নিখোঁজ চার সেনা সদস্যের খোঁজে হাইতিতে ২ হাজার সেনা পাঠালেন বুকেলে, গ্যাং নেতাদের হুঁশিয়ারি ‘শেষ করে দেওয়ার’

এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নাইব বুকেলে হাইতির অপরাধী গ্যাংগুলোর উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাঁর বাহিনী এল সালভাদরে গ্যাংদের যেভাবে শেষ করেছে, হাইতিতেও তাদের সেভাবে শেষ করতে পারে। হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের কাছে হামলার পর নিখোঁজ চার সালভাদরীয় সামরিক বিমান প্রযুক্তিবিদের খোঁজে তিনি দেশটিতে ২ হাজার সেনা পাঠিয়েছেন।
বুকেলে সামাজিক মাধ্যম এক্সে হাইতির অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর উদ্দেশে লিখেছেন, ‘আমরা এল সালভাদরে ইতিমধ্যে গ্যাংদের শেষ করেছি, তোমাদেরও শেষ করতে পারি।’ তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এই অভিযানের উদ্দেশ্য হাইতিতে আক্রমণ বা দীর্ঘমেয়াদি দখল নয়; উদ্দেশ্য হলো নিখোঁজ চার সালভাদরীয়কে জীবিত উদ্ধার করা।
নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি ঘটে গত ১৮ অক্টোবর। ওই চার প্রযুক্তিবিদ হাইতিতে জাতিসংঘ-সমর্থিত গ্যাং দমন বাহিনীর (জিএসএফ) একটি মেডিকেল ইউনিটে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পোর্ট-অ-প্রিন্সের কাছে ক্রোয়া-দে-বুকে এলাকায় তাঁদের সাঁজোয়া যান হামলার শিকার হয়, এরপর থেকে তাঁদের আর খোঁজ পাওয়া যায়নি।
হাইতির জাতীয় পুলিশ মঙ্গলবার জানিয়েছে, হামলার দুই সপ্তাহের বেশি সময় পর তারা ক্রোয়া-দে-বুকের সান্তো এলাকায় ওই যানটির পোড়া ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেয়েছে। তবে পুলিশ বলেছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের কোনো চিহ্ন সেখানে পাওয়া যায়নি।
চারজনের অবস্থা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য এসেছে। এল সালভাদর বলছে, তাঁদের অপহরণ করা হয়েছে; হাইতির সরকার বলছে, সেনারা নিখোঁজ; আর একজন গ্যাং নেতার দাবি, তাঁরা মারা গেছেন।
মঙ্গলবার হাইতির জনগণের উদ্দേശে হাইতিয়ান ক্রেওল ভাষায় এক্সে লেখা আরেকটি বার্তায় বুকেলে স্মরণ করেন জ্যঁ-জ্যাক দেসালিনকে, যিনি ১৮০৪ সালে ফ্রান্স থেকে হাইতির স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন এবং যাঁকে অনেকে হাইতির প্রতিষ্ঠাতা মনে করেন; ১৮০৬ সালে তিনি হত্যার শিকার হন। বুকেলে লিখেছেন, ‘দেসালিন হাইতিকে মুক্ত করেছিলেন, কিন্তু তাঁর পাশে থাকা কিছু মানুষ তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে তাঁকে হত্যা করেছিল। সেই বিশ্বাসঘাতকেরা হাইতিতে এখনো আছে।’
বুকেলে ক্রোয়া-দে-বুকে এলাকায় একটি হেলিকপ্টার অভিযানের ভিডিওও পুনঃপ্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, গ্যাং সদস্যরা চাদের জিএসএফ সেনাদের ওপর হামলা করছিল; তাঁর বাহিনী দ্রুত পৌঁছে আক্রমণ হেলিকপ্টার দিয়ে হামলাকারীদের প্রতিহত করেছে।
এই মোতায়েনে বুকেলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েছেন। হ্যালোইনে মার-আ-লাগোতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প নিশ্চিত করেন, তিনি সালভাদরীয় প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি বললেন, হাইতি নিয়ে তাঁর বড় সমস্যা হয়েছে। তারা তাঁর কয়েকজন লোককে হত্যা করেছে। আমি বললাম, তুমি তোমার দেশ চালাচ্ছ। তোমাকে যা করতে হয়, তা-ই করতে হবে।’
আগের বিদেশি হস্তক্ষেপগুলোর সঙ্গে এবারের পার্থক্য হলো, বুকেলের এই মোতায়েন হাইতির অন্তর্বর্তী সরকারের সমর্থন পেয়েছে। মঙ্গলবার মোতায়েন নিয়ে প্রথমবার মন্তব্য করে হাইতির প্রধানমন্ত্রী দিদিয়ে ফিলস-আইমে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাহিনী এখানে রাষ্ট্রের বিকল্প হতে আসেনি। তারা আমাদের সমর্থন করতে এসেছে।’ তিনি আরও বলেন, বুকেলে ‘আমাদের লড়াই বোঝেন’ এবং ‘তিনি হাইতির জনগণের পাশে দাঁড়াতে এসেছেন।’
নিখোঁজ চারজনকে জীবিত ফেরত না দেওয়া হলে অত্যাধিক শক্তি প্রয়োগের প্রস্তুতির কথা বুকেলে আগেই জানিয়ে রেখেছেন, ফলে হাইতিতে সালভাদরীয় বাহিনীর এই অভিযান এখন তাঁর সরকারের জাতীয় অগ্রাধিকারে পরিণত হয়েছে।




