আইওয়ায় সিনেট আসন ছিনিয়ে নিলেন ডেমোক্র্যাট জোশ টুরেক, ২০০৮ সালের পর প্রথম জয়

যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যের খালি সিনেট আসনে ডেমোক্র্যাট জোশ টুরেক জয়ী হবেন বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ফক্স নিউজের ডিসিশন ডেস্ক। এই জয়ে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা একটি আসন ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেল, যখন সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে লড়ছে রিপাবলিকানরা।
টুরেক পরাজিত করেছেন রিপাবলিকান প্রতিনিধি অ্যাশলি হিনসনকে। অবসরে যাওয়া সিনেটর জনি আর্নস্টের আসনেই এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়।
এই জয় ২০০৮ সালের পর প্রথমবারের মতো এই আসনে ডেমোক্র্যাটদের জয় — সেবার সাবেক সিনেটর টম হারকিন তার শেষ মেয়াদের জয় পেয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৪ সালে ১৩ পয়েন্টের বেশি ব্যবধানে জেতা একটি অঙ্গরাজ্যে এই ফল ডেমোক্র্যাটদের জন্য বড় অর্জন।
জয়ে প্রতিক্রিয়ায় টুরেক এক্সে লিখেছেন, ‘৪৪৮ দিনের কঠোর পরিশ্রম, পাহাড় ঠেলে ওপরে ওঠা, দরজায় দরজায় যাওয়া, আইওয়ার সব ৯৯টি কাউন্টি ঘোরা এবং ছোট ও মাঝারি জনপদে গিয়ে আইওয়ার জন্য আরও ভালো ভবিষ্যতের বার্তা দেওয়ার পর — একসঙ্গে আমরা ইতিহাস গড়েছি।’
সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুন হিনসনের আসনটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি পুরোপুরি নিশ্চিত, তাকে জিততেই হবে; সে না জিতলে আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠতায় থাকব না।’
হিনসন সমর্থকদের জানিয়েছেন, তিনি টুরেকের কাছে পরাজয় স্বীকার করেছেন এবং কঠিন লড়াইয়ের জন্য তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘জোশ ও আমি, হালকা করে বললেও, অনেক বিষয়েই ভিন্নমত পোষণ করি। কিন্তু আজ রাতে আশা করি আমরা এ বিষয়ে একমত হতে পারি যে প্রচারণা পেছনে ফেলে গেছি, আর আইওয়ার মানুষের সেবার কাজ সামনে রয়েছে।’
হিনসন আরও বলেন, এখন রাজনীতি একপাশে রেখে, উত্তেজনা কমিয়ে আইওয়ার পরিবার ও কৃষকদের সমস্যা সমাধানে কাজ শুরুর সময়। ফল তার পক্ষে না গেলেও নিজের প্রচারণার লড়াই নিয়ে তিনি গর্বিত বলে জানান।
টুরেক তার প্রচারণার কেন্দ্রে রেখেছিলেন সাধ্যের মধ্যে জীবনযাত্রা, স্বাস্থ্যসেবা ও মজুরি। তিনি প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম কমানো, সাশ্রয়ী আবাসন, ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো এবং খাদ্যের দামে কারসাজিতে ফেডারেল নিষেধাজ্ঞার প্রতিশ্রুতি দেন।
স্বাস্থ্যসেবা টুরেকের কাছে ব্যক্তিগত বিষয়ও — তিনি স্পাইনা বিফিডা নিয়ে জন্মেছেন এবং দুবারের প্যারালিম্পিক স্বর্ণজয়ী। নিজের চিকিৎসা পাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে তিনি বলেছেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা একটি মানবিক অধিকার।’ তার কর্মসূচিতে মেডিকেইডের তহবিল পুনরুদ্ধার, অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের ভর্তুকি রক্ষা এবং গ্রামীণ হাসপাতালগুলোর পাশে দাঁড়ানোর কথাও রয়েছে।
নিজেকে দ্বিদলীয়ভাবে কাজ করতে পারা আইনপ্রণেতা হিসেবে তুলে ধরেন টুরেক, অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধী শিবিরের সঙ্গে কাজের কথা বলেন তিনি। ‘প্রেইরি পপুলিস্ট’ হিসেবে প্রচারণা চালিয়ে তিনি যুক্তি দেন, আবাসন, মুদি ও জ্বালানির খরচে কর্মজীবী পরিবারগুলো চাপে থাকলেও ওয়াশিংটনের রাজনীতিক ও করপোরেশনগুলোই লাভবান হচ্ছে। আইওয়ার অর্থনৈতিক চাপের সঙ্গে তিনি ট্রাম্পের শুল্ক ও ইরান যুদ্ধকেও যুক্ত করেন।
অন্যদিকে হিনসন প্রচারণা চালান করছাড়, সীমান্ত নিরাপত্তা, স্কুলে অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা এবং কৃষি ও জৈব জ্বালানির সমর্থনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে। সিউক্স সিটিতে এক সমাবেশে ট্রাম্প তাকে সমর্থন দিয়ে ‘একজন মা, একজন যোদ্ধা, একজন দেশপ্রেমিক’ বলে অভিহিত করেন এবং প্রতিশ্রুতি দেন, ‘অ্যাশলি সিনেটে থাকলে আমরা সারা বছর ই১৫ পাব, এটা স্থায়ী করব।’




