নওগাঁয় দলীয় এমপির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিস্তর অভিযোগ উপজেলা বিএনপি সভাপতির, জবাব দিলেন এমপি

নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রবিউল আলম বুলেট। সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এমপির বিরুদ্ধে তাঁর এসব অভিযোগ শোনা যায়।
জানা গেছে, সোমবার বিকেলে রিকশা-ভ্যান শ্রমিক অফিসে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রস্তুতি সভা হয়। উপজেলা বিএনপি আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় এই অভিযোগগুলো করেন বুলেট। একপর্যায়ে তিনি ঘোষণা দেন, এসবের প্রমাণ প্রধানমন্ত্রী ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপন করবেন।
ভিডিওতে বুলেট বলেন, মহাদেবপুরে বিএনপির নামে আলাদা সাইনবোর্ড দিয়ে অফিস করা হয়েছে। ৭ নভেম্বরের কর্মসূচির পর ওই সাইনবোর্ড সেখান থেকে টেনে খুলে ফেলা হবে।
ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের দলের চেয়ারম্যান আমাদের বলেছিলেন, “আপনারা সুসংগঠিত থাকেন।” আমাদের চেয়ারম্যান দরকার; যদি আমরা জনগণের বিশ্বাস অর্জন করি, তাহলে আমাদের নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলতে হবে। আমরা সেই নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলে আসছি। এত দিন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা চিন্তা করে মুখ খুলিনি।’
বুলেট বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে চিঠি দিয়ে চাঁদা নেওয়ার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার জবাব জনগণই দেবে। কোনো ইউনিয়নে বিএনপি টাকা চেয়েছে আর এমপি কার কাছে চেয়েছেন, তার প্রমাণ জনগণের সামনে হাজির করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘গত ৮-৯ মাসে এমপি সাহেব কোথা থেকে কত টাকা নিয়েছেন, কোন ব্যাংক থেকে ব্যাংক ড্রাফট হয়ে তা জমা হয়েছে, তার সব হিসাব ব্যাংক ড্রাফটের নম্বরসহ তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপন করা হবে।’ মহাদেবপুর থানা এলাকায় এই ব্যাংক ড্রাফটের দুর্নীতি প্রমাণ করতে না পারলে আর রাজনীতি করবেন না বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
স্বৈরাচারী সরকারের পতনের উদাহরণ টেনে বুলেট বলেন, ‘শেখ হাসিনার কাছে পুলিশ ছিল, আর্মি ছিল, বিজিবি ছিল, ক্ষমতা ছিল, প্রশাসন ছিল; কিন্তু জনগণের কাছে সেই হাসিনা টিকে থাকতে পারেনি। এমপি যত বড় ক্ষমতাধরই হোন এবং তাঁর কাছে পুলিশ বা সিভিল প্রশাসন যা-ই থাকুক না কেন, জনগণের শক্তির চেয়ে বড় কিছু নয়।’
স্থানীয় সাবেক এমপি সেলিমের আমলের সঙ্গে তুলনা টেনে বুলেট বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে সেলিম যা করেনি, আমার তো ধারণা এই ৮-৯ মাসে তার চেয়েও বেশি দুর্নীতি হয়েছে। এক খাদ্যগুদাম থেকেই তিনি ৩ কোটি টাকার উপরে নিয়েছেন। কোনো কাজ না করেই কীভাবে কাজের বিল তোলা হয়েছে — সব হিসাব সময়মতো দেওয়া হবে।’
ভিডিওর বিষয়ে জানতে চাইলে মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি বুলেট সংক্ষেপে বলেন, ‘এ বিষয়ে সময়মতো কথা বলব।’
অভিযোগের বিষয়ে এমপি ফজলে হুদা বাবুল বলেন, ‘রাজনীতিতে থাকলে মানুষ এমন রাজনৈতিক কথা বলবেই। বাংলাদেশ এখন তথ্যপ্রবাহের ক্ষেত্রে স্বাধীন এবং বিএনপি সবকিছু উন্মুক্ত করে দিয়েছে, তাই লুকোচুরির কিছু নেই। যার কাছে অডিও বা বক্তব্য রয়েছে, তিনি প্রমাণসহ জাতির সামনে আসুন। আমি রাজনীতিতে নতুন নই; রাজনীতি করতে গেলে অনেকেই অনেক কথা বলবে। আপনারা স্বাধীনভাবে খোঁজ নিয়ে প্রতিবেদন করতে পারেন।’



