সাফে বাংলাদেশকেই সবচেয়ে শক্তিশালী দল বললেন ভারতের কোচ নওশাদ মুসা, ফাইনালে দেখা হওয়ার আশা

ঢাকায় শুরু হতে যাওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশকেই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে অভিহিত করেছেন ভারতের কোচ নওশাদ মুসা। সাফ খেলতে ঢাকায় পা রাখার পর তিনি বলেছেন, তার বিবেচনায় এই মুহূর্তে বাংলাদেশই আসরের সবচেয়ে শক্তিশালী দল, এবং ফাইনালে তাদের মুখোমুখি হওয়ার আশা করছেন তিনি।
হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমদের নিয়ে এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। বাকি পাঁচ দেশের তুলনায় আঞ্চলিক এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশকেই সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে দেখা হচ্ছে, আর প্রতিপক্ষ ভারতের কোচের মুখেও মিলেছে সেই স্বীকৃতি।
নওশাদ মুসা বলেন, ‘আমার বিবেচনায় এই মুহূর্তে বাংলাদেশই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দল। আশা করি, ফাইনালে তাদের মুখোমুখি হব।’ একই সঙ্গে নিজের দলের সীমাবদ্ধতার কথাও গোপন করেননি তিনি।
ভারতের প্রস্তুতির বড় জটিলতা এসেছে ফিফা উইন্ডো থেকে। এই সময়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে ভারতের মূল জাতীয় দল, ফলে সেই দলের দায়িত্বে থাকছেন প্রধান কোচ খালিদ জামিল। সাফে তাই ‘বি’ দলের ডাগআউটে দাঁড়াবেন নওশাদ মুসা।
ভারতের ২৮ সদস্যের সাফ দলে অনূর্ধ্ব-২৩ পর্যায়ের খেলোয়াড়ই বেশি। তার ওপর ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল) চলমান থাকায় ক্লাবগুলো থেকে শুরুতে সব খেলোয়াড়কে পাচ্ছেন না নওশাদ, ফলে প্রথম ম্যাচে পূর্ণ শক্তির দল মাঠে নামানো ভারতের জন্য কঠিন হবে।
নওশাদ নিজেই সেই চ্যালেঞ্জের কথা বলেছেন। তার ভাষায়, কয়েকজন খেলোয়াড়কে প্রথম ম্যাচের আগেই পাচ্ছেন না, এটা একটা চ্যালেঞ্জ; তবে যে দলটি তিনি পেয়েছেন, সেটিও খারাপ নয়—ভারতের শক্তিশালী দলই আছে বলে জানান তিনি।
তার পরও এই ভারতকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই বাংলাদেশের। ২০০৯ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অনূর্ধ্ব-২৩ দল নিয়েই এসেছিল ভারত; সেবার সেমিফাইনালে স্বাগতিক বাংলাদেশকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে মালদ্বীপকে টাইব্রেকারে ৩-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল তারা।
সাফে ভারতের সাফল্যের ইতিহাসও সমৃদ্ধ। ১৯৯৩ সালে প্রথম শিরোপা জয়ের পর ১৯৯৭, ১৯৯৯, ২০০৫, ২০০৯, ২০১১, ২০১৫, ২০২১ ও ২০২৩ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা—সব মিলিয়ে নয়বারের শিরোপাজয়ী ভারত এবার ঢাকায় এসেছে দশম ট্রফির স্বপ্ন নিয়ে। সর্বশেষ ২০২৩ সালে ফাইনালে কুয়েতকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল দলটি।
সাম্প্রতিক মুখোমুখি লড়াইয়ে অবশ্য বাংলাদেশের পারফরম্যান্স আশাব্যঞ্জক। গত বছরের ১৮ নভেম্বর ঢাকায় এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে ভারতের মাঠে দুই দলের লড়াই শেষ হয়েছিল গোলশূন্য ড্রয়ে।
আসরের সমীকরণ অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বের দুটি ম্যাচ ও সেমিফাইনাল জিতলে ফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারত ও বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সারির দল পাঠালেও ফেভারিটের তালিকায় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতকেই এক নম্বরে রাখা হচ্ছে, আর বাংলাদেশের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে ধরা হচ্ছে তাদেরই—নওশাদের আশা করা সেই ফাইনালই তাই আসরের সবচেয়ে আলোচিত সম্ভাবনা।




