পদ্মা অয়েলের ডিপো থেকে প্রায় ১ লাখ লিটার জেট ফুয়েল উধাও, ব্যবস্থাপককে বাধ্যতামূলক অবসর

বিমানবন্দরে উড়োজাহাজের জ্বালানি সরবরাহের দায়িত্বে থাকা পদ্মা অয়েলের ডিপো থেকেই ধাপে ধাপে গায়েব হয়েছে জেট ফুয়েল। গত ১১ মার্চ ঢাকায় ৭২ হাজার লিটার, ১৮ মে চট্টগ্রামে ৯ হাজার লিটার এবং সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জে সাড়ে ১৬ হাজার লিটার জ্বালানি পাচারের ঘটনায় সামনে এসেছে বড় ধরনের অনিয়মের চিত্র।
তিন ঘটনায় প্রায় ১ লাখ লিটার জেট ফুয়েল উধাও হয়েছে, যার বাজারমূল্য ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এসব ঘটনায় একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি এক ডিপো ব্যবস্থাপককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। চট্টগ্রামের ঘটনায় শাহ আমানত বিমানবন্দরের ডিপোর ইনচার্জকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পদ্মা অয়েল পিএলসির অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ১১ মার্চ পদ্মা অয়েলের নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপো থেকে চারটি লরি ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল (জেট এ-১) নিয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কুর্মিটোলা এভিয়েশনে যাওয়ার সময় তা পাচার করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিবন্ধন বইয়ে লরিগুলোর ঢোকার ও বের হওয়ার সময় লেখা আছে। জেট ফুয়েল গ্রহণের নথিতেও রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সই। তবে বাস্তবে লরিগুলো ডিপোতে ঢোকেনি। অর্থাৎ ৭২ হাজার লিটার তেল গায়েব করে দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোদনাইল ডিপো থেকে জেট ফুয়েল নিয়ে ট্যাংকলরি কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোতে পৌঁছায়। এরপর প্রতিটি গাড়ির তথ্য প্রধান ফটকে থাকা নিবন্ধন বইয়ে সংরক্ষণ করা হয়। নির্দিষ্ট কর্মকর্তা গাড়ির প্রতিটি চেম্বারের ডিপ বা গভীরতা মেপে জ্বালানির পরিমাণ নিশ্চিত করেন। এভিয়েশন ফুয়েল স্টক ট্রান্সফার অ্যাডভাইস নোট এবং রিলিজ সার্টিফিকেটে (এএসটিআর) সই করে তেল গ্রহণ দেখানো হয়।
পদ্মা অয়েলের জেনারেল ম্যানেজার (মানবসম্পদ) মীর মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন দফায় দফায় জেট ফুয়েল পাচারের ঘটনা স্বীকার করে বলেন, ‘এসব বিষয়ে আমরা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোর ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যবস্থাপক সায়েদুল হককে বাধ্যতামূলক অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পাশাপাশি পাচারকৃত ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েলের মূল্য ফেরত দিতে বলা হয়েছে।’
জেনারেল ম্যানেজার আরও জানান, ওই ঘটনার পর সাইদুল হক, ছমীর উদ্দিন, আকতার কামাল, শওকত হোসেন ও মানিক কুমার রায়কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বাধ্যতামূলক অবসর ও জেট ফুয়েল গায়েবের বিষয়ে জানতে সায়েদুল হকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি।
গত শনিবার নারায়ণগঞ্জে সাড়ে ১৬ হাজার লিটার জেট ফুয়েল জব্দের সময় লরিচালক সাগর হোসেনকে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকেসহ হেলপার দ্বীন ইসলাম (৫২) ও লরির মালিক ইয়ার হোসেন ভূঁইয়াকে (৫০) আসামি করে মামলা করা হয়। মামলায় আরও দুজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি এমদাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়ে ইতিমধ্যে পদ্মা অয়েলের শাহ আমানত বিমানবন্দরের ইনচার্জ মো. সোহেল ইদ্রিস এবং পদ্মা অয়েলের গাড়িচালক মো. জসিম উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
পদ্মা অয়েলের জেনারেল ম্যানেজার ফখরুদ্দিন জানান, চট্টগ্রামে জেট ফুয়েল পাচারের ঘটনায় ডিপো ইনচার্জ সোহেল ইদ্রিসকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।




