ফ্লোরিডার লিয়ারজেট দুর্ঘটনার তদন্তে আবহাওয়াই মূল ফোকাস, ভেঙে পড়ার আগেই বিমানটি ভাঙতে শুরু করেছিল বলে প্রাথমিক ইঙ্গিত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নয়জন আরোহী নিয়ে লিয়ারজেট বিধ্বস্তের তদন্তে আবহাওয়া পরিস্থিতিকেই মূল ফোকাস হিসেবে দেখছেন ফেডারেল তদন্তকারীরা। ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের (এনটিএসবি) সদস্য টম চ্যাপম্যান সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ার আগেই ভাঙতে শুরু করেছিল বলে প্রাথমিক ইঙ্গিত মিলেছে।
চ্যাপম্যান বলেন, ‘আমাদের কাছে কিছু ইঙ্গিত রয়েছে যে বিমানটি আঘাতের আগে ভেঙে যাচ্ছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘সুতরাং এর কিছু অংশ এখনো নির্ধারণ করা বাকি। আমরা প্রকৃত আঘাতস্থল থেকে কিছু দূরে বিমানের অংশ খুঁজে পেতে পারি।’
তদন্তকারীরা বিমানটি প্রায় ৩৫ হাজার ফুট উচ্চতায় যে আবহাওয়া পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল, তাও খতিয়ে দেখছেন। সেখানে ক্রুরা দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগে বরফ জমা ও মাঝারি অস্থিরতার কথা জানিয়েছিলেন। চ্যাপম্যান বলেন, ‘আবহাওয়া পরিস্থিতি তদন্তের একটি প্রধান ফোকাস। ভূপৃষ্ঠে আবহাওয়া কেমন ছিল, তা আপনারা সবাই দেখেছেন। আমাদের নির্ধারণ করতে হবে উচ্চতায় আবহাওয়া পরিস্থিতি কেমন ছিল।’
লিয়ারজেট ৬০ বিমানটি রোববার টেক্সাসের অস্টিন-বার্গস্ট্রম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সকাল প্রায় ১০টা ৩৭ মিনিটে ছেড়েছিল। গন্তব্য ছিল বাহামার নর্থ এলিউথেরা। এনটিএসবির তথ্য অনুযায়ী, বিমানে দুইজন ক্রু সদস্য ও সাতজন যাত্রী ছিলেন।
দুপুর প্রায় ১২টা ৪৭ মিনিটে ক্রুরা ৩৫ হাজার ফুট উচ্চতায় নিয়ন্ত্রণযোগ্য হালকা স্বচ্ছ বরফ ও মাঝারি অস্থিরতার কথা জানান, যেখানে উচ্চতার প্রায় ৭০০ ফুট ওঠানামা হচ্ছিল। তাঁরা বাইরের তাপমাত্রা মাইনাস ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, অর্থাৎ মাইনাস ৫৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট বলেও জানান। বৃষ্টিপাতের মুখোমুখি হওয়ার পর ৩৭ হাজার ফুটে ওঠার অনুমতি চান তাঁরা।
এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সেই অনুরোধ অনুমোদন করে। তবে ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ের মধ্যে ক্রুরা নিচে নামার কথা জানান এবং দুপুর প্রায় ১২টা ৪৮ মিনিটে মেডে কল দেন। চ্যাপম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্রুরা জানিয়েছিলেন, ‘আমরা ওভারস্পিড অবস্থায় আছি, নিচে নামছি।’ বার্তার বাকি অংশ বোঝা যায়নি।
এর পরের যোগাযোগগুলো থেকে বোঝা যায়, বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারাচ্ছিল। এরপর দুপুর প্রায় ১২টা ৫০ মিনিটে ফ্লোরিডার ক্রেস্টহেভেনের কাছে একটি আবাসিক এলাকায় বিধ্বস্ত হয় বিমানটি। এতে বিমানে থাকা নয়জনই নিহত হন। ড্যাশক্যাম ফুটেজে বিমানটিকে নাক-বরাবর আবাসিক এলাকায় আছড়ে পড়ে বিশাল অগ্নিগোলকে পরিণত হতে দেখা গেছে।
দুর্ঘটনার পর জরুরি দলগুলো ক্রেস্টহেভেন বুলেভার্ড ও ১০তম অ্যাভিনিউ নর্থের মধ্যবর্তী মিলিটারি ট্রেইল বন্ধ করে দেয় এবং জনসাধারণকে এলাকা এড়িয়ে চলতে সতর্ক করে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, কাছের একটি মোবাইল হোম কমিউনিটি থেকে প্রায় ৬০০ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস রোববার দুর্ঘটনাটিকে ‘ক্যাটাক্লিজমিক’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, বিমানটি ‘মিসাইলের মতো নিচে নামতে দেখা গেছে’ এবং সড়কের পাশে একটি বড় গর্ত তৈরি হয়েছে।
এনটিএসবির দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্তকারী টিমোথি ম্যানভিল বলেন, ঘটনাস্থলের তদন্তে কয়েক দিন লাগবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সড়কের গর্তে আঘাত করা প্রধান ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করাই সবচেয়ে বড় বাধা। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় বাধা হবে সড়কের ওপর আঘাতের গর্ত থেকে প্রধান ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা।’
এফএএ এনটিএসবির তদন্তে সহায়তা করছে। দুর্ঘটনার কারণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।




