৬১৭টি বিও হিসাব অবমুক্তির খবরে পুঁজিবাজারে বড় উত্থান, ডিএসইএক্স বাড়ল ৫৭ পয়েন্ট
দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা ৬১৭টি বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব অবমুক্ত করে পুনরায় লেনদেনের সুযোগ দেওয়ার খবরে দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) এই সিদ্ধান্তে সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে শেয়ার কেনাবেচায়।
বুধবার প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রধান প্রধান মূল্যসূচকে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে।
লেনদেন শুরুর আগেই বিএসইসির এ ইতিবাচক বার্তা বাজারে ছড়িয়ে পড়লে প্রথম থেকেই শেয়ার কেনার ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। দিনের শেষ সময় পর্যন্ত এই ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ থাকায় বড় উত্থানের মধ্য দিয়েই কার্যদিবস সমাপ্ত হয়।
দিনশেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৫৭ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩৪১ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে। একই সঙ্গে শীর্ষ ৩০ প্রতিষ্ঠান নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ৩৭ পয়েন্টে এবং শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৩৬ পয়েন্টে উঠে এসেছে।
দিনভর ডিএসইতে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২৮২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দর হারিয়েছে মাত্র ৫১টি এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫০টি প্রতিষ্ঠানের বাজারদর।
লভ্যাংশ প্রদানকারী ‘এ’ ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৪৮টির শেয়ারদর বাড়লেও কমেছে ২৪টির এবং ১৮টির দর অপরিবর্তিত ছিল। মাঝারি মানের কোম্পানির ক্ষেত্রে ৫৯টির দাম বাড়ার বিপরীতে পতন হয়েছে মাত্র ৬টির দর। লভ্যাংশ বিতরণে ব্যর্থ ‘জেড’ গ্রুপের কোম্পানিগুলোর মধ্যেও ৭৫টির দাম বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ২০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৮টির দর। এছাড়া মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ১৪টির দাম বাড়ার বিপরীতে ৫টির দাম কমেছে।
সূচকের বড় উত্থান হলেও ডিএসইতে মোট লেনদেনের অঙ্ক কিছুটা সংকুচিত হয়ে ৫২২ কোটি ২৮ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের ৫৬৫ কোটি ৮২ লাখ টাকার তুলনায় ৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা কম।
লেনদেনের শীর্ষে ছিল মতিন স্পিনিং, যার ৩২ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে ১৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করেছে এনভয় টেক্সটাইল এবং ১৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন নিয়ে তৃতীয় স্থানে ছিল শাহজিবাজার পাওয়ার।
এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় জায়গা করে নেয় সায়হাম টেক্সটাইল, ফাইন ফুডস, ফার কেমিক্যাল, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, ব্র্যাক ব্যাংক ও প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অংশ নেওয়া ১৪৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮১টির দরবৃদ্ধির ফলে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১০০ পয়েন্ট বেড়েছে, যদিও সেখানে মোট লেনদেন নেমে এসেছে ৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকায়।


