মাগুরায় লুটের স্বর্ণ ভাগাভাগি নিয়ে যুবদল নেতা শাকেরকে গুলি করে হত্যা, জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের স্বীকারোক্তি; স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতা বহিষ্কার

মাগুরায় লুট করা স্বর্ণের ভাগ-বাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শাকের হোসেনকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে — শাকের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আসামিরা জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ মামলায় গ্রেপ্তার জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম জাহিদ ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মারুফ হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক কাজী আব্দুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গোলাম জাহিদ ও মারুফ হোসেনকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের সঙ্গে দলীয় কোনো সম্পর্ক না রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বহুল আলোচিত শাকের হোসেন হত্যা এবং স্বর্ণ লুটের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। লুট করা স্বর্ণের ভাগ-বাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে শাকের হোসেনকে হত্যা করা হয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন আসামিরা।
মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানিয়েছেন, শাকের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুট করা ৬টি স্বর্ণের বার এবং লুটের কাজে ব্যবহৃত একটি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, গত ৬ অক্টোবর মাগুরা সদর উপজেলার রামনগর এলাকায় গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাস থেকে প্রায় ১৫০ ভরি স্বর্ণ লুট করা হয়। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গোলাম জাহিদকে মঙ্গলবার ভোররাতে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ছাড়া পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও মাগুরা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন, তৌকির জুয়েল, মিল্টন, মিল্টনের স্ত্রী মারুফা, ফরিদ মণ্ডল, বশিরসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে কয়েকজন আসামি স্বর্ণ লুটের ঘটনায় নিহত শাকের হোসেনসহ তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
শাকের হত্যা মামলায় রনি শিকদার, শামীম তাবাসসুম লুবনা, ঝিনাইদহের স্বর্ণ ব্যবসায়ী অনিমেষ মজুমদার, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মারুফ হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাহিদ ও বশিরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গত ২১ অক্টোবর সকালে মাগুরা বাস টার্মিনালে রয়েল পরিবহনের একটি কাউন্টারের ভেতর থেকে পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শাকের হোসেনের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার স্ত্রী বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে তদন্তকালে স্বর্ণ লুটের সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র পাওয়া যায়।




