ঢাকায় সাফের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান, জার্সি বদল ও জড়িয়ে ধরতেও রাজি ভারতের কোচ

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ১৫তম আসরের পর্দা উঠছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচ দিয়ে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটায় ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দক্ষিণ এশিয়ার দুই দল।
ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে দুই দলের অধিনায়ক ও কোচকে ঘিরে ছিল নানা প্রশ্ন, বিশেষ করে মাঠে দুই দলের খেলোয়াড়দের করমর্দন কিংবা জার্সি বিনিময়ের বিষয়টি নিয়ে। রাজনৈতিক বৈরিতার বাইরে গিয়ে খেলাটিকেই গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন দুই দলের প্রতিনিধিরা।
ভারতের অধিনায়ক নাথান রড্রিগেসকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ম্যাচের আগে কিংবা শেষ বাঁশির পর পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন বা জার্সি বিনিময় করবেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, হ্যাঁ। এতে বিরাট কোনো বিষয় নেই। আমরা নিশ্চিতভাবেই তা করব।’
ভারতের কোচ নওশাদ মুসা আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেছেন, ‘প্রয়োজন হলে আমরা গিয়ে তাদের জড়িয়ে ধরতেও রাজি আছি।’
ম্যাচের গুরুত্ব সম্পর্কে নওশাদ মুসা বলেন, দুই দলের বর্তমান শক্তির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। পাকিস্তান দলে বিভিন্ন লিগে খেলা ফুটবলারদের উপস্থিতি তাদের আগের চেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করেছে। তাদের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় এখন ইউরোপে খেলছে; তারা চতুর্থ কিংবা পঞ্চম বিভাগের লিগে খেললেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাদের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
২০১৩ সালে পাকিস্তানকে ৪-০ গোলে হারানোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আগের পাকিস্তান দল আর বর্তমান দলের মধ্যে অনেক পার্থক্য। গতবার ৪-০ গোলে জিতেছিল বলে এবারও একই ফল হবে, এমন ভাবার সুযোগ নেই। সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি পাকিস্তান দলের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, ভারত প্রস্তুত এবং ম্যাচটি জিততে চায় বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ভারতের সাফে অংশগ্রহণের গুরুত্ব নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, সাফকে খুব একটা গুরুত্ব দেয় না সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ) এবং এবারও প্রথম সারির দল না পাঠিয়ে দ্বিতীয় সারির দল পাঠানো হয়েছে। জবাবে নওশাদ মুসা বলেন, এটাকে দ্বিতীয় সারির দল বলার সুযোগ নেই। দলে জাতীয় দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সঙ্গে যুব দলের খেলোয়াড়দের সমন্বয় রয়েছে। তিনি অনূর্ধ্ব-২৩ দলের দায়িত্বে ছিলেন, তাই এমন কিছু খেলোয়াড়কে দলে নিয়েছেন, যারা তার খেলার ধরন বোঝে। সাফ ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং শিরোপা জেতার লক্ষ্য নিয়েই তারা এসেছেন বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে পাকিস্তানও নিজেদের শক্তি ও সামর্থ্য নিয়ে আশাবাদী। দলটির অধিনায়ক মনে করেন, বাংলাদেশের মাঠ ও পরিবেশের সঙ্গে পরিচিতি তাদের বাড়তি সুবিধা দেবে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে পাকিস্তানের কয়েকজন ফুটবলারের। অধিনায়ক জানান, তাদের চারজন খেলোয়াড় বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্লাবে নিয়মিত খেলছেন, ফলে এখানকার মাঠ ও আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সমস্যা হবে না।
ভারতকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে ফেলার প্রত্যয় জানিয়ে পাকিস্তান অধিনায়ক বলেন, ‘এটি প্রতিটি খেলোয়াড় ও দলের জন্য বিশেষ একটি ম্যাচ। আমরা ভালো ফুটবল খেলার চেষ্টা করব এবং তাদের কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে ফেলতে চাই।’ বাংলাদেশি দর্শকদের সমর্থনও প্রত্যাশা করছেন তিনি। গত মৌসুমে ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তার আশা, বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা এবারও পাকিস্তানের পাশে থাকবেন।
৫ থেকে ১৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে টেকনো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬। ছয় দলের এই আসরে ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান ও মালদ্বীপ। গ্রুপের শীর্ষ দুই দল উঠবে সেমিফাইনালে।




