ফ্রান্সে রক্তভান্ডারের ফ্রিজেও সাইবার হামলা, রক্তের সরবরাহ অক্ষত বলে জানাল কর্তৃপক্ষ
ফ্রান্সের রক্ত সংগ্রহ সংস্থার ফ্রিজগুলোতেও সাইবার হামলা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি। ইউরোপজুড়ে সুপারমার্কেটের ফ্রিজে হামলার সাম্প্রতিক ঢেউয়ের সঙ্গে এই ঘটনার যোগ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে রক্তের সরবরাহে কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানানো হয়েছে।
ফরাসি ব্লাড এস্টাবলিশমেন্ট (ইএফএস) মঙ্গলবার জানায়, তাদের তিনটি স্থাপনায় বসানো কোল্ড স্টোরেজ রুমের পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই ব্যবস্থাগুলোতে তাপমাত্রা ও ডিফ্রস্টিংয়ের সীমা ‘অনেক উঁচু মাত্রায়’ তুলে দেওয়া হয়েছিল।
ইএফএস বলেছে, তারা এই সাইবার হামলার সরাসরি লক্ষ্য ছিল না এবং কোনো রক্তের নমুনা বা পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জামে থাকা রক্ত, যার মধ্যে রক্ত সঞ্চালনের জন্য রাখা প্লাজমার ব্যাগও ছিল, ‘স্থানান্তর বা সুরক্ষিত’ করা হয়েছে বলে সংস্থাটি জানায়।
এই ঘটনাকে ইউরোপজুড়ে সুপারমার্কেটের ফ্রিজে নতুন করে শুরু হওয়া সাইবার হামলার ঢেউয়ের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। ওই হামলাগুলোতে অনেক দোকানকে নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবার ফেলে দিতে হয়েছে। এই ঢেউ এসেছে ফ্রান্সের সুপারমার্কেটগুলোতে ফ্রিজ লক্ষ্য করে প্রথম হামলার মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর।
হামলাগুলোতে সুপারমার্কেটের ফ্রিজের ডিফ্রস্ট সেটিং বদলে দেওয়া হয়, যাতে কুলারগুলোর তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায় — ইএফএসের অভিজ্ঞতার সঙ্গেও এর মিল রয়েছে। পাঁচটি দেশে কয়েক ডজন দোকানের ফ্রিজের তাপমাত্রা দূর থেকে বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
ফরাসি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রেফ্রিজারেশন কোম্পানি কুলওয়ার্ল্ড ইএফএসের সরবরাহকারী। কোম্পানিটি এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত এবং এটি ‘তৃতীয় পক্ষের সরবরাহকারীর দেওয়া একটি যন্ত্রাংশের বিষয়, যা কুলওয়ার্ল্ড সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে না’। তাদের ‘সীমিত সংখ্যক’ ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কোম্পানিটি জানায়।
ফ্রান্সের ডিজিটাল মন্ত্রী আন ল্য হেনাঁফ আজ দেশটির সিনেটে বলেন, সম্প্রতি দেশটির ফ্রিজগুলোতে হওয়া হামলা ‘সরাসরি আমাদের অর্থনীতি ও সরবরাহ শৃঙ্খলকে লক্ষ্য করেছে’। তিনি আরও বলেন, ‘এর বাইরেও বলা যায়, তাদের উদ্দেশ্য হতে পারে আমাদের দেশের ঐক্য ক্ষুণ্ন করা এবং জনগণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করা।’
ইউরোপের সুপারমার্কেটগুলোতে কারা হ্যাকিং করেছে, তা এখনো কেউ জানে না। তবে অনেকেই সন্দেহের চোখে মস্কোর দিকে তাকাচ্ছেন।


