নতুন অর্থায়নকারী সরে দাঁড়ানোয় ধসের মুখে এলআইভি গলফ, শুরু হতে পারে অবসায়ন

সৌদি-সমর্থিত এলআইভি গলফ লিগের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। লন্ডনভিত্তিক বেসরকারি ইকুইটি প্রতিষ্ঠান বিসি পার্টনারস ‘এলআইভি ২.০’ নামের পুনর্গঠন পরিকল্পনায় অর্থায়নের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের আগ্রহ ও প্রতিশ্রুতির অভাবই বিসি পার্টনারসের এই সিদ্ধান্তের কারণ। দি অ্যাথলেটিক জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি আর মনে করে না এলআইভি একটি টেকসই লিগ গড়তে পারবে, ফলে লিগটি এখন ধীরে ধীরে গুটিয়ে নেওয়ার পথে এগোচ্ছে।
এর আগে এপ্রিলে সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ) এলআইভিতে অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়, দেশের ভেতরের প্রকল্পে অর্থ সরিয়ে নেওয়া এবং ইরানের সঙ্গে আঞ্চলিক যুদ্ধের আর্থিক চাপ সামলানোর কথা বলে। সেই সিদ্ধান্তের পর পিআইএফের গভর্নর ইয়াসির আল-রুমাইয়ান এলআইভির বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেন।
সেপ্টেম্বরে নিউ জার্সিতে দেউলিয়াত্ব সুরক্ষার (চ্যাপ্টার ১১) আবেদন করে এলআইভি। ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে লিগটি আনুমানিক ৫০০ থেকে ৮০০ কোটি ডলার খরচ করেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
দেউলিয়াত্বের নথি অনুযায়ী, জন রাম, ব্রাইসন ডিশ্যাম্বো, ডাস্টিন জনসন ও ক্যাম স্মিথসহ শীর্ষ খেলোয়াড়দের লাখ লাখ ডলার অপরিশোধিত পারিশ্রমিক বকেয়া রয়েছে লিগটির।
লিগটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছিল প্রস্তাবিত ‘এলআইভি ২.০’ পুনর্গঠন পরিকল্পনার ওপর। তবে রাম বলেছেন, ২.০-এর শর্ত তাঁর কাছে ‘অগ্রহণযোগ্য’ এবং তিনি এতে অংশ নেবেন না। টাইরেল হ্যাটন, লুই উস্টহুইজেন ও সার্জিও গার্সিয়াসহ আরও অনেকে পরে একই পথ নিয়েছেন।
দি অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউ জার্সির দেউলিয়াত্ব আদালতে বৃহস্পতিবারের শুনানি থেকে অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এলআইভি ইতোমধ্যে তাদের পরিচালন কর্মীদের বেশিরভাগকে ছাঁটাই করেছে, ইভেন্ট ঠিকাদারেরা পাওনার অপেক্ষায় আছেন, এবং প্রিমিয়ার গলফ লিগের একটি মামলার মুখে রয়েছে লিগটি — যেখানে গোপনীয়তা ভঙ্গ ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।
পিআইএফ অর্থায়ন তুলে নেওয়ার পরপরই এলআইভির প্রধান নির্বাহী স্কট ও'নিল বলেছিলেন, লিগের সূচি বদলাবে না। তবে তা হয়নি — মূল সূচির চ্যাম্পিয়নশিপ সপ্তাহান্ত বাতিল হয়ে এক সপ্তাহ আগে খেলতে হয়েছে।
ইউরোপভিত্তিক অনেক গলফার এলআইভি ছেড়ে ডিপি ওয়ার্ল্ড ট্যুরে ফিরছেন। রাইডার কাপে খেলতে হলে ইউরোপীয়দের এই ট্যুরের সদস্য হতে হয়।
ব্রুকস কোয়েপকা গত বছর প্রথম বড় নাম হিসেবে এলআইভি ছেড়ে পিজিএ ট্যুরে ফিরেছিলেন, পরে প্যাট্রিক রিডও একই পথ নেন। এবার দুই অর্থায়নকারীর সরে দাঁড়ানোসহ এই চলে যাওয়ার ঢেউ এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।




