যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট আজ, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

আজ যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। ভোটাররা নির্ধারণ করবেন আগামী দুই বছরের জন্য দেশটির প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস) ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে। রিপাবলিকানরা তাদের সংকীর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রক্ষার লড়াইয়ে নেমেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, তাঁর প্রেসিডেন্সির শেষ দুই বছরের জন্য রিপাবলিকানরাই হাউস ও সিনেট ধরে রাখবে। রবিবার রাতে কানসাসে এক সমাবেশে সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা জিততে যাচ্ছেন এবং পরের দুই বছর আগের চেয়েও বড়, ভালো ও শক্তিশালী হবে।
তবে রিপাবলিকানদের লড়তে হচ্ছে রাজনৈতিক ইতিহাসের বিরুদ্ধে। ওয়াশিংটনে ক্ষমতাসীন দল ঐতিহ্যগতভাবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের বছরে আসন হারায়। জরিপে অজনপ্রিয় হিসেবে উঠে আসা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সঙ্গে আংশিকভাবে যুক্ত ধারাবাহিক মূল্যস্ফীতির কারণে সৃষ্ট কঠিন রাজনৈতিক আবহাওয়া এবং ট্রাম্পের ক্রমাবনত জনসমর্থনও রিপাবলিকানদের জন্য প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোটে আগের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের হিসাবে, ইতিমধ্যে ৫ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষ আগাম ভোট দিয়েছেন, যা ২০২২ সালের আগের মধ্যবর্তী নির্বাচনের তুলনায় প্রায় ৯০ লাখ বেশি।
জনমত জরিপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভোট দিতে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের চেয়ে বেশি উদ্যমী, ফলে ভোটার উপস্থিতিতে ঘাটতির মুখে পড়তে পারে রিপাবলিকানরা। তবে রিপাবলিকান জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান জো গ্রুটার্স নির্বাচনের দিনের উপস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, তাদের ভোটাররা ভোট দিতে এলে তারাই জিতবেন।
সিনেটে বর্তমানে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ৫৩-৪৭ আসনে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতে ডেমোক্র্যাটদের দরকার নিট চারটি আসন। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে অন্তত ৫০টি আসন ধরে রাখলেই চলবে, কারণ ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সিনেটে টাই-ভাঙা ভোট দেন।
ফক্স নিউজের পাওয়ার র্যাংকিংয়ে সাতটি সিনেট আসনের লড়াইকে টস-আপ বা অনিশ্চিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আলাস্কা, আইওয়া, মেইন, নেব্রাস্কা, ওহাইও, সাউথ ক্যারোলাইনা ও টেক্সাসে রিপাবলিকানরা প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে। কানসাসের সিনেট লড়াইও সম্প্রতি লিন রিপাবলিকান থেকে টস-আপে নেমে এসেছে।
কানসাসে রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালকে চ্যালেঞ্জ করছেন ডেমোক্র্যাট পাদরি অ্যাডাম হ্যামিল্টন। তিনি প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে কানসাস থেকে সিনেট নির্বাচনে জয়ী প্রথম ডেমোক্র্যাট হওয়ার লক্ষ্যে লড়ছেন।
হাউসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আরও পাতলা। ২১৮ আসন পেতে ডেমোক্র্যাটদের দরকার মাত্র তিনটি আসনের নিট লাভ। ফক্স নিউজের পাওয়ার র্যাংকিংসহ শীর্ষস্থানীয় নিরপেক্ষ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডেমোক্র্যাটরা হাউসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে যাচ্ছে, আর সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ভোটের দিনে পৌঁছেও টস-আপ অবস্থায় রয়েছে।
ডেমোক্র্যাটদের জন্য ভালো রাত গেলে তারা ৪৩৫ আসনের হাউসে ২৪০টি পর্যন্ত আসন পেতে পারে বলে পাওয়ার র্যাংকিংয়ে বলা হয়েছে। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের ভালো রাত গেলে তারা ২১২টি আসন পেতে পারে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ছয়টি কম হলেও পরবর্তী ডেমোক্র্যাট স্পিকারের জন্য পরিস্থিতি কঠিন করে তুলতে পারে।
ডেমোক্র্যাটিক জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান কেন মার্টিন নির্বাচনের আগের রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, ডেমোক্র্যাটরা হাউস উল্টে দিতে, সিনেট ফিরিয়ে নিতে এবং ট্রাম্পের ক্ষতিকর এজেন্ডা থামাতে পারে।
কংগ্রেস ছাড়াও এবারের নির্বাচনে ৫০টি রাজ্যের ৩৬টিতে গভর্নর পদে ভোট হচ্ছে। চারটি রাজ্য ছাড়া সবগুলোতেই হচ্ছে রাজ্য আইনসভার নির্বাচন। এছাড়া উপকূল থেকে উপকূল পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্যে ১৪৫টি রাজ্যব্যাপী গণভোটের বিষয়েও সিদ্ধান্ত দেবেন ভোটাররা।
হাউসের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা মিলবে সবচেয়ে আগে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া জেলাগুলো থেকে। লেক্সিংটনকেন্দ্রিক কেন্টাকির ষষ্ঠ জেলার দিকে নজর রাখতে বলা হচ্ছে; গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প সেখানে ১৫ পয়েন্টে জিতেছিলেন, কিন্তু এবার সেখানে লড়াই ঘনিষ্ঠ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।


