নতুন লেখকদের লন্ডনে থাকার জন্য ফ্ল্যাট দান করলেন ‘ফ্লিব্যাগ’ নির্মাতা ফিবি ওয়ালার-ব্রিজ

লন্ডনে বসবাস করে লেখালেখি চালিয়ে যাওয়া নতুন লেখকদের সহায়তায় নিজে কেনা একটি ফ্ল্যাট দান করেছেন জনপ্রিয় টিভি ধারাবাহিক ‘ফ্লিব্যাগ’-এর নির্মাতা ফিবি ওয়ালার-ব্রিজ। নাট্যাঙ্গনে শ্রেণিগত বাধা দূর করতে গড়ে ওঠা নতুন উদ্যোগ ‘রাইটার্স ব্লক’-এর জন্য তিনি বিশেষভাবে এই সম্পত্তিটি কিনেছেন।
এই ফ্ল্যাটটি দেওয়া হবে পিছিয়ে থাকা পটভূমি থেকে আসা লেখকদের, যাঁরা রাজধানীতে থাকার খরচ বহন করতে হিমশিম খান। ফ্ল্যাটে থাকা লেখকদের শুধু দৈনন্দিন বিলের খরচটুকু দিতে হবে। ফ্ল্যাটের পাশাপাশি ওয়ালার-ব্রিজ এই উদ্যোগে ‘উদার আর্থিক অনুদান’ও দিয়েছেন বলে উদ্যোগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আর্থিকভাবে এই উদ্যোগের পাশে দাঁড়িয়েছেন চিত্রনাট্যকার জ্যাক থর্নও, যিনি ‘অ্যাডোলেসেন্স’-এর সহ-নির্মাতা এবং ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য কার্সড চাইল্ড’-এর লেখক। নিজের শুরুর দিনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শুরুতে তিনি সৌভাগ্যবান ছিলেন, কারণ ক্রয়ডনে থাকা তাঁর ভাই পাঁচ বছর ধরে তাঁকে নিজের কাছে থাকতে দিয়েছিলেন।
জ্যাক থর্ন বলেন, অনেক লেখকের ক্ষেত্রে মাথার ওপর ছাদের প্রয়োজনের কারণেই লেখালেখি অসম্ভব হয়ে ওঠে, আর সে কারণেই এই পাইলট উদ্যোগটি এত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ভাষায়, এই জটিল পৃথিবী নিয়ে গল্প বলতে হলে সব ধরনের পটভূমি থেকে আসা লেখকদেরই লিখতে হবে।
উদ্যোগটির অন্য সমর্থকদের মধ্যে আছেন নাট্যকার ও চিত্রনাট্যকার জেমস গ্রাহাম, যিনি ‘ইঙ্ক’, ‘কুইজ’ ও ‘ডিয়ার ইংল্যান্ড’-এর লেখক; ‘হ্যাপি ভ্যালি’র নির্মাতা স্যালি ওয়েনরাইট; ‘দ্য ক্রাউন’-এর পিটার মরগান; এবং ওয়ালার-ব্রিজের সঙ্গী মার্টিন ম্যাকডোনা, যিনি ‘দ্য ব্যানশিজ অব ইনিশেরিন’ ও ‘থ্রি বিলবোর্ডস আউটসাইড এবিং, মিসৌরি’ ছবির লেখক ও পরিচালক।
সাটন ট্রাস্ট ও ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রিজ পলিসি অ্যান্ড এভিডেন্স সেন্টারের গবেষণায় দেখা গেছে, সৃজনশীল শিল্পে কর্মরতদের মাত্র ১৬ শতাংশ শ্রমজীবী পটভূমি থেকে এসেছেন। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, এই খাতে শ্রেণিগত ভারসাম্যহীনতা অন্য যেকোনো খাতের তুলনায় বেশি প্রকট।
জেমস গ্রাহাম বলেন, প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর জরুরি চেষ্টার মধ্যেও শিল্পটি সবচেয়ে বড় অপ্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রটিকেই উপেক্ষা করছে, আর সেটি হলো শ্রেণি। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, লন্ডনে প্রথম আসার পর তিনি বন্ধুদের মেঝেতে ঘুমিয়েছেন, আর লেখার পাশাপাশি কল সেন্টার ও বারে কাজ করেছেন।
‘রাইটার্স ব্লক’ উদ্যোগটি গড়ে উঠেছে ‘অ্যাডপ্ট আ প্লে রাইট অ্যাওয়ার্ড’ থেকে, যা ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সোফি মেসন ও ডায়ানা জার্ভিস-রিড। এর উদ্দেশ্য ছিল বৈঠক, রিহার্সাল, মঞ্চায়ন ও কর্মজীবনের সুযোগের জন্য লন্ডনে থাকা প্রয়োজন এমন লেখকদের সাশ্রয়ী আবাসন দেওয়া।
এই কর্মসূচির আওতায় লন্ডনবাসীদের অতিরিক্ত কক্ষ কম ভাড়ায় দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়, যেখানে ভাড়ার সীমা রাতপ্রতি ৩০ পাউন্ড বা মাসে ৫০০ পাউন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৫টি বাড়ি এই কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে এবং ১২ জন লেখক এক রাতের অবস্থান থেকে দীর্ঘমেয়াদি থাকা পর্যন্ত আবাসন পেয়েছেন।
আয়োজকদের মতে, একা বসবাসকারী প্রবীণ ব্যক্তিদের কাছেও এই কর্মসূচি আকর্ষণীয় হতে পারে, যাঁরা সঙ্গ ও বাড়তি আয় পেতে চাইলেও অপরিচিতদের কাছে কক্ষের বিজ্ঞাপন দিতে স্বস্তি বোধ করেন না।


