স্পেনে নয় মাসে দুটি প্রাণঘাতী ট্রেন দুর্ঘটনা, রেলব্যবস্থার ওপর আস্থা ভেঙে পড়েছে বলে স্বীকার প্রধানমন্ত্রীর

স্পেনে নয় মাসের ব্যবধানে দুটি প্রাণঘাতী ট্রেন দুর্ঘটনার পর দেশটির রেলব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ নিজেই বলেছেন, উচ্চগতির রেলব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা ভেঙে পড়েছে।
গত বুধবার সকাল ৮টা ৫৩ মিনিটে কাস্তিয়া-লা মানচা অঞ্চলের ছোট শহর উরদার উপকণ্ঠে রাষ্ট্রীয় রেল কোম্পানি রেনফের একটি উচ্চগতির ট্রেন বেসরকারি কোম্পানি ইরিওর থেমে থাকা একটি ট্রেনের পেছনে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনায় ৬৯ জন নিহত হন এবং ১০০ জনের বেশি আহত হন।
এর আগে গত ১৮ জানুয়ারি মাদ্রিদ থেকে সেভিয়া যাওয়ার একই লাইনে আন্দালুসিয়ার আদামুজ শহরের কাছে ইরিওর একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয় এবং বিপরীত দিক থেকে আসা রেনফের একটি ট্রেন তাতে ধাক্কা দেয়। সেই দুর্ঘটনায় ৪৬ জন নিহত হন এবং অনেকে আহত হন।
উরদার দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের সাহায্যে রেললাইনের কাছে ছুটে যান। পৌরসভার হলগুলোকে দ্রুত জরুরি চিকিৎসাকেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়।
দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনের যাত্রীদের পরবর্তী গন্তব্যে পৌঁছে দিতে চার্টার্ড কোচের ব্যবস্থা করা হয়। সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের কারও কারও মাথায় ব্যান্ডেজ, কারও পোশাক ছেঁড়া বা রক্তমাখা ছিল।
ট্রেনে থাকা পেরুর নাগরিক জোসিমার মেদিনা তার ব্রাজিলীয় বান্ধবী ভিতোরিয়া মাইয়ার সঙ্গে ভ্রমণ করছিলেন। তিনি ধ্বংসাবশেষ থেকে অস্টিন নামে এক আমেরিকান যাত্রীকে মুক্ত করে ট্রেন থেকে বের করে আনেন; ওই আমেরিকান যাত্রী গুরুতর আহত ছিলেন বলে মেদিনা জানান।
স্পেনের বিস্তৃত ও আধুনিক উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক দীর্ঘদিন ধরে দেশটির জাতীয় গর্বের উৎস ছিল। পরপর দুটি দুর্ঘটনার পর সেই নেটওয়ার্ক আদৌ নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ গত সপ্তাহে বলেন, ‘উচ্চগতির ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা ভেঙে পড়েছে।’
সানচেজ ও তার সমাজতান্ত্রিক-নেতৃত্বাধীন জোট সরকার এখন সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে তৎপর। তবে কাজটি কঠিন, কারণ এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে দেশটিতে আগাম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবং দুর্ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ ও শোক এখনো তাজা।


