কঙ্গোতে ইবোলায় মৃত্যু ছাড়াল ৫ হাজার ৩০০, আক্রান্ত ১০ হাজারের বেশি
আফ্রিকায় চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা ৫ হাজার ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে। আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (আফ্রিকা সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের বেশির ভাগই গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর (ডিআরসি) বাসিন্দা।
আফ্রিকা সিডিসির সোমবার প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ৩৭৬ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে কঙ্গোতে মারা গেছেন ৫ হাজার ৩৭২ জন, আর কেনিয়া ও উগান্ডায় মারা গেছেন দুজন করে।
প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রে রয়েছে কঙ্গো। দেশটি গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে তাদের ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করে, যা দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব।
এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বুন্ডিবুগিও ধরনের ভাইরাস। এই ধরনটি কঙ্গো, উগান্ডা ও কেনিয়া মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার ৪৪৪ জনকে আক্রান্ত করেছে এবং এর মৃত্যুহার ৫০ শতাংশের বেশি।
গত কয়েক মাসে ভাইরাসটি একাধিকবার সীমান্ত পেরিয়েছে। প্রতিবেশী উগান্ডায় ২০টি আক্রান্তের ঘটনা নথিভুক্ত হয়, যাদের প্রায় সবাই কঙ্গো থেকে ভ্রমণ করে এসেছিলেন। পরে আগস্টে উগান্ডাকে ইবোলামুক্ত ঘোষণা করা হয়।
কেনিয়ায় অক্টোবরে দুজনের মৃত্যু ও নয়জনের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। দেশটিতে ইবোলা আক্রান্তের ঘটনা এটাই প্রথমবারের মতো নথিভুক্ত হলো।
আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়ায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দুজন সন্দেহভাজন রোগীর নমুনা দুই দফা পরীক্ষায় নেগেটিভ এসেছে। রাজধানী আবুজায় অক্টোবরে এক দশকের বেশি সময় পর প্রথম আমদানি করা আক্রান্তের ঘটনা জানানো হয়েছিল, তবে সেখানে কোনো মৃত্যু নথিভুক্ত হয়নি।
ইউরোপেও এই ধরনের একটি ঘটনা জানা গেছে। ফ্রান্সে জুলাই মাসে কঙ্গো থেকে ফেরা একজন স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে এই ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার একটি ঘটনা নথিভুক্ত হয়।
বিরল বুন্ডিবুগিও ধরনের বিরুদ্ধে এখনো অনুমোদিত কোনো চিকিৎসা বা টিকা নেই।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এরভেবো টিকা দিয়ে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এই টিকাটি বেশি প্রচলিত জায়ার ধরনের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।




