আইন প্রণয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর নির্ভর না করতে এমইপিদের সতর্ক করলেন মেটসোলা
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট রবার্তা মেটসোলা সিদ্ধান্ত গ্রহণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করতে এমইপিদের সতর্ক করেছেন। বুধবার তিনি এ সতর্কবার্তা দেন, যখন পার্লামেন্ট আইনপ্রণেতাদের এআই ব্যবহার নিয়ে নতুন নির্দেশিকা তৈরি করছে।
পার্লামেন্টে এআই ব্যবহার নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মেটসোলা বলেন, ‘এআইয়ের সাহায্যে কোনো সংশোধনীর খসড়া তৈরি করা সহকর্মীর সঙ্গে গঠনমূলক বিতর্ককে মৌলিকভাবে প্রতিস্থাপন করতে পারে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এআইয়ের সাহায্যে আইনি গবেষণা করাও শেষ পর্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বিচারবুদ্ধি ও সমালোচনামূলক চিন্তার বিকল্প হতে পারে না।’
মেটসোলা বলেন, আইন প্রণয়নে ‘গণতান্ত্রিক জবাবদিহি’ থাকতে হবে এবং তিনি যুক্তি দেন, ‘যেখানে এআই ব্যবহার করা হয়, সেখানে মানুষের তা জানা উচিত।’
তিনি বলেন, ‘এআই যেভাবেই ব্যবহার হোক না কেন, দায়িত্ব এখনো নির্বাচিতদেরই।’
একই অনুষ্ঠানে পার্লামেন্টের মহাসচিব আলেসান্দ্রো চিওক্কেত্তি জানান, সংবেদনশীল কাজের জন্য পার্লামেন্ট নিজস্ব এআই টুল তৈরি করছে, যা এর অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোতেই রাখা হবে।
এর আগে পলিটিকোর জুলাইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, কম সংবেদনশীল কাজে চ্যাটজিপিটি, ক্লদ ও মেটার লামার মতো বাণিজ্যিক এআই মডেল এখনো ব্যবহার করা যাবে।
পার্লামেন্টের কর্মকর্তারা এআই দিয়ে লেখা সংশোধনীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন, যার কোনো কোনোটিতে এমন আইনের উল্লেখ রয়েছে যার অস্তিত্বই নেই। চিওক্কেত্তি এক এমইপির ঘটনা উল্লেখ করেন, যিনি আইনি পরামর্শের জন্য এআইয়ের শরণাপন্ন হয়ে ভুল উত্তর পেয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের আইনজ্ঞদের শুধু চ্যাটজিপিটিকে ভুল প্রমাণ করতেই দুই দিন লেগেছিল।’
চিওক্কেত্তি জানান, প্রশাসন ‘খুব শিগগিরই’ ঊর্ধ্বতন নেতাদের কাছে এআই ব্যবহারের নতুন নির্দেশিকা জমা দেবে। কর্মীদের জন্য বিদ্যমান নির্দেশিকা ২০২৪ সালের।
নতুন নির্দেশিকার মূল কথা তিনটি বলে তিনি জানান: এআই ব্যবহার করলে তা প্রকাশ করতে হবে, যেমনটা নিয়মে বলা আছে; সংবেদনশীল কোনো তথ্য কখনো পাবলিক টুলে দেওয়া যাবে না; এবং সবকিছু ডেস্ক থেকে বের হওয়ার আগে যাচাই করতে হবে, কারণ তাতে নিজের নামই থাকে।
চিওক্কেত্তি আরও বলেন, হাজার হাজার সংশোধনী বাছাই করতে তিনি এআই ব্যবহার করতে চান। তবে আইনের খসড়া তৈরি ও বিবেচনার কাজ এমইপিদেরই হাতে থাকতে হবে, কারণ ‘রাজনৈতিক বিতর্ক কোনো চ্যাটবটের কাছে হস্তান্তর করে দেওয়ার ঝুঁকি সত্যিই রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যে প্রতিটি লেখায় ভোট দিই, তা মানুষের লেখা, যাচাই করা এবং রক্ষা করতে ইচ্ছুক হতে হবে। নতুন কোনো বিধি পড়ে যে কেউ যেন জানতে পারে কে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তাকে দায়ী করতে পারে।’


