ব্রিটেনে রেকর্ড ব্লুটাং মৌসুমকে ‘বড় প্রাণীকল্যাণ সংকট’ বললেন ভেটেরিনারি সংগঠনের প্রধান

গ্রেট ব্রিটেনে রেকর্ড ভাঙা ব্লুটাং মৌসুমকে একটি বড় প্রাণীকল্যাণ সংকট বলে বর্ণনা করেছেন ব্রিটিশ ভেটেরিনারি অ্যাসোসিয়েশনের (বিভিএ) সভাপতি। সংসদ সদস্যদের তিনি জানিয়েছেন, আক্রান্তের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় খামারিরা তীব্র মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন।
ব্লুটাং একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা ভেড়া, গরু ও ছাগলকে আক্রান্ত করে। এ রোগে জ্বর, ক্ষত, গর্ভপাত ও মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে; আক্রান্ত প্রাণীর জিহ্বা নীল হয়ে মুখ থেকে বেরিয়ে আসতে পারে।
আফ্রিকায় উৎপত্তি পাওয়া এই ভাইরাস কামড়ানো পোকা (মিজ) মারফত ছড়ায় এবং গত দুই দশকে ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ব প্রাণীস্বাস্থ্য সংস্থা এই বিস্তারকে জলবায়ু ভাঙনের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বর্তমানে পশুপালে ছড়ানো ব্লুটাংয়ের সেরোটাইপ-৩ (বিটিভি-৩) ধরনটি ২০২৩ সালে ইংল্যান্ডে প্রথম শনাক্ত হয়।
২০২৫-২৬ মৌসুমটি হয়েছে রেকর্ডের সবচেয়ে খারাপ মৌসুম। জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে ৩ হাজার ৪৭২টি আক্রান্তের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা আগের তিন মৌসুমের মিলিত সংখ্যার পাঁচ গুণেরও বেশি।
ন্যাশনাল ফারমার্স ইউনিয়নের প্রধান প্রাণীস্বাস্থ্য ও কল্যাণ উপদেষ্টা ক্যাথরিন ম্যাকলাফলিন সংসদ সদস্যদের বলেছেন, এ বছরের প্রাদুর্ভাব দেশজুড়ে খামারিদের ‘তীব্র মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তার’ মধ্যে ফেলেছে। তিনি বলেন, খামারিরা পশুর মৃত্যু, মারাত্মক রোগ, প্রজননজনিত ক্ষতি, দুধ ও বৃদ্ধির ক্ষতি, অতিরিক্ত শ্রম, পশুচিকিৎসার খরচ এবং প্রজনন ও বিক্রিতে বিঘ্নের মুখোমুখি হয়েছেন।
ম্যাকলাফলিনের মতে, ভাইরাসটির প্রজনন ক্ষমতার ওপর প্রভাব খামারে দীর্ঘমেয়াদি ছাপ ফেলতে পারে। তিনি বলেন, বসন্তে অনেক খামারে মেষশাবকের সংখ্যা খুব কম থাকতে পারে, যার আর্থিক প্রভাব হবে ব্যাপক।
বিভিএ সভাপতি ড. গোয়েন রিস বলেছেন, ব্লুটাংয়ের সরাসরি কোনো চিকিৎসা না থাকায় পশুচিকিৎসকদের করার তেমন কিছু থাকে না। তাঁর ভাষায়, ‘আক্রান্ত প্রাণীকে সহায়তা দিয়ে আশা করা যায় সে সেরে উঠবে — কিন্তু একজন চিকিৎসক ও একজন খামারির জন্য এটা খুব কঠিন অবস্থান। এটি ছিল একটি বড় প্রাণীকল্যাণ সংকট।’
রিস সংসদ সদস্যদের আরও জানান, টিকার খরচ এবং সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার আগে অনেক খামারি পশুকে টিকা দিতে অনীহ ছিলেন। তিনি বলেন, টিকাটি সস্তা নয় এবং খামারিদের মুনাফার মার্জিন অত্যন্ত কম থাকায় ‘শুধু যদি-কিন্তু ভেবে’ বিনিয়োগ করা কঠিন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল। ডেভনে ১ হাজার ২৯১টি, সমারসেটে ৩৭৩টি এবং কর্নওয়ালে ৩৫২টি আক্রান্তের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণবিষয়ক বিভাগ (ডেফরা) একটি ‘ঘটনা’ বলতে বোঝায় এমন একটি খামার প্রাঙ্গণ, যেখানে অন্তত একটি ব্লুটাং-আক্রান্ত প্রাণী রয়েছে। ফলে আক্রান্ত প্রাণীর মোট সংখ্যা নথিভুক্ত ঘটনার সংখ্যার চেয়ে বেশি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।




