সাবেক এফবিআই কর্মকর্তাদের মামলা খারিজ, বিচারক বললেন ‘অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার’
যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত সাবেক দুই এফবিআই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচার বিভাগের আনা ফৌজদারি মামলা খারিজ করে দিয়েছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেনকে নিয়ে এফবিআইয়ের তদন্তের বিষয়ে তাঁরা অভিযুক্ত ছিলেন।
ব্র্যাডলি বেনাভিদেস ও নিকি ফ্লোরিসকে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযোগ ছিল, ২০২৩ সালে কংগ্রেসের কাছে তাঁরা হান্টার বাইডেনকে নিয়ে এফবিআইয়ের তদন্ত সম্পর্কে নিজেদের জানা বিষয়ে মিথ্যা বলেছেন। মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে বিচার বিভাগের নেওয়া কয়েকটি রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর পদক্ষেপের একটি এটি।
ওয়াশিংটন ডিসিতে ফেডারেল আদালতের শুনানিতে মার্কিন ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক জিয়া ফারুকি ফ্লোরিস ও বেনাভিদেসের বিরুদ্ধে সরকারের তদন্তের কড়া সমালোচনা করেন; তিনি একে তাড়াহুড়া করা ও ভুলে ভরা বলে বর্ণনা করেন।
রায় দিতে গিয়ে বিচারক ফারুকি বলেন, ‘এখানে যা ঘটেছে, তাতে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এখানে যা ঘটেছে, তাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার ছাড়া অন্য কিছু বলা যায় না।’
ওয়াশিংটনের মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয় মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়নি।
আদালতের এই রায় আসে গত সপ্তাহে কয়েক দিন ধরে চলা প্রাথমিক শুনানির পর, যেখানে ফ্লোরিস ও বেনাভিদেসকে মিথ্যা বলার অভিযোগে অভিযুক্ত করার মতো যুক্তিসংগত কারণ আছে কি না, তা নির্ধারণ করা হচ্ছিল। ওই শুনানিতে মামলাটি তদন্তকারী এফবিআই এজেন্টদের একজন সাক্ষ্য দেন।
সোমবার প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বিচারক ফারুকি তাঁর সিদ্ধান্তের ভিত্তি তুলে ধরেন। সে সময় আদালতকক্ষ পূর্ণ ছিল, উপস্থিত ছিলেন অনেক সাবেক ঊর্ধ্বতন এফবিআই কর্মকর্তা।
বিচারক উল্লেখ করেন, ফ্লোরিস ও বেনাভিদেসের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয় এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলের নির্দেশে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জাতীয় টেলিভিশনে প্রাইমটাইম ভাষণ দেওয়ার পরদিন। জুলাইয়ের মাঝামাঝি দেওয়া সেই ভাষণে ট্রাম্প ২০২০ সালের নির্বাচনে জালিয়াতি নিয়ে তাঁর মিথ্যা দাবিগুলো আবার বলেন এবং এফবিআইকে তদন্তের আহ্বান জানান।
বিচারক ফারুকি আরও উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত মিথ্যা বক্তব্যগুলো ২০২৩ সালে কংগ্রেসকে দেওয়া হয়েছিল, অথচ বিচার বিভাগ মামলাটি এগিয়ে নিতে তিন বছর অপেক্ষা করেছে। এরপর মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে অভিযোগ আনা হয়, যদিও নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে এমন সময়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া বিচার বিভাগের নীতিমালায় নিষেধ রয়েছে।
বিচার বিভাগের এটিই একমাত্র অস্বাভাবিক সিদ্ধান্ত ছিল না বলে বিচারক উল্লেখ করেন। অভিযোগ আনা হয়েছিল ফৌজদারি অভিযোগপত্র (ক্রিমিনাল কমপ্লেইন্ট) আকারে, যে নথি সাধারণত জরুরি প্রয়োজন থাকলে ব্যবহৃত হয়—যেমন আসন্ন বিপদ, মামলার সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়া বা পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি। এই মামলায় এর কোনোটিই ছিল না বলে তিনি বলেন। বিচারকের ভাষায়, এখানে এগিয়ে আসা একমাত্র ঘটনা ছিল মধ্যবর্তী নির্বাচন।
তিনি বলেন, ‘আমি বালিতে মুখ গুঁজে বসে থাকব না এবং ক্যালেন্ডার পড়তে পারি না, এমন ভান করব না। আমি এভাবে নিজেকে অচেতন করে ফেলব না।’
বিচারক আরও বলেন, প্রসিকিউটররা সম্ভবত এই মামলা গ্র্যান্ড জুরির কাছে নিতে চান না, কারণ সম্প্রতি ওয়াশিংটন ডিসিতে উচ্চ-প্রোফাইল ও রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর মামলাগুলোতে বিচার বিভাগের রেকর্ড ভালো নয়। ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে কয়েকবার রাজধানীর গ্র্যান্ড জুরিগুলো এমন মামলায় অভিযোগপত্র (ইনডাইটমেন্ট) দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
মামলা খারিজ করলেও বিচারক ফারুকি বলেন, প্রসিকিউটরদের গ্র্যান্ড জুরির কাছে গিয়ে ইনডাইটমেন্ট আদায়ের চেষ্টা করতে কোনো বাধা নেই। তাঁরা চাইলে জেলার প্রধান বিচারকের কাছে তাঁর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলও করতে পারেন।
শুনানির পর সাবেক এফবিআই কর্মকর্তাদের একটি দল আদালতকক্ষের বাইরে ফ্লোরিস ও বেনাভিদেসকে অভ্যর্থনা জানান। চোখে পানি নিয়ে ফ্লোরিস সাবেক কয়েকজন সহকর্মীকে আলিঙ্গন করেন, তারপর বেনাভিদেসকে আলিঙ্গন করেন।
ফ্লোরিসের আইনজীবীদের একজন মার্গারেট ডোনোভান বলেন, ‘এই মামলা কখনোই আনা উচিত হয়নি। সরকারের কোনো মামলাই ছিল না। বিচারক যেমনটা তুলে ধরলেন, এটি ছিল একটি তড়িঘড়ি করে সাজানো অভিযোগ। কিন্তু আদালতকক্ষে এখনো তথ্যই গুরুত্বপূর্ণ। সত্য এখনো গুরুত্বপূর্ণ। আর আমরা বলি, আজ সেটাই জয়ী হয়েছে।’




