নিজ দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প রক্ষা সব ইইউ দেশেরই সমস্যা, বললেন জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী
জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্তোরিয়াস বার্লিনে সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, জার্মানি তার প্রতিরক্ষা শিল্পকে ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ওপরে স্থান দিচ্ছে না। বুধবার বার্লিন নিরাপত্তা সম্মেলনে তিনি বলেন, জার্মানি এই সহযোগিতা চায় এবং অন্য দেশগুলোর চেয়ে ভিন্নভাবে কাজ করছে না।
পিস্তোরিয়াসের এই বক্তব্য এসেছে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিরক্ষা কমিটির সভাপতি মারি-আগনেস স্ট্রাক-জিমারমানের সমালোচনার জবাবে। এফডিপি দলের এই নেত্রী জার্মানির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন, দেশটি ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতার বদলে জার্মান নির্মাতাদের অস্ত্রের দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
পিস্তোরিয়াস বলেন, সবাই প্রতিদিন একমত হয়ে বলে যে তারা প্রতিরক্ষা খাতে আরও সহযোগিতা ও আরও যৌথ অস্ত্র প্রকল্প চায়। কিন্তু যখন কঠিন সিদ্ধান্তের সময় আসে, তখন প্রতিটি দেশ আলাদাভাবে একই কথা বলে—নিজের শিল্প যেন পিছিয়ে না পড়ে।
তিনি বলেন, নিজ দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পকে রক্ষা করা এমন একটি সমস্যা, যার মুখোমুখি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব দেশই। সরকারগুলোর নিজেদের অর্থনীতি ও শিল্প রক্ষার দায়িত্বও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্ট্রাক-জিমারমানকে উদ্দেশ করে পিস্তোরিয়াস বলেন, তিনি প্রশ্নে করা সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করছেন। সমালোচনা করতেই হলে তা জার্মানির বিরুদ্ধে নয়, প্রতিরক্ষা শিল্প আছে এমন সব ইউরোপীয় দেশের বিরুদ্ধেই করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এই বিতর্ক ইউরোপের প্রতিরক্ষা লক্ষ্যের একটি বড় সমস্যা তুলে ধরেছে। ইইউ দেশগুলো শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়তে চায় এবং সেজন্য আরও বেশি যৌথভাবে কেনাকাটা করতে চায়, অথচ সরকারগুলো নিজ দেশের কর্মসংস্থান ও কারখানা রক্ষাতেও সচেষ্ট।
পরিসংখ্যানেও এই টানাপোড়েন দেখা যাচ্ছে। ২০২৫ সালে ইইউ দেশগুলো সামরিক সরঞ্জামে ১১৫ বিলিয়ন ইউরো ব্যয় করেছে। ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সংস্থার হিসাবে, এই ব্যয়ের ২৪ শতাংশ গেছে যৌথ কেনাকাটায়। ব্রাসেলস চায়, ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার কমপক্ষে ৪০ শতাংশে পৌঁছাক।
দেশগুলোকে এককভাবে না কিনে যৌথভাবে অস্ত্র কিনতে উৎসাহিত করতে ইইউ ১৫০ বিলিয়ন ইউরোর সেফ (SAFE) অস্ত্র ঋণ কর্মসূচি চালু করেছে। তবু সরকারগুলো প্রায়ই বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি অন্য দেশের কোম্পানিকে দিতে দ্বিধা করে।
পোল্যান্ড সরকার জানিয়েছে, সেফ তহবিল থেকে পাওয়া প্রায় ৪৪ বিলিয়ন ইউরোর ৮৯ শতাংশ তারা নিজ দেশের শিল্পেই ব্যয় করতে চায়। পিস্তোরিয়াস এই পন্থাকেও সমর্থন করে বলেন, সরকারদের নিজেদের অর্থনীতি ও শিল্প রক্ষার দায়িত্ব রয়েছে।



