আগারগাঁওয়ে যাত্রা শুরু ‘ব্রিদিং ঢাকা’ প্রকল্পের, সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় বসবে বায়ুমান পর্যবেক্ষণ
ঢাকার সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে বায়ুদূষণ পর্যবেক্ষণ জোরদার করা এবং জনসাধারণের জন্য নির্ভরযোগ্য বায়ুমানের তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৮ মাস মেয়াদি গবেষণা উদ্যোগ ‘ব্রিদিং ঢাকা’ প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রকল্পের পুরো নাম ‘ব্রিদিং ঢাকা: ঢাকার সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য উন্মুক্ত হাইপারলোকাল PM₂.₅ পর্যবেক্ষণ ও প্রমাণভিত্তিক বায়ুমান নীতি’।
বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)-এর কারিগরি সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর এনার্জি পলিসি ইনস্টিটিউটের ‘এয়ার কোয়ালিটি ফান্ড ২০২৬’-এর আওতায় প্রকল্পটি অর্থায়ন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিবেশ ভবনে প্রকল্পের উদ্বোধনী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিপার্টমেন্ট অব ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটির আরবান এনভায়রনমেন্টাল ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক প্রফেসর ড. এ. টি. এম. নুরুল আমিন। সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মো. লুৎফর রহমান ঢাকার ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণ মোকাবিলায় বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘ব্রিদিং ঢাকা’র মতো সমন্বিত উদ্যোগ বায়ুদূষণ ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ সরবরাহ করবে এবং ঢাকার বায়ুমানের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের সভাপতি আহমেদ ইমতিয়াজ জামি প্রকল্পের উদ্দেশ্য, বাস্তবায়ন কৌশল ও প্রত্যাশিত ফলাফল তুলে ধরেন। ক্যাপসের চেয়ারম্যান ও প্রকল্পের কারিগরি প্রধান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার প্রকল্পের কারিগরি কাঠামো, পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
আহমেদ ইমতিয়াজ জামি বলেন, অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করছে, যারা পরিবেশদূষণ ও এর স্বাস্থ্যগত ক্ষতির ঝুঁকিতে তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছেন। তিনি বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে কমিউনিটি পর্যায়ে বায়ুমানের তথ্য সংগ্রহ ও সহজলভ্য করার পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে চান তারা। তার মতে, নির্ভরযোগ্য তথ্য, জনসচেতনতা, জনগণের অংশগ্রহণ এবং আচরণগত পরিবর্তনই সুস্থ ও সহনশীল জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার অন্যতম ভিত্তি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের বায়ুমান ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ আবদুল মোতালিব প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক নির্ভরযোগ্যতা ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে যন্ত্রপাতির যথাযথ ক্যালিব্রেশন, তথ্য সংগ্রহ-পরবর্তী উপাত্ত যাচাই এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরেন। বায়ুদূষণ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি আচরণগত পরিবর্তনমূলক কার্যক্রম গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথি প্রফেসর ড. এ. টি. এম. নুরুল আমিন বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে বাস্তবভিত্তিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বৈজ্ঞানিকভাবে তথ্য সংগ্রহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে অর্থবহ গবেষণা শুধু পর্যবেক্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করতে হবে এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণালব্ধ তথ্যকে কার্যকর নীতিমালায় রূপান্তর করতে হবে।



