গাজীপুরে নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিকের লাশ গাইবান্ধার বাড়িতে, বুধবার জানাজা ও দাফন

গাজীপুরে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে মারধরে গুরুতর আহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক শেখ (২১) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকার উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার রাতেই তাঁর লাশ গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে পৌঁছেছে।
নিহত তৌফিক গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং স্থানীয় লায়লা গার্মেন্টসে চাকরি করতেন।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহফুজ আলম জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে তৌফিকের লাশ গ্রামের বাড়িতে এসে পৌঁছেছে। বুধবার তাঁর দাফন হবে।
কোচাশহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক বলেছেন, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় ছয়ঘরিয়া গ্রামে তৌফিকের জানাজা হবে। এরপর গ্রামের কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
স্বজনেরা জানান, তৌফিক ছয়ঘরিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ২০২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর জীবন-জীবিকার তাগিদে এক বন্ধুর মাধ্যমে তিনি গাজীপুরের পোশাক কারখানায় চাকরি নেন।
চলমান আন্দোলনটি চলছে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে। তৌফিকের বড় ভাই হারুন মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, কয়েক দিন ধরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন চলছে। আন্দোলন চলাকালে তৌফিক হামলার ঘটনার দৃশ্য মুঠোফোনে ভিডিও করার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় হামলাকারীরা তাঁর ওপর চড়াও হয়ে বেধড়ক মারপিট করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে আন্দোলনরত শ্রমিকেরাই তৌফিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেছেন, একজন শ্রমিক মারা গেছেন বলে তিনি শুনেছেন। তাঁর ভাষ্য, একটি কারখানা বন্ধ করার জন্য বহিরাগত লোকজন গিয়ে চাপ দেয়। কর্তৃপক্ষ কারখানা বন্ধ করতে রাজি না হলে বহিরাগতদের সঙ্গে ওই কারখানার শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ওই শ্রমিক গুরুতর আহত হন। ঘটনার সময় সেখানে পুলিশের কোনো সদস্য ছিলেন না বলেও তিনি জানান।
পুলিশের আরেক বিবরণে বলা হয়েছে, আন্দোলন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে পুলিশের ওই অভিযানে তৌফিক আহত হননি; ভিডিও ধারণের সময় শ্রমিকদের মারধরেই তিনি আহত হন বলে পুলিশ জানিয়েছে।




