যুক্তরাজ্যে শরণার্থীদের ৩০ বছর অপেক্ষার পরিকল্পনায় ‘গভীর উদ্বেগ’ জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার

যুক্তরাজ্যে শরণার্থীদের বসতি স্থাপনের অনুমতি পেতে সর্বোচ্চ ৩০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে—সরকারের এমন পরিকল্পনা নিয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর। সংস্থাটি বলেছে, এই পরিকল্পনা শরণার্থীদের জন্য ‘ক্ষতিকর হওয়ার সম্ভাবনা’ রয়েছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এই কৌশলটি প্রকাশ করেন। তিনি তাঁর অভিবাসন পরিকল্পনার কিছু দিক নরম করলেও গত বছর তাঁর দপ্তরের তৈরি করা কঠোর নিয়মগুলোর কয়েকটি বহাল রেখেছেন।
নতুন পরিকল্পনায় পরিচর্যা কর্মীদের জন্য ছাড় রাখা হয়েছে—তাঁরা পাঁচ বছর পর অনির্দিষ্টকাল থাকার অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে ছোট নৌকাসহ অনিয়মিত পথে আসা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০ বছর অপেক্ষার নিয়মটি বহাল রাখা হয়েছে।
কিছু শরণার্থী কাজ বা পড়াশোনায় যুক্ত হলে এই ৩০ বছরের সর্বোচ্চ সীমা কমাতে পারবেন। তবে নিরাপদ ও বৈধ পথের বদলে ছোট নৌকা বা লরিতে লুকিয়ে আসা ব্যক্তিদের জন্য ১০ বছরের অতিরিক্ত জরিমানা ধার্য রয়েছে। সরকার বৈধ পথগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে, আর ঘোষিত নতুন বৈধ পথগুলোও আশ্রয়প্রার্থীদের খুব সামান্য অংশই ব্যবহার করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।
বৈধ পথগুলোকে স্বাগত জানিয়ে ইউএনএইচসিআর বলেছে, শরণার্থীদের জন্য বসতি স্থাপনের যোগ্যতা অর্জনের সময়সীমা বাড়ানো গভীর উদ্বেগের বিষয়, বিশেষ করে যখন এর সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি থাকার ব্যবস্থা এবং গত বছরের এমন পরিবর্তন যুক্ত হচ্ছে, যা অনেককে নাগরিকত্ব পাওয়া থেকেই চিরতরে বঞ্চিত করতে পারে।
সংস্থাটির ভাষায়, এই পদক্ষেপগুলো একসঙ্গে শরণার্থীদের নিরাপত্তা, অন্তর্ভুক্তি ও স্থিতিশীলতার অনুভূতি এবং নতুন সমাজে অবদান রাখা ও তার অংশ হয়ে ওঠার সক্ষমতার জন্য ক্ষতিকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইউএনএইচসিআর আরও বলেছে, ‘শরণার্থীরা অভিবাসী নন: তাঁরা নিজ দেশ থেকে পালিয়েছেন, কারণ সেখানে তাঁরা নিজ দেশের সুরক্ষার ওপর নির্ভর করতে পারেন না কিংবা নিরাপদে ফিরতেও পারেন না। শরণার্থীদের জন্য নিরাপত্তা মানে শুধু আশ্রয় পাওয়া নয়, বসতি স্থাপনেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।’
হেলেন ব্যাম্বার ফাউন্ডেশনের নীতি পরিচালক কামেনা ডরলিংও ৩০ বছরের নিয়মটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘অর্জিত বসতি’ সংক্রান্ত সরকারের এই ঘোষণায় তাঁরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও হতাশ; এটি নির্যাতন, পাচারসহ চরম নিষ্ঠুরতার শিকার ব্যক্তিদেরসহ শরণার্থীদের গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করবে।
ডরলিং বলেন, বসতির যোগ্যতা অর্জনের সময়সীমা বাড়ানো ‘সহজভাবে অমানবিক’। তাঁর মতে, এটি যুদ্ধ, নিপীড়ন, নির্যাতন ও সহিংসতা থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসা মানুষদের থামাতে পারবে না; বৈধ পথ এতটা সীমিত থাকলে মানুষ নিরাপত্তার খোঁজে মরিয়া পদক্ষেপ নিতেই থাকবে।
তিনি আরও বলেন, এই নীতি ইতিমধ্যে কল্পনাতীত ক্ষতির শিকার মানুষদেরই শাস্তি দেবে, আর শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃত ব্যক্তিদের ফেলে রাখবে কয়েক দশকের অনিশ্চয়তা, অনিরাপত্তা ও ভয়ের মধ্যে।




