নিরাপত্তার অভিযোগে ডিজিই পেকে জাতীয় পেমেন্ট সুইচ থেকে বিচ্ছিন্ন করল বাংলাদেশ ব্যাংক

নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ ও ভারত থেকে সার্ভারে তথ্য প্রবেশাধিকারের (অ্যাকসেস) অভিযোগে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ডিজিই পেকে ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ২৯ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নেয়।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি দল ডিজিই পের অফিসে নিরীক্ষার জন্য যায়। নিরীক্ষা শেষে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ওই দিনই ডিজিই পেকে এনপিএসবি থেকে বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
ডিজিই পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাশেদ মাহমুদ জানান, এনপিএসবি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি তাঁরা গণমাধ্যম সূত্রে জানতে পেরেছেন। অডিট চলাকালে বা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক লিখিত বা মৌখিকভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কিছু জানায়নি বলে তিনি জানান। তবে এনপিএসবিভিত্তিক লেনদেন ছাড়া অন্যান্য সেবা চালু রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান প্রথম আলোকে বলেন, এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এসেছে। এ জন্য জাতীয় লেনদেনব্যবস্থায় তাদের যুক্ত রাখা নিরাপদ নয়। তাদের নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং এরপরই তাদের লাইসেন্স নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে তিনি জানান।
ডিজিই পের সিইও রাশেদ মাহমুদ বলেন, মূলত ভারতে অবস্থানরত তাদের ডেভেলপমেন্ট টিম নিয়ে আপত্তি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের দল অডিট শেষে তাদের মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের সিস্টেমে একটি ডেভেলপমেন্ট ও হ্যান্ডওভার প্রক্রিয়া চলছিল। ভেন্ডর হিসেবে একটি ভারতীয় কোম্পানি কাজ পেয়েছে। ডেভেলপমেন্টের কাজের জন্য তাদের ন্যূনতম অ্যাকসেস দেওয়া না হলে তারা কাজ করবে কীভাবে—এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাশেদ মাহমুদ জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ দেশের অনেক সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকেও ভারতীয় ভেন্ডর দিয়ে অপারেশন পরিচালনা করা হয়। তারপরও নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক যেভাবে চেয়েছে, সে অনুযায়ী গত সোমবার রাতেই ভারতীয় ডেভেলপমেন্ট টিমের কাছ থেকে সিস্টেমের দায়িত্ব ও হ্যান্ডওভার বুঝে নিয়েছে ডিজিই পে। ফলে চলমান ডেভেলপমেন্ট কাজ আপাতত আটকে গেছে, কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের আপত্তির জায়গাটি তারা মিটিয়েছে বলে তিনি জানান।
এনপিএসবি হলো বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত কেন্দ্রীয় পেমেন্ট নেটওয়ার্ক, যা দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রিয়েল-টাইম ডিজিটাল লেনদেনের জন্য যুক্ত করে।
ডিজিই-পে সার্ভিসেস লিমিটেড ২০২৩ সালের আগস্টে পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স পায়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত ৬০০ থেকে ১,০০০ মার্চেন্টকে সেবা দিয়ে আসছে। ডিজিই পে দীপণ গ্রুপের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান।




