কমিউনিস্ট আমলের গোপন পুলিশের নথি জনসমক্ষে প্রকাশ করল হাঙ্গেরি, তালিকায় প্রায় ৬০ হাজার নাম

হাঙ্গেরি কমিউনিস্ট আমলের গোপন পুলিশের নথি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করেছে। সরকার বলছে, ৪৫ বছরের কমিউনিস্ট শাসনের আঘাত কাটিয়ে সমাজকে সেরে উঠতে এই পদক্ষেপ সাহায্য করবে।
বুধবার নথিগুলো প্রকাশ করা হয়। এটি ছিল প্রধানমন্ত্রী পেতের মাগিয়ারের নির্বাচনী প্রচারের প্রতিশ্রুতির অংশ।
প্রকাশের তারিখটি প্রতীকীভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে। ১৯৫৬ সালের ৪ নভেম্বর হাঙ্গেরির স্বল্পস্থায়ী বিপ্লব দমন করতে বুদাপেস্টসহ বিভিন্ন শহরের রাস্তায় নেমেছিল সোভিয়েত ট্যাংক।
বুদাপেস্টের রাষ্ট্রীয় আর্কাইভে সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রী পেতের মাগিয়ার বলেন, ‘সবাইকে অনুরোধ করছি, দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া থাকা এই নথি প্রকাশকে মর্যাদা ও মানবিকতার সঙ্গে গ্রহণ করুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক পরিবার এখন কঠিন তথ্যের মুখোমুখি হবে, যার অনেকটাই প্রয়াত কোনো আত্মীয়কে নিয়ে। আলোচনা ও প্রশ্ন ছাড়া কোনো আঘাত প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব নয়।’
মাগিয়ারের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৮৯ সালে হাঙ্গেরিতে কমিউনিস্ট পার্টিকে ক্ষমতাচ্যুত করা ব্যক্তিদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এই প্রকাশ। এর আগের দশকগুলোতে রক্ষণশীল, সমাজতান্ত্রিক-উদার ও ফিদেস-নেতৃত্বাধীন সরকারগুলো নথি খোলার কথা ভাবলেও শেষ পর্যন্ত তা করেনি।
১৯৯৮ সাল থেকে নিজের নথির জন্য আবেদন করা এবং ইতিহাসবিদদের অন্যের নথি নিয়ে গবেষণা করা সম্ভব ছিল। তবে অনেক নাম কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল এবং কমিউনিস্ট-পরবর্তী গোপন সংস্থাগুলো নিজেদের কাজে ব্যবহারের জন্য অনেক নথি আটকে রেখেছিল।
গত ৩৬ বছরে এই নথি থেকে তথ্য ফাঁস হয়েছে বারবার, যখন ধারাবাহিক সরকারগুলো প্রতিপক্ষকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চেয়েছে। ১৯৮৮-৮৯ সালে কমিউনিস্ট পার্টি ক্ষমতা হারাতে শুরু করলে অনেক নথি ছিঁড়েও ফেলা হয়।
বুধবার থেকে কমিউনিস্ট আমলের গোপন সংস্থাগুলোর হয়ে কাজ করা প্রায় ৬০ হাজার মানুষের নাম ও ব্যক্তিগত তথ্য nyitottaktak.hu ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে। ‘ফর্ম ৬’ কার্ড প্রকাশ করা হয়েছে; নিয়োগের বিস্তারিত নথি ‘বি-ডসিয়ে’ আসছে আগামী ফেব্রুয়ারিতে।
প্রতিটি নথিতে তথ্যদাতার আসল নাম, সাংকেতিক নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা ও মায়ের নামের পাশাপাশি নিয়োগের কারণ—স্বেচ্ছায় নাকি ব্ল্যাকমেইল বা জবরদস্তির মাধ্যমে—এবং তার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম রয়েছে।
ধারণা করা হয়, ১৯৪৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৯৯০ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাঙ্গেরিতে দেড় থেকে এক লাখ ষাট হাজার মানুষকে তথ্যদাতা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। অনেককে চাকরি বা পড়াশোনার সুযোগ হারানোর, ওষুধ না পাওয়ার কিংবা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তথ্য ফাঁসের হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছিল; এসব অন্তরঙ্গ বিবরণ বর্তমান প্রকাশ থেকেও সতর্কভাবে বাদ দেওয়া হবে।
ইতিহাসবিদ ক্রিস্তিয়ান উনগভারি দীর্ঘদিন ধরে নথির পূর্ণ প্রকাশের পক্ষে আন্দোলন করে আসছেন। তার মতে, রাষ্ট্র নাগরিকের বিরুদ্ধে কী তথ্য রেখেছে, তা জানা নাগরিকের অধিকার এবং এটি ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।
অন্যদিকে এই পদক্ষেপের বিরোধী ইতিহাসবিদ ও কট্টর ডানপন্থী ‘আওয়ার হোমল্যান্ড’ দলের এমইপি জুজসান্না বোরভেনদেগ হাঙ্গেরির গণমাধ্যমকে বলেছেন, নিয়োগের পরিস্থিতি ও কর্মকাণ্ড পুরোপুরি ব্যাখ্যা না করে শুধু তথ্যদাতাদের নাম প্রকাশ করলে জনগণ বিভ্রান্ত হতে পারে।




