গাড়ি ঋণে ভুল বিক্রির ক্ষতিপূরণ আগেই দিতে শুরু করছে বার্কলেস, বড়দিনের আগেই টাকা পেতে পারেন গ্রাহকেরা

যুক্তরাজ্যের গাড়ি ঋণ কেলেঙ্কারিতে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য গ্রাহকদের আগাম অর্থ দিতে শুরু করতে যাচ্ছে বার্কলেস। বড় ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে চলতি মাসেই ব্যাংকটি এমন প্রস্তাব দেওয়া শুরু করবে, আর যাঁরা প্রস্তাব গ্রহণ করবেন, তাঁদের একটি অংশের টাকা বড়দিনের আগেই অ্যাকাউন্টে পৌঁছাতে পারে।
শিল্পজুড়ে ক্ষতিপূরণ কর্মসূচি নিয়ে আইনি লড়াই এখনো চলমান। সেই লড়াইয়ের ফলাফলের অপেক্ষা না করেই বার্কলেস এই পথে গেল।
নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের ‘আগাম নিষ্পত্তি’ প্রস্তাবের পরিমাণ অন্তত সেই অর্থের সমান হতে হবে, যা গ্রাহক চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা বহু বিলিয়ন পাউন্ডের কর্মসূচির আওতায় পেতেন। ফলে ব্যাংকগুলো কম অর্থের প্রস্তাব দিয়ে পার পেয়ে যাবে—এমন আশঙ্কা কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবে গ্রাহকদের সামনে সিদ্ধান্তটি সহজ নয়। আইনি লড়াইয়ের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে, প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে অপেক্ষা করলে কেউ বেশি অর্থ পেতে পারেন, কমও পেতে পারেন, আবার কিছুই নাও পেতে পারেন।
চলতি বছরের মার্চে আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফাইন্যান্সিয়াল কন্ডাক্ট অথরিটি (এফসিএ) এই কেলেঙ্কারির ক্ষতিগ্রস্ত লাখো মানুষের জন্য ৯১০ কোটি পাউন্ডের ক্ষতিপূরণ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল।
কিন্তু আইনি চ্যালেঞ্জের কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটিকে কর্মসূচিটি আংশিক স্থগিত করতে হয়েছে। এরপর কী হবে, তা নির্ধারণের শুনানি আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এফসিএ ধারণা করেছিল, ক্ষতিগ্রস্তদের এ বছর গড়ে ৮২৯ পাউন্ড করে দেওয়া শুরু করা যাবে। এই কেলেঙ্কারিতে ২০০৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ঋণদাতা ও গাড়ি বিক্রেতাদের মধ্যে কমিশন লেনদেনের কারণে চালকেরা ঋণের জন্য প্রয়োজনের চেয়ে বেশি অর্থ পরিশোধ করেছিলেন।
নতুন বা পুরোনো গাড়ি, মোটরসাইকেল বা ভ্যান কেনার জন্য মোটর ফাইন্যান্স নেওয়ার সময় লাখো মানুষের সঙ্গে অন্যায্য আচরণ করা হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত তাঁদের বেশি অর্থ দিতে হয়েছিল।
আইনি চ্যালেঞ্জ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচির আওতায় যাঁদের অর্থ পাওয়ার কথা, তাঁদের ক্ষতিপূরণ দিতে ঋণদাতারা বাধ্য নন। তার পরও ব্যাংকিং গ্রুপটির অংশ বার্কলেস পার্টনার ফাইন্যান্স এখনই কর্মসূচিতে অর্থ পাওয়ার যোগ্য কিছু গ্রাহককে অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের পর ধারণা করা হচ্ছে, ক্ষতিপূরণের দায় থাকা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও একই পথ অনুসরণ করতে পারে।
আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইতিমধ্যে অভিযোগ করা হাজার হাজার বার্কলেস গ্রাহকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে ‘আগাম পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি’র প্রস্তাব দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
বার্কলেস বলেছে, ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব হিসাব করতে এফসিএর মডেলই ব্যবহার করা হচ্ছে। ব্যাংকটির ভাষ্য, প্রস্তাব গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক নয় এবং গ্রাহকেরা তাঁদের প্রস্তাব কীভাবে হিসাব করা হয়েছে ও তা গ্রহণ করলে কী হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাবেন।
গ্রাহকদের প্রস্তাব গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের জন্য এক মাস সময় থাকবে। সম্মতি দিলে ব্যাংক তাঁদের নির্ধারিত অ্যাকাউন্টে অর্থ পরিশোধ করবে। যাঁরা প্রস্তাব গ্রহণ করবেন, তাঁদের প্রথম অর্থ বড়দিনের আগেই পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা অনেকের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে যাঁরা এই প্রস্তাব গ্রহণ করবেন, তাঁরা পরে ওই চুক্তির কমিশন নিয়ে অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ চাইতে বা আর কোনো অভিযোগ বা আইনি দাবি তুলতে পারবেন না।
অন্যদিকে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে অপেক্ষা করার পথও খোলা রয়েছে। এফসিএ বলেছে, আইনি চ্যালেঞ্জে তারা জিতলে এবং কর্মসূচি বহাল থাকলে ২০২৭ সালে অর্থ দেওয়া শুরু হতে পারে। কিন্তু রায়ের বিরুদ্ধে আপিল হলে বা কর্মসূচি আংশিক বা পুরোপুরি বাতিল হলে প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ ২০২৮ সাল বা তার পরেও পিছিয়ে যেতে পারে।



