শনিরআখড়ায় গৃহিণীর ৮৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা
রাজধানীর শনিরআখড়ার দনিয়া শাখায় ডাচ-বাংলা ব্যাংকের গ্রাহক নারগিস আক্তার নামের এক গৃহিণীর নিরক্ষরতার সুযোগ নিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে তাঁর ব্যাংক হিসাব থেকে ৮৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
এই অভিযোগে ব্যাংকটির কর্মকর্তাসহ নয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালতে ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে মামলার আবেদন করেন।
আদালত তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। বাদীর আইনজীবী মাজেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ডাচ-বাংলা ব্যাংক দনিয়া শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ডেপুটি ম্যানেজার মোহিত মোরশেদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার সৌরভ সাহা, রেমিট্যান্স অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখা ব্যবস্থাপক মো. গোলাম কিবরিয়া।
অন্য আসামিরা হলেন গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহবুব হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাকিম আলী সরদার, ম্যানেজার কাজী এনামুল কবির ও শওকত হাসান এবং প্রতিষ্ঠানটি নিজে। মামলায় আরও অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বাদী নারগিস আক্তার একজন গৃহিণী। তিনি তাঁর জমি ও গাড়ি বিক্রি এবং বাড়ি ও দোকান ভাড়া থেকে সঞ্চিত মোট ১ কোটি ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৩১৯ টাকা ডাচ-বাংলা ব্যাংকের দনিয়া শাখার হিসাবে জমা রাখেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, নিরক্ষর হওয়ার কারণে ব্যাংক কর্মকর্তারা তাঁকে চেক পূরণ ও টাকা জমার কাজে সহযোগিতা করতেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৭ সেপ্টেম্বর বাদী পাঁচ লাখ টাকা তুলতে ব্যাংকে গেলে আসামিরা কৌশলে তাঁর চেক বই থেকে একটি অতিরিক্ত চেক রেখে দেন এবং ডিপিএস খোলার কথা বলে কয়েকটি কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেন।
পরে গত ৪ অক্টোবর বাদী ব্যাংকে গিয়ে হিসাবের স্থিতি জানতে চাইলে আসামিরা জানান, তাঁর হিসাবে মাত্র ৩ লাখ ৩৫ হাজার ২০৪ টাকা অবশিষ্ট রয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, বাকি টাকার খোঁজ নিলে ব্যাংক কর্মকর্তা মোহিত মোরশেদ জানান, ২৩ সেপ্টেম্বর ‘পজিটিভ পে ইন্সট্রাকশন’ ফরমের মাধ্যমে গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেডকে একটি চেকে ৮৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।
নারগিস আক্তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি ব্যাংকে যাননি এবং ওই প্রতিষ্ঠানকে কোনো চেক দেননি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ১৭ সেপ্টেম্বর প্রতারণা করে রেখে দেওয়া চেকটিতে জাল স্বাক্ষর ও টাকার পরিমাণ বসিয়ে এবং পজিটিভ পে ফরম তৈরি করে পূবালী ব্যাংক পিএলসির রাজবাড়ী শাখায় গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেডের হিসাবে ক্লিয়ারেন্সের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরে ২৮ সেপ্টেম্বর ওই কোম্পানির পক্ষে আসামি শওকত হাসান পূবালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখা থেকে নগদ ৮৫ লাখ টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন।
বাদী উল্লেখ করেন, তিনি কোনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১ সেপ্টেম্বর খোলা ওই কোম্পানির হিসাবে ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় প্রতারণামূলকভাবে এই অর্থ সরানো হয়েছে।




