অবৈধ অভিবাসন সবচেয়ে বেশি হয় এমন ১৪ জেলা চিহ্নিত করা হয়েছে: শামা ওবায়েদ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, দেশের ১৪টি জেলা চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখান থেকে সবচেয়ে বেশি অবৈধ অভিবাসন হয়। ওইসব জেলার জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। তাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে ‘বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ককাস অন মাইগ্রেশন, রাইটস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ককাসটি গঠিত হয়েছে অভিবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার সুরক্ষা, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই উন্নয়নে সংসদীয় ভূমিকা জোরদার করতে।
শামা ওবায়েদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ইতালি ও লিবিয়ার রাষ্ট্রদূত এবং প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক সভা করা হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা হচ্ছে। সামাজিক আন্দোলনের উদ্দেশ্য হবে যাতে সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে নিতে না পারে এবং জেলা-উপজেলা ও থানা পর্যায়ে লুকিয়ে থাকা দালালচক্রকে চিহ্নিত করা যায়।
অবৈধ অভিবাসন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর থেকে অনেক মানুষ অবৈধ পথে ইউরোপে যায়। ভূমধ্যসাগর হয়ে লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করে। মাঝ সাগরে তাদের ফেলে দেওয়া হয়, মৃত্যু হয়। যারা পৌঁছায়, তারাও বিপর্যস্ত অবস্থায় পড়ে।
মাইগ্রেশন খরচ প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, এই খরচ কমাতে হবে। পার্শ্ববর্তী দেশ নেপাল থেকে বিদেশে যেতে দেড় থেকে দুই লাখ টাকার বেশি লাগে না। অথচ বাংলাদেশে দালালচক্রের কারণে বৈধ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাধারণ মানুষ ১৫ থেকে ২৫ লাখ টাকা খরচ করে জমি-জমা বিক্রি করে বিদেশে যাচ্ছে। অনেকে কাজ পাচ্ছে, অনেকে প্রতারিত হয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে। তাঁর ভাষায়, এই জায়গাটা সরকারকে মোকাবিলা করতে হবে।
তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে, সরকার গঠনের পর থেকে নানা সমস্যা তাঁর কাছে আসছে, বিশেষ করে সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে। রাশিয়া ও উপসাগরীয় দেশসহ বিভিন্ন দেশে প্রবাসীদের সমস্যার কথা যেমন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আসে, তেমনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও আসে। তিনি জানান, প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি মাইগ্রেশন উইং খোলা হয়েছে; এই উইং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিএনপি সরকারের ইশতেহারের প্রধান লক্ষ্য দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থান তৈরি। সেটা করতে হবে দক্ষতা উন্নয়ন ও দক্ষ অভিবাসনের মাধ্যমে। সরকার নিরাপদ অভিবাসন চায়। একই সঙ্গে ভাষাগত দক্ষতার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। চীনা, জাপানি, আরবিসহ যে দেশে যাওয়া হবে, সে দেশের ভাষা শিখে গেলে কাজের নিশ্চয়তা বাড়বে। এ জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারগুলো সংস্কার করা হচ্ছে।
প্রবাসী খাত নিয়ে তিনি বলেন, এই খাতের প্রতি বিএনপির আলাদা অনুভূতি কাজ করে, কারণ এই খাতটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত দিয়ে শুরু হয়েছিল। তিনি বলেন, প্রবাসীদের কল্যাণ নিয়ে কথা বলা হয় রাজনৈতিকভাবে নয়, মন থেকে।
শামা ওবায়েদ আরও বলেন, বহু বছর পর বাংলাদেশ একটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত, জনগণের কাছে দায়বদ্ধ পার্লামেন্ট পেয়েছে। এই পার্লামেন্ট বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। আর তাই সব দল ও সব মত মিলেই প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের কল্যাণ ও উন্নয়নে কাজ করবে।




