বিদেশফেরত চিকিৎসকদের ৭০ শতাংশই রেজিস্ট্রেশন পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

বিদেশ থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফেরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ৩০ শতাংশ চিকিৎসক রেজিস্ট্রেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, অর্থাৎ ৭০ শতাংশই অনুত্তীর্ণ হয়েছেন। এই তথ্য তুলে ধরে সন্তানদের চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়তে বিদেশে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান যাচাই করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর মহাখালীতে বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিলের (বিএমইএসি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘অ্যাসেসর ট্রেনিং’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
দেশে চিকিৎসা শিক্ষার মান নিশ্চিত করার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সরকার নতুন কোনো বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দেয়নি। এ নিয়ে প্রভাবশালী বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে চাপ আসছে। তবে মান ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করে কাউকে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, হাসপাতাল ছাড়া মেডিকেল কলেজ হবে, আর রোগী না দেখে কেউ চিকিৎসক হয়ে যাবেন—এমন পরিস্থিতি চলতে পারে না। চিকিৎসা শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে হলে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, হাসপাতাল ও রোগী দেখার পর্যাপ্ত সুযোগ থাকতে হবে।
দেশে চিকিৎসা শিক্ষার বৈষম্য ও ভৌগোলিক অসম বণ্টনের বিষয়টি তুলে ধরে ড. মুহিত বলেন, দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ঢাকা বিভাগে অবস্থিত। অথচ বাকি সাতটি বিভাগে এ ক্ষেত্রে ভারসাম্যহীনতা রয়েছে।
তিনি বলেন, সংসদ কিংবা রাজনৈতিক বক্তৃতায় যখন-তখন নিজ জেলা বা উপজেলায় মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি জানানোর প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা শিক্ষার প্রয়োজন বিবেচনায় পরিকল্পিতভাবে এই খাতের অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
চিকিৎসা শিক্ষায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের (ডব্লিউএফএমই) মানদণ্ড অনুসরণ করে অ্যাক্রিডিটেশন অর্জন করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিকিৎসকদের বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে পড়বে।
ড. মুহিত আরও বলেন, চিকিৎসকদের পেশাগত মর্যাদা ও মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এখন বাধ্যতামূলক।




