…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › রাজনীতি › খবর
রাজনীতি

সাত দাবি মানা না হলে এক দফা: কুষ্টিয়ার জনসভা থেকে হুঁশিয়ারি শফিকুর রহমানের, ১১ দলের পরের গন্তব্য সিলেট

নিজস্ব প্রতিবেদক
সাত দাবি মানা না হলে এক দফা: কুষ্টিয়ার জনসভা থেকে হুঁশিয়ারি শফিকুর রহমানের, ১১ দলের পরের গন্তব্য সিলেট
ছবি: সংগৃহীত

সাত দাবি বাস্তবায়ন না হলে এক দফার আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। কুষ্টিয়ায় ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমাপনী জনসভায় তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় গিয়ে আন্দোলনে অংশ নিতে নেতাকর্মীরা প্রস্তুত কি না।

রাজধানী থেকে চট্টগ্রাম ও রংপুরের পর ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়ায় লংমার্চ করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। সাত দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও সমাপনী জনসভার মধ্য দিয়ে নিজেদের সাংগঠনিক উপস্থিতি তুলে ধরেছে জোটটি। তবে কুষ্টিয়ার সমাপনী জনসভায় শুধু দাবি আদায়ের আহ্বানেই সীমাবদ্ধ থাকেননি নেতারা; দিয়েছেন আন্দোলন আরও জোরদারের বার্তাও।

কুষ্টিয়ায় শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে লংমার্চের সমাপনী জনসভায় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “একটা দাবিও আমাদের কোনো দলীয় দাবি না। সবকটি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি। সাত দফা যদি মেনে নেন, এক দফা দাবির প্রয়োজন হবে না; কিন্তু সাত দফা না মানলে এক দফা অনিবার্য হয়ে উঠবে। সেই এক দফার ডাক আমরা দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে, অধিকার রক্ষার স্বার্থে দিতে বাধ্য হব।”

সংসদে সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর আমির। তিনি জানান, জনগণের ভোটে গঠিত সংসদের পাশাপাশি একটি সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রত্যাশা ছিল তাদের। সংসদে বসেই ওই পরিষদ রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে, এমনটাই তারা চেয়েছিলেন। তবে নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে দখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, এ কারণে সরকার ধরাকে সরা জ্ঞান করছে। জনগণের রায় উপেক্ষা ও অবজ্ঞা করা হলে ইতিহাসে সংশ্লিষ্টদের করুণ পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান।

সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জামায়াত আমির জানতে চান, এক দফার আন্দোলনের প্রয়োজনে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় যেতে হলে তারা প্রস্তুত কি না। অর্থ কিংবা খাবারের ব্যবস্থা না থাকলেও জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর এই বক্তব্যে সাত দাবি আদায়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং প্রয়োজনে ঢাকামুখী আন্দোলনে যাওয়ার প্রস্তুতির বিষয়টি উঠে আসে।

জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিএনপির বিরুদ্ধে জনগণের সঙ্গে ওয়াদা ভঙ্গ, দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, “আমরা চাইনি এই আট মাসের মধ্যে আন্দোলনে আসতে হবে। কিন্তু, কেন আসতে হলো, সেটা বিএনপির নেতারা বোঝেন না। আপনারা আট মাস না যেতেই জনগণের ওয়াদা ভঙ্গ করতে পারেন, গাদ্দারি করতে পারেন, দুর্নীতি ও লুটপাট করে সব শেষ করে দিচ্ছেন।”

সচিবালয় থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সারের একেকটি ডিলারশিপ দিতে ১২ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে।

সমাপনী জনসভায় শরিক দলগুলোর নেতারাও সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে আন্দোলন জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, “বাংলাদেশকে অন্য কোনো রাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যে পরিণত হতে দেওয়া হবে না। সাত দাবি পূরণে সরকারের কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া না পেলে যেকোনো সময় তা এক দফায় রূপ নিতে পারে।” এক দফার কর্মসূচি এলে ঢাকামুখী আন্দোলনে অংশ নিতে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

জোটটির ধারাবাহিক লংমার্চের কেন্দ্রীয় বিষয় সাত দফা দাবি। এর মধ্যে রয়েছে—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ করা।

তবে শুরু থেকেই দাবির সংখ্যা সাত ছিল না। গত ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখে প্রথম লংমার্চের সময় জোটের ছয় দফা দাবি ছিল। পরবর্তী সময়ে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধের দাবিটি যুক্ত হয়ে সাত দফা পূর্ণতা পায়। এরপর গত ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে লংমার্চে জাতীয় দাবির পাশাপাশি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মতো আঞ্চলিক বিষয়ও গুরুত্ব পায়।

গত ৩১ অক্টোবর শনিবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ১১ দলীয় ঐক্যের খুলনা বিভাগ অভিমুখী লংমার্চ। সকাল ৭টায় উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গাড়িবহর ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখে যাত্রা করে। ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক, পদ্মা সেতু, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, খুলনা, রূপসা সেতু, যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে বহরটি কুষ্টিয়ায় পৌঁছায়। পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

খুলনা বিভাগের কর্মসূচি শেষ হলেও ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ এখানেই থামছে না। পরবর্তী গন্তব্য সিলেট। জোটটির পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখে লংমার্চ আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। সিলেট বিভাগের সড়ক যোগাযোগের বেহাল অবস্থার কারণে শুরুতে ট্রেনযোগে লংমার্চ করার চিন্তা করা হয়েছিল। রেলস্টেশনের কাছাকাছি এলাকায় পথসভা আয়োজনের প্রস্তাবও রয়েছে। তবে কর্মসূচির কারণে সাধারণ যাত্রীদের ট্রেন চলাচলে কোনো বিঘ্ন তৈরি হবে কি না, তা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনাটি পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেন, “সিলেট অভিমুখে আমাদের আরও একটি লংমার্চ করার কথা রয়েছে। এরপর ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে। আমাদের প্রত্যাশা, লংমার্চগুলো শেষ হলে দেশবাসীও লংমার্চ করে ঢাকায় আসবে। এর মধ্যে বিএনপি সরকার নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে সঠিক পথে ফিরে আসবে এবং গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করবে বলে আমরা আশা করি। অন্যথায় আমাদের এক দফার আন্দোলনে যেতে হবে।”

১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সিলেট বিভাগের সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে ট্রেনপথে কর্মসূচির চিন্তা করা হয়েছিল। তবে সাধারণ যাত্রী পরিবহনে কোনো জটিলতা তৈরি হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা করে শীর্ষ নেতারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। ফলে নির্ধারিত তারিখে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হলেও সেটি সড়কপথে নাকি রেলপথে হবে, তা এখনো আলোচনার বিষয়।

এদিকে রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগেও লংমার্চ আয়োজনের প্রস্তাব এসেছে স্থানীয় নেতাদের কাছ থেকে। বিষয়টি নিয়ে জোটের লিয়াজোঁ কমিটি ও শীর্ষ নেতাদের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। তবে এ দুই বিভাগে কর্মসূচি আয়োজনের তারিখ কিংবা ধরন এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

বিভাগভিত্তিক লংমার্চের পাশাপাশি ঢাকায় মহাসমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে জোটটির। এর আগে ঘোষিত কর্মসূচিতে ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার কথা জানানো হয়েছিল। তবে পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে কর্মসূচিটি পিছিয়ে ডিসেম্বরে নেওয়ার সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় এসেছে। এখন পর্যন্ত মহাসমাবেশের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। বিভাগভিত্তিক কর্মসূচি শেষ করে রাজধানীর মহাসমাবেশ থেকে পরবর্তী আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

রাজনীতি বিভাগের আরও খবর

রাজনীতি

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে নথিতে পরিত্যক্ত ৫৪ সরকারি বাসায় বসবাস ও উপভাড়া, দুদকের অভিযানে অনিয়মের প্রমাণ

সরকারি নথিতে পরিত্যক্ত ঘোষিত, অথচ সেসব বাসায় চলছে বসবাস। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ সিজিএস কলোনিতে গণপূর্ত বিভাগের পরিত্যক্ত ঘোষিত ৫৪টি সরকারি বাসা নিয়ে এ…

বাঁশখালীতে সিএনজিতে মাইক বাঁধিয়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রচার, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ল সামাজিক মাধ্যমে
রাজনীতি

বাঁশখালীতে সিএনজিতে মাইক বাঁধিয়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রচার, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ল সামাজিক মাধ্যমে

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় মাইক লাগিয়ে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হ…

ডিসেম্বরে ফেরার ঘোষণা শামীম ওসমানের, নারায়ণগঞ্জে ঢুকলে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি বিএনপি নেতা টিপুর
রাজনীতি

ডিসেম্বরে ফেরার ঘোষণা শামীম ওসমানের, নারায়ণগঞ্জে ঢুকলে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি বিএনপি নেতা টিপুর

নারায়ণগঞ্জে প্রবেশ করলে সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমানের হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খ…

ঠাকুরগাঁও-১-এর মির্জা ফয়সল আমীন ও সংরক্ষিত আসনের এলিজা জামানের শপথ আজ
রাজনীতি

ঠাকুরগাঁও-১-এর মির্জা ফয়সল আমীন ও সংরক্ষিত আসনের এলিজা জামানের শপথ আজ

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমীন এবং সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩-এর উপনির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এলিজা জামানের শপথ…