দুবার পিছিয়ে পড়েও এথেন্সে জিতল রিয়াল, যোগ করা সময়ে ভালভের্দের গোলে এইকের স্বপ্নভঙ্গ

একবার নয়, ম্যাচে দুবার এগিয়ে গিয়েছিল এইকে এথেন্স। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে একবার জুড বেলিংহাম, আরেকবার কিলিয়ান এমবাপ্পে ফেরান সমতা। শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ফেদে ভালভের্দের জোরালো শটে লিগ পর্বের ম্যাচটি ৩-২ গোলে জিতল রিয়াল মাদ্রিদ। সাত মৌসুম পর চ্যাম্পিয়নস লিগে ফেরা গ্রিক ক্লাবটির জন্য সমতাও হতে পারত সান্ত্বনার অর্জন; ভালভের্দের গোল সেই সম্ভাবনা কেড়ে নিল।
ম্যাচের শুরু থেকেই রিয়ালকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে খেলেছে এইকে। পাঁচ মিনিটে মিজাত গাচিনোভিচের শট ঠেকিয়ে দেন রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। সাত মিনিট পর আর রক্ষা হয়নি: লুকা ইয়োভিচের পাস পেয়ে রিয়ালের ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়াকে কাটিয়ে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে এইকেকে এগিয়ে দেন আবুবাকারি কোইতা। প্রথমার্ধে ইয়োভিচের একটি শটও ঠেকাতে হয়েছে কোর্তোয়াকে।
৩২ মিনিটে সমতায় ফেরে রিয়াল। বাঁ দিক থেকে কুকুরেয়ার বাড়ানো বল বক্সে পেয়ে ফ্লিকে জালে পাঠান জুড বেলিংহাম; চ্যাম্পিয়নস লিগে এই মৌসুমে এটি ইংলিশ মিডফিল্ডারের প্রথম গোল। বিরতির আগে বেলিংহাম আরও একবার বল জালে পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল রিয়াল, কিন্তু গোলের দেখা প্রথমে পায় এইকে। ৭৫ মিনিটে কোইতার পাস ধরে বক্সে ঢুকে নিচু শটে কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন স্টাভরোস পিলিওস। তবে সেই আনন্দ তিন মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়নি। ৭৮ মিনিটে বেলিংহামের পাস ধরে ডান দিক দিয়ে ওঠা ডেনজেল ডামফ্রিসের বাড়ানো বল কাছ থেকে জালে ঠেলে সমতা ফেরান এমবাপ্পে।
এ নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়ালের হয়ে টানা ছয় ম্যাচে গোল করলেন এমবাপ্পে, যা এই প্রতিযোগিতায় তাঁর ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ টানা গোলের রেকর্ড। চ্যাম্পিয়নস লিগে ১০০ গোলে অবদান রাখতে এমবাপ্পের লেগেছে মাত্র ১০২ ম্যাচ—৭৪ গোল ও ২৬ অ্যাসিস্ট। এই মাইলফলকে পৌঁছাতে তাঁর চেয়ে কম ম্যাচ খেলেছেন শুধু লিওনেল মেসি (১০১ ম্যাচ); রবার্ট লেভানডফস্কিও ১০২ ম্যাচে একই মাইলফলকে পৌঁছেছেন।
শেষ দিকে জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে দুই দলই। ৮৬ মিনিটে এমবাপ্পের একটি শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। কিন্তু যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে বদলি হিসেবে নামা ভালভের্দে বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের শটে বল জালে পাঠালে নিশ্চিত হয় রিয়ালের নাটকীয় জয়।
এই জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে শতভাগ জয়ের ধারা ধরে রাখল রিয়াল। চার ম্যাচে চার জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থানীয় দলগুলোর সঙ্গে অবস্থান করছে তারা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা সাত ম্যাচ জিতল জোসে মরিনিওর দল।



