মজুরির দাবিতে তৃতীয় দিনের বিক্ষোভ, ৪১৪ কারখানায় ছুটি
মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন টানা তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। সোমবারও গাজীপুর ও সাভারের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
শ্রমিক অসন্তোষের জেরে দুই শিল্প এলাকার অন্তত ৪১৪টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয় বলে শিল্পপুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে আশুলিয়ার ২৬৪টি ও গাজীপুরের অন্তত ১৫০টি কারখানা রয়েছে।
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গত শনিবার রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও সাভারের আশুলিয়ায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। কালিয়াকৈর ও আশুলিয়ায় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে গত রোববার নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। এরপরও বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন শ্রমিকেরা। ওই দিন সাভার-আশুলিয়া ও গাজীপুরের আড়াই শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বেলা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, সাভারের আশুলিয়া ও জিলানি এলাকায় ৬৭৯টি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ না করে বের হয়ে যান। এর মধ্যে মিরপুর এলাকায় ৬৫টি, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ এলাকায় ৩৮২টি, সাভারের আশুলিয়া ও জিলানি এলাকার ২২৩টি এবং নারায়ণগঞ্জের ৯টি কারখানা রয়েছে। এর আগে রোববার ৫২৯টি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ না করে কারখানা থেকে বের হয়ে যান বলে জানিয়েছে বিজিএমইএ।
এদিকে রাজধানীর মিরপুরে সোমবারও সড়কে নামার চেষ্টা করেছেন শ্রমিকেরা। পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে তাঁদের সরিয়ে দেয়। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জে প্রায় চার ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকেরা।
সোমবার সকাল থেকে গাজীপুরের চন্দ্রা, নাওজোড় ও ভোগড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকেরা। এ সময় মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, যানবাহন ভাঙচুর এবং পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে বিজিবি, পুলিশ ও সংবাদকর্মীসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় একদল শ্রমিক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা মহাসড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটারে যানজটের সৃষ্টি হয়।
বেলা ১১টার দিকে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। এ সময় আন্দোলনকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে বিজিবির এক সদস্য আহত হন।
বেলা ১২টার দিকে গাজীপুর মহানগরের নাওজোড় এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি যানবাহনও ভাঙচুর হয়। সেখানে সময় টেলিভিশনের একজন প্রতিবেদক ও ক্যামেরাপারসনের ওপর হামলা এবং ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, শ্রমিক আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সোমবার থেকে গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
গাজীপুরে আন্দোলনের সময় পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় তিনটি মামলা করেছে পুলিশ। কোনাবাড়ী, বাসন ও কালিয়াকৈর থানায় মামলাগুলো করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিন মামলায় প্রায় ৩ হাজার ৬০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে রোববারের ঘটনায় আরও দুটি মামলা করা হয়। এসব মামলায় সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩২ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
তবে সাভার-আশুলিয়ার ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাকিবুল হাসান ইশান বলেন, সাভার ও আশুলিয়ার ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইন অনুসারে মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।




