যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে লড়াই সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটর, প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য এবং অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। এই নির্বাচনকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মসূচি নিয়ে গণভোট হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এর ফল বাকি মেয়াদে তার প্রেসিডেন্সির গতিপথ নির্ধারণ করবে।
বেশিরভাগ আসনই নিয়মিতভাবে একটি দলের জেতার মতো নির্ভরযোগ্য হওয়ায় কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ভর করছে অল্প কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড’ আসনের ওপর। বিশেষজ্ঞরা সামগ্রিক ফল আঁচ করতে এসব আসনের দিকে নজর রাখছেন; কোনো দল প্রত্যাশার বাইরে কোনো আসন জিতলে তা ওই দলের সফল রাতের ইঙ্গিত দেয়।
নির্বাচনের আগে কুক রিপোর্ট সাতটি সিনেট আসনকে প্রকৃত ‘টসআপ’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছিল। ডেমোক্র্যাটদের এসব আসনের মধ্যে অন্তত চারটিতে জিততে হবে, পাশাপাশি যেসব আসনে তাদের জয় প্রত্যাশিত সেগুলোতেও জিততে হবে।
প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা এখন এমন যথেষ্ট আসনে এগিয়ে আছে যে কুক পলিটিক্যাল রিপোর্টের ‘টসআপ’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ ১৮টি আসনের কোনোটিতে না জিতলেও তারা পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে। প্রত্যাশিত সব আসনে জিতলে তারা স্বচ্ছন্দে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে।
তবে ক্ষমতার ভারসাম্য এখন নির্ভর করছে ডেমোক্র্যাটরা ‘লিন ডেমোক্র্যাটিক’ হিসেবে মূল্যায়িত ১৮টি আসন ধরে রাখতে পারে কি না তার ওপর। রিপাবলিকানরা ১৯৫টি আসনে এগিয়ে আছে; জিততে হলে তাদের ১৮টি টসআপ আসনের সবগুলো জিততে হবে এবং ডেমোক্র্যাট-ঝোঁকের পাঁচটি আসন ছিনিয়ে নিতে হবে।
রিপাবলিকানরা ৪৩৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রক্ষা করছে। ডেমোক্র্যাটদের হাতে রয়েছে ২১২টি আসন এবং নিয়ন্ত্রণ পেতে তাদের ২১৮টি আসন প্রয়োজন। প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা দুই বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন এবং প্রতি জোড় বছরে পুনর্নির্বাচনের মুখোমুখি হন।
উচ্চকক্ষ সিনেটের ১০০ সদস্যের মধ্যে এ বছর নিয়মিতভাবে ৩৩ জন নির্বাচিত হচ্ছেন, পাশাপাশি আরও দুটি বিশেষ নির্বাচন হচ্ছে। নির্বাচনের আগে সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। সিনেটররা ছয় বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন।
গভর্নর নির্বাচন হচ্ছে ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে, পাশাপাশি তিনটি টেরিটরিতে। নির্বাচনের আগে এসব গভর্নর পদের মধ্যে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের হাতে ছিল ১৮টি করে। তিনজন বর্তমান গভর্নর অবসর নিচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেসের দুটি কক্ষ রয়েছে—প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট। প্রতিনিধি পরিষদে ৪৩৫টি ভোটদান আসন রয়েছে, প্রতিটি আসন প্রায় সমান আকারের একটি জেলার প্রতিনিধিত্ব করে এবং প্রতি দুই বছর পরপর সব আসনে নির্বাচন হয়।
সিনেটে ১০০ জন সদস্য থাকেন, যারা ছয় বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতি দুই বছরের চক্রে এক-তৃতীয়াংশ আসনে নির্বাচন হয়। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের দুজন করে সিনেটর থাকেন, জনসংখ্যা নির্বিশেষে—ফলে ৬ লাখের কম জনসংখ্যার ওয়াইওমিং ক্যালিফোর্নিয়ার প্রায় ৪ কোটি জনসংখ্যার সমান ওজন বহন করে।
বেশিরভাগ অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনের দিনে সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া প্রার্থী আসনটি জেতেন। তবে জর্জিয়া ও লুইজিয়ানায় বিজয়ী প্রার্থীকে মোট ভোটের ৫০ শতাংশ পেতে হয়; কেউ তা না পেলে শীর্ষ দুই প্রার্থীর মধ্যে রানঅফ নির্বাচন হয়।
মেইন ও আলাস্কায় ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট পদ্ধতির বদলে র্যাঙ্কড-চয়েস ভোটিং ব্যবহৃত হয়। ভোটাররা পছন্দের ক্রমে প্রার্থীদের সাজান; প্রথম পছন্দের ভোটে কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সবচেয়ে কম সমর্থন পাওয়া প্রার্থী বাদ পড়েন এবং তার ভোটারদের পরবর্তী পছন্দে ভোট স্থানান্তরিত হয়।
ফ্লোরিডা ও ওহাইওতে সিনেটের জন্য বিশেষ নির্বাচন হচ্ছে, কারণ এসব আসনের আগের ধারক মার্কো রুবিও ও জেডি ভ্যান্স ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর নির্বাহী শাখায় যোগ দিতে পদত্যাগ করেছিলেন।
এই পাতায় নির্বাচনের ফল জানাচ্ছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। কোনো অঙ্গরাজ্যে পিছিয়ে থাকা প্রার্থীর জয়ের কোনো পথ নেই বলে এপি নির্ধারণ করলেই ওই অঙ্গরাজ্যে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এটি কোনো অঙ্গরাজ্যে ১০০ শতাংশ ভোট গণনার আগেও ঘটতে পারে।




