ভেনেজুয়েলায় অবশিষ্ট রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দিতে রুবিওর আহ্বান, ফোরো পেনাল বলছে আটক আরও ৩২২ জন

ভেনেজুয়েলায় আটক থাকা অবশিষ্ট রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দিতে দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অলিভার ব্লাঙ্কোর সঙ্গে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই মুক্তির আহ্বান জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বৈঠকে রুবিও অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের ভিত্তি তৈরির লক্ষ্যে সংস্কার নিয়েও আলোচনা করেছেন।
৩ জানুয়ারি কারাকাসে সামরিক অভিযান চালিয়ে মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি রাজনৈতিক বন্দী মুক্তি পেয়েছেন। মাদুরো নিউইয়র্কে মাদক পাচার ও নির্যাতনের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি।
তবে ভেনেজুয়েলার বন্দী অধিকার গোষ্ঠী ফোরো পেনাল বলছে, এখনও ৩২২ জন আটক রয়েছেন।
রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দীর্ঘদিন ধরেই ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া করিনা মাচাদোর দাবি। ২০২৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া মাচাদো প্রায় এক বছর নির্বাসনে থাকার পর গত ২৫ অক্টোবর ভেনেজুয়েলায় ফিরেছেন। ফিরে তার প্রথম বৈঠকগুলোর একটি ছিল রাজনৈতিক বন্দীদের স্বজনদের সঙ্গে।
আটকদের অনেককেই ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সরকারি অনুগতদের আধিপত্য থাকা জাতীয় নির্বাচনী পরিষদ (সিএনই) বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বিজয়ী ঘোষণা করেছিল, যদিও বিরোধীদের সংগ্রহ করা ও স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের যাচাই করা ভোটের হিসাব অনুযায়ী বিরোধী প্রার্থীই জিতেছিলেন।
ভেনেজুয়েলায় স্বাধীন পর্যবেক্ষক পাঠানো কার্টার সেন্টারও বলেছিল, ওই নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক বলা যায় না। জাতিসংঘের একটি তথ্য-অনুসন্ধানী মিশন দেখেছে, পরবর্তী মাসগুলোতে ভেনেজুয়েলা সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচিত বা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ভিন্নমত প্রকাশ করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর দমন-পীড়ন চালিয়েছে।
মার্কিন বাহিনী মাদুরোকে আটকের পর তার অনুগত ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। রদ্রিগেজের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থন থাকলেও ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলগুলো সংস্কারের ধীরগতি নিয়ে অধৈর্য হয়ে উঠছে।
সোমবারের বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জোর দিয়ে বলেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তিন ধাপের পরিকল্পনার প্রতি যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে। পরিকল্পনার ধাপ তিনটি হলো স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও রাজনৈতিক মিলন, এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণ।
এক সপ্তাহ আগে রুবিও সাংবাদিকদের বলেছিলেন, নতুন নির্বাচন বৈধ হতে হলে ভেনেজুয়েলার ‘নির্বাচনী অবকাঠামো’ বদলাতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘১০ বছরে নয়, পাঁচ বছরে নয়, দুই বছরেও নয়; আমাদের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে এটি দ্রুত ঘটতে হবে।’
এর কয়েক দিন পর রদ্রিগেজ টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ভেনেজুয়েলাবাসীকে বলেন, ‘নবায়ন করা’ নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের অধীনে ‘নির্বাচন হবে’। তবে নির্বাচন কবে হতে পারে, তার কোনো সময়সীমা তিনি দেননি। অন্যদিকে বিরোধী নেতা মাচাদো ২০২৭ সালে নির্বাচনের জন্য চাপ দিচ্ছেন। একপর্যায়ে তিনি স্বাধীনতা নায়ক সিমোন বলিভারের জন্মবার্ষিকী ২৪ জুলাই ২০২৭ তারিখের প্রস্তাব দিলেও পরে আগামী বছরের কোনো এক সময়ে ভোটের দাবিতে ফিরে গেছেন।




