সুন্দরবনঘেঁষা ১৮ রিসোর্ট সরেজমিনে যাচাই প্রতিমন্ত্রীর, ক্ষতির প্রমাণ পেলে বন্ধের হুঁশিয়ারি

সুন্দরবনের কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা ১৮টি রিসোর্টের বৈধতা এবং এসব পর্যটন স্থাপনার কারণে বনের প্রাণ-প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের কোনো ক্ষতি হচ্ছে কি না, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।
বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী স্টেশনের আওতাধীন বনসংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা রিসোর্টগুলো পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় রিসোর্টগুলোর কার্যক্রম, পরিবেশ সংরক্ষণ ব্যবস্থা, শব্দদূষণ এবং বন্য প্রাণীর নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা কার্যালয় এবং বনবিভাগের বাগেরহাট ও মোংলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাঁরা রিসোর্টগুলোর বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন এবং এসব স্থাপনার কার্যক্রমের সঙ্গে সুন্দরবনের পরিবেশগত বিষয়গুলোর সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী জানান, গণমাধ্যমে খবর এসেছে বনবিভাগের পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার মধ্যে অবৈধভাবে রিসোর্ট গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে কি না এবং এসব স্থাপনার কারণে সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতির ক্ষতি হচ্ছে কি না, সরেজমিনে যাচাই করতেই তাঁর এই পরিদর্শন।
তিনি বলেন, রিসোর্টগুলোতে শব্দদূষণ হচ্ছে কি না, হরিণ শিকার কিংবা বনের বন্য প্রাণীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মতো কোনো কর্মকাণ্ড চলছে কি না — বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পরিবেশের ক্ষতি হয় বা সুন্দরবনের স্বাভাবিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি তৈরি করে, এমন কোনো কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে তা বন্ধ করা হবে।
একই সঙ্গে অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
রিসোর্টগুলোর পরিচালনা ব্যবস্থায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এসব স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। ফলে বিদ্যুতের জন্য জেনারেটর চালিয়ে শব্দদূষণ করা যাবে না। সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল প্রাকৃতিক পরিবেশের পাশে পর্যটন স্থাপনা পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। রিসোর্টগুলো পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার মধ্যে গড়ে উঠেছে কি না এবং সেগুলোর বৈধতা রয়েছে কি না, এগুলোও যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। কেউ এই নিরাপত্তা ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে এমন দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে অন্যরাও সতর্ক হয় এবং সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে।
পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী জানান, ঘুরে দেখার সময় আপাতত রিসোর্টগুলোর কারণে সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতির ক্ষতি হচ্ছে, এমন কোনো বিষয় তাঁর চোখে পড়েনি। তবে শুধু সরেজমিন পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। পরিদর্শনে পাওয়া তথ্য ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে মন্ত্রণালয়ে ফিরে বৈঠক করা হবে। ওই বৈঠকে বিস্তারিত পর্যালোচনার পর রিসোর্টগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ৪ অক্টোবর সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা ১৮টি রিসোর্ট বন্ধের ঘোষণা দেয় পরিবেশ অধিদপ্তর। পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় এসব স্থাপনা নির্মাণের বৈধতা এবং সুন্দরবনের পরিবেশের ওপর সেগুলোর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রিসোর্টগুলোর প্রকৃত অবস্থা ও পরিবেশগত প্রভাব সরেজমিনে যাচাই করতে বুধবার পরিদর্শনে যান পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী।




