ফাজিল-কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি বাতিলের আদেশের কার্যক্রম স্থগিত করলেন হাইকোর্ট
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন পরিচালিত ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি বা অ্যাডহক কমিটি বাতিলসংক্রান্ত অফিস আদেশের কার্যক্রম স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।
একটি মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতির করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার রুলসহ এ আদেশ দেন।
এর আগে গত ১৯ অক্টোবর ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই অফিস আদেশ জারি করে। এ আদেশ চ্যালেঞ্জ করে ভোলার চরফ্যাশন কারামাতিয়া কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি আইনজীবী পারভেজ হোসেন গত সপ্তাহে রিট আবেদনটি করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন ও আইনজীবী পারভেজ হোসেন নিজে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী ও মো. জসিদুল ইসলাম।
ওই অফিস আদেশে বলা হয়েছিল, গত ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ৪৩তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন পরিচালিত ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসাগুলোর গভর্নিং বডি বা অ্যাডহক কমিটি বাতিল করা হলো। আদেশটি ছিল গভর্নিং বডি বা অ্যাডহক কমিটি বাতিল, অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও বিদ্যোৎসাহী প্রতিনিধি মনোনয়ন এবং নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন প্রসঙ্গে।
রিট আবেদনকারী পারভেজ হোসেন বলেন, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কোনো প্রকার প্রেক্ষাপট বর্ণনা ছাড়াই সারা বাংলাদেশের ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি বাতিল করেছে। একই সঙ্গে অ্যাডহক কমিটি গঠনসংক্রান্ত যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ও বিধির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়; এ কারণে এ রিট করা হয়।
স্থগিতাদেশের পরিধি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী বলেন, শুধু রিট আবেদনকারী যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি ছিলেন, সে ক্ষেত্রে ওই অফিস আদেশের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে রিট আবেদনকারী পারভেজ হোসেন বলেন, পুরো অফিস আদেশের কার্যকারিতাই স্থগিত করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্যে, শুধু তাঁর মাদ্রাসার ক্ষেত্রে অফিস আদেশ স্থগিত হয়েছে, নাকি সারা দেশের মাদ্রাসাগুলোর ক্ষেত্রে স্থগিত হবে, হাইকোর্টের পুরো আদেশ পেলে তা বুঝতে পারা যাবে।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী জানিয়েছেন, হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে।



