিদ জাস্টিন স্নাইডার আল জাজিরাকে বলেন, শুল্ক ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মেইন ও কানাডা—দুই জায়গাতেই আক্ষরিক ও রূপক অর্থে চিৎকার শুরু হয়ে গিয়েছিল।
শেষ পর্যন্ত সামুদ্রিক খাদ্য মার্কিন-কানাডা বাণিজ্যযুদ্ধের বাইরে থাকলেও শুল্কের হুমকি শিল্পে ভয় তৈরি করেছে এবং রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট ট্রয় জ্যাকসনের সঙ্গে তার লড়াই হাড্ডাহাড্ডি চলছে।
মেইন অঙ্গরাজ্য সিনেটের সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যাকসন সামান্য এগিয়ে আছেন। সাম্প্রতিক সিএনএনের জরিপে তিনি চার পয়েন্টে এবং ম্যারিস্টের জরিপে দুই পয়েন্টে এগিয়ে আছেন; দ্বিতীয় ব্যবধানটি জরিপের ভুলের সীমার মধ্যে পড়ে।
কলিন্স সিনেটে ট্রাম্পের নীতি ও বক্তব্য নিয়ে উদ্বেগ জানালেও ভোটের সময় তার কর্মসূচিকে সমর্থন দেওয়ার খ্যাতি রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সিনেটের ৯২ শতাংশ ভোটে কলিন্স ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গে একমত হয়েছেন।
তবে শুল্ক প্রশ্নে কলিন্স কয়েকবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে গেছেন। ২০২৫ সালের এপ্রিলে তিনি কানাডীয় পণ্যের শুল্ক বাতিলের পক্ষে ভোট দেন; একই মাসে ট্রাম্পের ব্যাপক বৈশ্বিক শুল্ক শেষ করার প্রস্তাবকে সমর্থন করেন এবং আগস্টে সামুদ্রিক খাদ্যের শুল্ক নিয়ে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে মতবিরোধে যান।
কানাডীয় পণ্য ও অন্যান্য আমদানির শুল্কের বাইরে বিদেশি ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের শুল্কও মেইনের লবস্টার শিল্পের খরচ বাড়িয়েছে; জেলেদের ফাঁদ তৈরিতে এই ধাতুগুলো লাগে।
জ্যাকসন ট্রাম্পের শুল্কের কট্টর সমালোচক। তার অভিযোগ, প্রেসিডেন্টের বাণিজ্য পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করতে কলিন্স যথেষ্ট করেননি।

