যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের ঘাঁটি ব্যবহার করলে সেদিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়বে তেহরান, ইরানি এমপির হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এমন ইউরোপীয় দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি দিয়েছেন ইরানের আইনপ্রণেতারা। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বুধবার সতর্ক করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত হলে তা ‘ইউরোপের হৃদয়ে’ পৌঁছাতে পারে।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্য আহমদ বখশায়েশ আরদেস্তানি ইউরোনিউজকে বলেছেন, ‘আমেরিকা যদি ইতালি ও জার্মানিসহ ইউরোপে তার ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে, তাহলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপের দিকে ছোড়া হবে।’
আরদেস্তানি আরও বলেন, ‘আগের দুটি যুদ্ধে আমরা এটি করিনি। কিন্তু এবার ইরানের ওপর হামলায় আমেরিকাকে ইউরোপের সহায়তা আমরা পরিণতি ছাড়া যেতে দেব না।’
ইউরোপ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আরদেস্তানি বলেন, ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলো আগের পর্যায়েই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছিল।
তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত যেকোনো ঘাঁটিতে হামলা চালাবে তেহরান। পাশাপাশি আমেরিকাকে সহায়তা করা দেশগুলোর ‘বস্তুগত ও অবস্তুগত সম্পদ’ও লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির আরেক সদস্য ফাদা হোসেইন মালেকি বলেছেন, নতুন করে সংঘাত হলে তার জন্য ইরান নতুন এক পদ্ধতি ও পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোকে অবাক করবে বলে তিনি মনে করেন।
বুধবার ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে ‘প্রতিটি স্তর ও ধরনের হুমকির জবাবে ভৌগোলিক সীমা ছাড়া তাৎক্ষণিক ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া’র অঙ্গীকার করেছে। বুধবার ছিল ১৯৭৯ সালে তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস দখলের বার্ষিকী, যা ইরানে ‘বৈশ্বিক উদ্ধততার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের দিন’ হিসেবে পালিত হয়।
বিবৃতিতে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির নির্দেশের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, ইরানের ‘টার্গেট ব্যাংক’ হালনাগাদ করা এবং শত্রুর বস্তুগত ও অবস্তুগত সম্পদকে আওতার মধ্যে রাখার নির্দেশ রয়েছে।
বুধবারের বার্ষিকী মিছিলের আগে সরকারের সমর্থকরা তেহরানে জার্মান দূতাবাসের বাইরে একটি ব্যানার টাঙান। তাতে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সচিব মহসেন রেজাইয়ের উক্তি ছিল—‘ইসরায়েলকে সমর্থনের মূল্য ইউরোপকে দিতে হবে।’ আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট ফার্স বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, এর জন্য দায়ীরা তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বাসিজের সদস্য।
ব্যানারটি দূতাবাসের রেলিংয়ে টাঙানো হয়েছিল কি না, এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ইউরোনিউজ তেহরানে জার্মান দূতাবাস ও জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় দুপক্ষই অনুপলব্ধ ছিল।
ফার্স পৃথকভাবে জানিয়েছে, ইরান জার্মানিকে সতর্ক করেছে—বার্লিন তেহরানের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ালে অঞ্চলজুড়ে জার্মানির সামরিক সম্পদকে ‘বৈধ প্রতিরক্ষামূলক লক্ষ্য’ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
ইসরায়েলের প্রতি বার্লিনের সমর্থন নিয়ে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জার্মানির রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে তেহরান।
আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির প্রতিনিধির তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত কায়হান পত্রিকা লিখেছে, ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যের পরিসর এখন আর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে সীমাবদ্ধ নয়; ‘ভৌগোলিক সীমা ছাড়া সামরিক প্রতিক্রিয়া’র নির্দেশের কথা উল্লেখ করে পত্রিকাটি বলেছে, তা ‘ইউরোপের হৃদয়’ পর্যন্ত প্রসারিত হতে পারে।
রেজাই সামাজিক মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ইরানের দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জবাব ‘সন্তোষজনক নয়’। তিনি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার আগে ওয়াশিংটনকে ইরানের সাতটি শর্ত পুরোপুরি পূরণ করতে হবে।
পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ মঙ্গলবারের কংগ্রেস নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়কে স্বাগত জানিয়ে এক্সে লিখেছেন, আমেরিকার জনগণ ‘যুদ্ধকে না বলেছে’ এবং ইরান সেই বার্তাকে সমর্থন করে। তিনি আরও লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সরকার যদি ঘুষ দেওয়া ও আন্তর্জাতিক ব্ল্যাকমেইলে জড়িত ব্যবস্থাপকদের পক্ষে কাজ করতে জনগণের ইচ্ছা উপেক্ষা করে, তাহলে তারা বুঝতে পারবে—আমাদের ‘না’-এর সঙ্গে দুঃস্বপ্ন জড়িয়ে আছে।’
ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার পরিকল্পনা আছে কি না—এমন প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অস্পষ্ট জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন এবং প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা নেবেন।



