অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক মাধ্যম নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জের শুনানি হাইকোর্টে
বিশ্বে প্রথমবারের মতো চালু হওয়া অস্ট্রেলিয়ার ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের প্রায় এক বছর পর দেশটির হাইকোর্টে প্রথম বড় আইনি পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম রেডিট এবং অ্যাডভোকেসি সংগঠন ডিজিটাল ফ্রিডম প্রজেক্ট মঙ্গলবার এই নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে শুনানি শুরু করেছে।
গত ডিসেম্বরে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর ফেসবুক, টিকটক, ইউটিউব ও রেডিটসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মকে লাখ লাখ অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলতে হয়েছে। এসব প্ল্যাটফর্মের দায়িত্ব হলো কম বয়সী ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করে মুছে ফেলা, আর দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাদের বড় অঙ্কের জরিমানার মুখোমুখি হতে হয়।
আদালতে দেওয়া লিখিত জমায় রেডিট নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার ক্ষেত্রে নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেছে এবং সামাজিক মাধ্যমের ক্ষতি নিয়ে বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ঘাটতির কথা বলেছে। রেডিটের জমায় বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত পাওয়া প্রমাণে নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা সীমিত বলেই মনে হচ্ছে।
রেডিটের যুক্তি, এই পদ্ধতি বরং বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ নিবন্ধিত অ্যাকাউন্টগুলোতে অন্তর্নির্মিত নিরাপত্তা সুবিধা থাকে, অথচ অ্যাকাউন্ট ছাড়াই অনেক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক মাধ্যমের বিষয়বস্তু দেখা যায়। ফলে অ্যাকাউন্ট ছাড়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা তরুণরা আগের মতো সুরক্ষা ছাড়াই ক্ষতিকর বিষয়বস্তুর মুখোমুখি হতে পারে বলে রেডিট মনে করে।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া সরকারের অবস্থান হলো, এই বিধিনিষেধ কম বয়সী ব্যবহারকারীদের গ্রাফিক বিষয়বস্তু এবং অনলাইন শিকারিদের হাত থেকে রক্ষা করবে। তবে সামাজিক মাধ্যমের ক্ষতি নিয়ে গবেষণার পরিমাণ বাড়লেও এ বিষয়ে কোনো “বৈজ্ঞানিক ঐকমত্য” নেই বলে রেডিট যুক্তি দিয়েছে।
গত আগস্টে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক একদল গবেষকের প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কিশোর-কিশোরীরা সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করেছে—এমন প্রমাণ খুব কমই পাওয়া গেছে।
ডিজিটাল ফ্রিডম প্রজেক্টের নেতৃত্বে আছেন নিউ সাউথ ওয়েলসের রাজনীতিক জন রুডিক। সংগঠনটির যুক্তি, নিষেধাজ্ঞাটি অসাংবিধানিক, কারণ এটি কিশোরদের রাজনৈতিক আলোচনায় অংশ নেওয়ার সক্ষমতাকে সীমিত করে। লিখিত জমায় তারা বলেছে, সামাজিক মাধ্যম তরুণ অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য সংবাদ পাওয়া এবং রাজনৈতিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এই বিধিনিষেধে উপকারী সংযোগ, সহায়তা ও অংশগ্রহণের উৎস হারানোর ঝুঁকিও রয়েছে বলে সংগঠনটি মনে করে।
রেডিট এবং ডিজিটাল ফ্রিডম প্রজেক্ট গত বছরই আলাদাভাবে নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করার ঘোষণা দিয়েছিল। মামলাটি বিবেচনা করতে আদালত কত সময় নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
অনলাইন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ই-সেফটি কমিশনারের তথ্য অনুযায়ী, লগইন করা অবস্থায় তরুণরা যেসব চাপ ও ঝুঁকির মুখোমুখি হতে পারে, সেগুলো থেকে তাদের রক্ষা করতে অস্ট্রেলিয়া সরকার অনলাইন ও সামাজিক মাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধ আরও বাড়িয়েছে। সরকার অপ্ট-আউট আইনেরও প্রস্তাব করেছে, যাতে সামাজিক মাধ্যম কোম্পানিগুলোকে ব্যবহারকারীদের অ্যালগরিদম বন্ধ করে দেওয়ার সুযোগ দিতে বাধ্য করা যায়।
এদিকে আসক্তিমূলক নকশার বৈশিষ্ট্য শিশু-কিশোরদের ক্ষতি করছে—এমন অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ায় মেটা এবং এর ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বিরুদ্ধে একটি ক্লাস অ্যাকশন মামলাও চলছে। ১৮ বছরের কম বয়সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দাবি করা আটজন বাদীর পক্ষে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।


