ইউক্রেন শান্তি চুক্তিতে ইউরোপকে ভূমিকা নিতেই হবে, জি২০তে পুতিনকে আমন্ত্রণ ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’: বার্লিনে মের্ৎস
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস সতর্ক করেছেন, ইউক্রেন শান্তি চুক্তির রূপরেখা তৈরিতে ইউরোপকে অবশ্যই ভূমিকা নিতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে চুক্তির জন্য নতুন করে তৎপরতা শুরু করার প্রেক্ষাপটে তিনি এই কথা বলেছেন।
মঙ্গলবার বার্লিনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির পাশে দাঁড়িয়ে মের্ৎস বলেন, ‘ইউরোপকে এই প্রক্রিয়ায় ভূমিকা নিতে হবে এবং ইউরোপ তা চায়ও। শান্তিপূর্ণ সমাধানের মূল উপাদানগুলো—নিষেধাজ্ঞা হোক বা নিরাপত্তা কাঠামো—শুধু আমাদের ইউরোপীয়দের সঙ্গেই মীমাংসা করা সম্ভব। এবং সংশ্লিষ্ট সবাই তা খুব ভালো করেই জানেন।’
বার্লিনে মের্ৎসের সঙ্গে জেলেনস্কির এই বৈঠক এমন সময়ে হলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনে সর্বাত্মক যুদ্ধের আলোচনার মাধ্যমে অবসানের জন্য নতুন করে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে এবং আগামী সপ্তাহে আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইউক্রেন ও রাশিয়ার আলোচনা আবার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এই বৈঠকের পরদিনই ইউরোপীয় কমিশনের আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও প্রধান ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতিনিধিদের নিয়ে ইউক্রেনের যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
মের্ৎস ডিসেম্বরে মিয়ামিতে অনুষ্ঠেয় জি২০ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আমন্ত্রণ জানানোর যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তেরও তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এই পদক্ষেপ ইউক্রেনকে তার নিজের ভাগ্য নিয়ে আলোচনা থেকে বাইরে রাখছে।
মের্ৎস বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে ইউক্রেনকেই আলোচনার প্রথম বিষয় হতে হবে। আর ইউক্রেন নিয়ে আলোচনা হলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে টেবিলে বসতেই হবে। যেকোনো অবস্থাতেই, আমার দৃষ্টিতে, তৃতীয় দেশগুলোর পক্ষে ইউক্রেনকে জড়িত না করে ইউক্রেনের ভাগ্য নিয়ে আলোচনা করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’
মের্ৎসসহ ইউরোপীয় নেতারা দীর্ঘদিন ধরেই আশঙ্কা করে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন শর্তে ইউক্রেন শান্তি চুক্তি করতে পারে, যাতে ইউরোপ পাশ কাটিয়ে যাবে এবং ইউক্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।



