বছরে দুটি ইঞ্জেকশনেই এইচআইভি প্রতিরোধের সম্ভাবনা: ডক্টর রেড্ডিজের জেনেরিক ওষুধে এফডিএর প্রাথমিক অনুমোদন

প্রতিদিন ওষুধ খাওয়ার ঝামেলা ছাড়াই এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি কমানোর নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভারতের ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা ডক্টর রেড্ডিজ ল্যাবরেটরিজের তৈরি লেনাক্যাপাভিরের জেনেরিক ইঞ্জেকশন এইচআইভি প্রতিরোধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফডিএর প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছে।
ইঞ্জেকশনটি ছয় মাস অন্তর নেওয়ার কথা। ফলে বছরে দুবার ইঞ্জেকশন নিলেই এইচআইভি প্রতিরোধের সুযোগ তৈরি হবে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
লেনাক্যাপাভির মূলত তৈরি করেছে আমেরিকার ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা গিলিয়াড সায়েন্সেস। ২০২৪ সালের অক্টোবরে গিলিয়াডের সঙ্গে স্বেচ্ছামূলক লাইসেন্সিং চুক্তি করে ডক্টর রেড্ডিজ। এর আওতায় সংস্থাটি ভারতসহ ১২০টি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে ওষুধটি তৈরি ও সরবরাহ করতে পারবে।
২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে ডক্টর রেড্ডিজের জেনেরিক ওষুধটি এফডিএর ‘টেন্টেটিভ অ্যাপ্রুভাল’ পেয়েছে। এই অনুমোদন বিশ্বজুড়ে ওষুধটির সহজলভ্যতার পথ আরও প্রশস্ত করতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে পেটেন্ট-সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে এই অনুমোদন সেখানে সরাসরি বাজারজাত করার ছাড়পত্র নয়।
লেনাক্যাপাভির এইচআইভি-১ ভাইরাসের ক্যাপসিড প্রোটিনকে লক্ষ্য করে কাজ করে এবং ভাইরাসের জীবনচক্রের একাধিক পর্যায়ে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি ও সংক্রমণ ছড়ানোর প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এই ওষুধের প্রতিরোধী ব্যবহারের নাম প্রি-এক্সপোজার প্রোফিল্যাক্সিস বা প্রেপ — অর্থাৎ যাদের এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের সংক্রমণ হওয়ার আগেই সুরক্ষা দেওয়ার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়।
তবে লেনাক্যাপাভির এইচআইভি সারানোর ওষুধ নয়। যাদের শরীরে ইতোমধ্যেই এইচআইভি রয়েছে, তাদের চিকিৎসার জন্য এই প্রতিরোধী ডোজ ব্যবহার করা যাবে না। এইচআইভি-আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসায় লেনাক্যাপাভিরের আলাদা ব্যবহার রয়েছে, তবে তা অন্য অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধের সঙ্গে নির্দিষ্ট চিকিৎসা-পরিকল্পনা মেনে করতে হয়।
প্রাপ্তবয়স্ক এবং নির্দিষ্ট ওজনের বেশি কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে যাদের এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের জন্য এই ওষুধ ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে ইঞ্জেকশন নেওয়ার আগে অবশ্যই এইচআইভি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে যে শরীরে সংক্রমণ নেই; পরবর্তী প্রতিটি ডোজের আগেও পরীক্ষা জরুরি। কারণ, অজান্তে সংক্রমণ থাকা অবস্থায় ওষুধটি নিলে ভাইরাসের ওষুধ-প্রতিরোধী হয়ে ওঠার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এই ইঞ্জেকশন অন্যান্য যৌনবাহিত সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয় না। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি; নিজে থেকে এই ওষুধ নেওয়া যাবে না এবং নিয়মিত পরীক্ষার প্রয়োজনও এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।
ডক্টর রেড্ডিজের জেনেরিক ওষুধের প্রথম সরবরাহ ২০২৬ সালের শেষ দিকে কিছু দেশে পৌঁছাতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো জানিয়েছে। ২০২৭ সালে আরও বিস্তৃত সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। লাইসেন্সের আওতায় থাকা ১২০টি দেশে প্রতি ব্যক্তির জন্য বছরে ৪০ মার্কিন ডলারে ওষুধটি সরবরাহের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে ভারতে চূড়ান্ত বাজারজাতকরণের অনুমোদন ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে কবে পাওয়া যাবে, তা সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্ত এবং সরবরাহের ওপর নির্ভর করবে।




