ব্রিটেনের সবচেয়ে দূষণকারী বিদ্যুৎকেন্দ্রের জায়গায় ২০ বিলিয়ন পাউন্ডের এআই ডেটাসেন্টার পরিকল্পনা

ব্রিটেনের সবচেয়ে দূষণকারী বিদ্যুৎকেন্দ্রটি শীঘ্রই দেশটির বৃহত্তম ডেটাসেন্টারকে বিদ্যুৎ জোগাতে পারে। উত্তর ইয়র্কশায়ারের ড্রাক্স বিদ্যুৎকেন্দ্রের জায়গায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামো গড়তে ২০ বিলিয়ন পাউন্ডের একটি চুক্তি হয়েছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটির এফটিএসই ২৫০ তালিকাভুক্ত মালিক প্রতিষ্ঠান অবকাঠামো বিনিয়োগকারী ব্রুকফিল্ড এবং এআই অবকাঠামো প্ল্যাটফর্ম রেডিয়েন্টের সঙ্গে চুক্তি করেছে। পরিকল্পিত ডেটাসেন্টারের চূড়ান্ত ক্ষমতা হবে ১ গিগাওয়াটের বেশি এবং এটি ২০২৮ সালের শুরুর দিকে কার্যক্রম শুরু করতে পারে।
প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ে ড্রাক্স ডেটাসেন্টার প্রকল্পকে জমি এবং বিদ্যমান সংযোগের মাধ্যমে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে প্রবেশাধিকার দেবে। তবে ২০৩০-এর দশকের শুরুর দিকে সরাসরি ডেটাসেন্টারটিকে বিদ্যুৎ জোগানো শুরু করার আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
ড্রাক্স বলেছে, এই উন্নয়ন ২০ বিলিয়ন পাউন্ডের (২৬.৮ বিলিয়ন ডলার) বেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পারে এবং মন্ত্রীরা ভবিষ্যতে এর বিদ্যুৎ উৎপাদন সীমিত করার পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেওয়ার পর এটি হবে সাবেক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ‘পরবর্তী অধ্যায়’।
ড্রাক্সের প্রধান নির্বাহী উইল গার্ডিনার বলেন, প্রকল্পটি সাইটটির দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে এবং শত শত চাকরি রক্ষা করতে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে এটি উত্তরের পুনঃশিল্পায়ন এবং সার্বভৌম এআই সক্ষমতা শক্তিশালী করবে বলেও তিনি বলেন।
ব্রিটেনের বৃহত্তম বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কাঠের বায়োমাস পেলেট পুড়িয়ে দেশটির বিদ্যুতের প্রায় ৫ শতাংশ উৎপাদন করে। বিশ্লেষকদের মতে, এ কারণে সাইটটি কার্বন ডাই-অক্সাইডের একক বৃহত্তম নির্গমনকারী।
তবে এই নির্গমন ব্রিটেন সরকারের হিসাবে ধরা হয় না, কারণ ড্রাক্সের দাবি, পেলেট তৈরিতে ব্যবহৃত বর্জ্য কাঠের গাছ বেড়ে ওঠার সময় সমপরিমাণ কার্বন শোষণ করে।
প্রতিষ্ঠানটির টেকসইতার দাবি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার পর সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ভবিষ্যতে ড্রাক্স ‘অনেক বেশি সীমিত ভূমিকা’ পালন করবে। ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি বর্তমান দৈনিক ২ মিলিয়ন পাউন্ড ভর্তুকির অর্ধেক মাত্র পাবে।
প্রতিষ্ঠানটি ২০৩১ সালের আগে ডেটাসেন্টারে সরাসরি বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন পাওয়ার আশা করছে, যাতে ভবিষ্যৎ আয় সুরক্ষিত হয়। খবরটি ইক্যুইটি বিশ্লেষকরা স্বাগত জানিয়েছেন এবং লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য প্রায় ৯ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৩ বিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছেছে।
প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ডেটাসেন্টারটি ২০২৮ সালের প্রথম প্রান্তিক থেকে সর্বোচ্চ ১০০ মেগাওয়াট কম্পিউট ক্ষমতা নিয়ে চালু হবে।
এক সপ্তাহ আগে সরকার ডেটাসেন্টার নিয়ে খসড়া জাতীয় নীতি বিবৃতি প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, ডেটাসেন্টার দেশটির অর্থনীতির জন্য রেলওয়ে ও বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের মতোই মৌলিক, যেগুলোর ওপর দেশটি দীর্ঘদিন নির্ভরশীল।
সরকার বলেছে, দেশে ডেটাসেন্টার উন্নয়নের নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে এবং দেশ ও আয়োজক সম্প্রদায় যেন এর সুফল পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। তবে ব্রিটেনের জটিল গ্রিড অবকাঠামো এবং আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক জলবায়ু লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—ব্যয়বহুল ও দূষণকারী অফ-গ্রিড গ্যাস উৎপাদনের ওপর বেশি নির্ভর না করে এই ডেটাসেন্টারগুলোকে কীভাবে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে।




