দক্ষিণ আফ্রিকা ও রুয়ান্ডাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা থেকে স্থগিত করবে যুক্তরাষ্ট্র, কার্যকর ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, আফ্রিকান গ্রোথ অ্যান্ড অপরচুনিটি অ্যাক্টের (আগোয়া) আওতায় দক্ষিণ আফ্রিকা ও রুয়ান্ডাকে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা থেকে স্থগিত করা হবে। সিদ্ধান্তটি কার্যকর হবে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার সোমবার বলেন, দুটি দেশই আগোয়ার যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা এই কর্মসূচির সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী; ২০২৫ সালে দেশটি আগোয়ার আওতায় প্রায় ১৭০ কোটি ডলারের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করেছে।
গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মনে করেন রুয়ান্ডা ও দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার এমন চর্চায় জড়িত, যা আগোয়ার যোগ্যতার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কোনো দেশের পক্ষ থেকেই তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আগোয়ার সুবিধাভোগীদের বাজারভিত্তিক অর্থনীতির দিকে অগ্রগতি, সুশাসন এবং মার্কিন বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বাধা দূর করার মতো যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হয়। ওয়াশিংটন প্রতি বছর তাদের যোগ্যতা পর্যালোচনা করে।
রুয়ান্ডার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন বাণিজ্য বাধা, আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিয়ে গভীর উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছে। রুয়ান্ডাকে ২০১৮ সালেও স্থগিত করা হয়েছিল।
দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন মার্কিন বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বাধা, দুর্নীতি এবং মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতির স্বার্থের প্রতি হুমকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন শ্বেতাঙ্গদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ তুলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার বলেছে, এটি প্রান্তিক গোষ্ঠীগুলোর ছড়ানো মিথ্যা।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার গণহত্যা মামলা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র আপত্তি তুলেছে। ইসরায়েল গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বাণিজ্য, শিল্প ও প্রতিযোগিতা বিভাগ গত সপ্তাহে বলেছিল, আগোয়া যোগ্যতা পর্যালোচনা থেকে নেতিবাচক ফলাফলের জন্য তারা প্রস্তুত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপে উন্মুক্ত রয়েছে। বিভাগটি জানায়, আগোয়ার আওতায় রপ্তানি দেশটির যুক্তরাষ্ট্রে মোট রপ্তানির মাত্র প্রায় ১০ শতাংশ এবং বিশ্বজুড়ে মোট রপ্তানির ১ শতাংশ।
প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বলেছেন, দেশটিকে কর্মসূচি থেকে বাদ পড়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে এবং তারা ইতিমধ্যে নতুন বাজার খুঁজছে ও চীনের মতো অংশীদারদের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি করছে। দক্ষিণ আফ্রিকার যুক্তরাষ্ট্রে প্রধান রপ্তানির মধ্যে রয়েছে মূল্যবান পাথর ও ধাতু, মোটরযান, লোহা ও ইস্পাত; আগোয়ার আওতায় রপ্তানি মূলত মোটরযান ও যন্ত্রাংশ, কৃষিপণ্য ও ওয়াইন। রুয়ান্ডার যুক্তরাষ্ট্রে প্রধান রপ্তানি কফি, চা ও খনিজ।




