প্রস্তুতি ম্যাচ ছাড়াই সাফে নামছে বাংলাদেশ, শিরোপা জয়ের ব্যাপারে ‘ওভারকনফিডেন্ট’ তাবিথ

প্রস্তুতি ম্যাচ ছাড়াই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলতে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। টিকিটের চড়া দাম ও প্রচার-প্রচারণার ঘাটতিতে গ্যালারিতে দর্শকদের উপস্থিতি নিয়েও তৈরি হয়েছে শঙ্কা।
আট বছর পর আবার বাংলাদেশের মাটিতে বসছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আসর। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে পর্দা উঠবে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই প্রতিযোগিতার। দীর্ঘ ২৩ বছর পর শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।
মাঠের লড়াই শুরুর আগেই প্রস্তুতি, আয়োজন, প্রচার-প্রচারণা এবং টিকিটের দাম নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। এমন পরিস্থিতিতেও শিরোপা জয়ের ব্যাপারে অতি আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) গণমাধ্যমে কথা বলার সময় তাবিথ বলেন, এবার ২০২৬ সাফ আয়োজনে তারা ওভারকনফিডেন্ট বলতে পারেন যে তারা শিরোপা জিতবেন, এবং শুধু শিরোপাই জিতবেন না, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জিতবেন, যেন মানুষ খেলা দেখে বুঝতে পারে প্রথম দিন থেকেই জয়ের মনোভাব বাংলাদেশের ছিল।
সাফের আগে নিজেদের শক্তি ও দুর্বলতা যাচাইয়ের সুযোগই পায়নি বাংলাদেশ। কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারেনি জাতীয় দল। গত ১ অক্টোবর জাকার্তায় ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ৯-২ গোলে হারের পর আর আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নামেনি দল। ফলে সাফের ঠিক আগে নিজেদের প্রস্তুতির প্রকৃত অবস্থা যাচাই করার সুযোগও হয়নি কোচ থমাস ডুলির।
প্রস্তুতি ম্যাচ না খেলার বিষয়টি অবশ্য বড় করে দেখতে চান না তাবিথ। তার যুক্তি, ফিফা উইন্ডোর বাইরে থাকায় বিদেশি কোনো দলের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করা কঠিন ছিল। তবে ঘরোয়া লিগ চালু থাকায় খেলোয়াড়েরা ম্যাচের মধ্যেই ছিলেন। তার দাবি, লিগের সর্বশেষ তিন রাউন্ডে প্রত্যেক খেলোয়াড় ছয়টি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে খেলোয়াড় না পাওয়ার সমস্যা। ইনজুরির কারণে বংশোদ্ভূত ফুটবলার রোনান সুলিভান ছিটকে গেছেন। ক্লাবের ব্যস্ততায় প্রথম ম্যাচে পাওয়া যাচ্ছে না হামজা চৌধুরীকেও। তবে এসব পরিস্থিতি আগে থেকেই পরিকল্পনায় ছিল বলে জানিয়েছেন বাফুফে সভাপতি। ২৮ জন খেলোয়াড় নিবন্ধন করায় পরবর্তী ম্যাচগুলোতে অন্যদের যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি। রোনানের সঙ্গে মাহে খান প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন।
৫ নভেম্বর উদ্বোধনী দিনে বিকেল সাড়ে ৩টায় মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। রাত ৮টায় স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভুটান। ছয় দলের এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ খেলবে ‘এ’ গ্রুপে ভুটান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে। অন্য গ্রুপে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান ও মালদ্বীপ। ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল।
টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র দুই দিন আগে আয়োজন ঘিরে যে উন্মাদনা প্রত্যাশিত ছিল, বাস্তবে তার ঘাটতি স্পষ্ট। দলগুলোর ঢাকায় আগমন, প্রচার-প্রচারণা এবং সার্বিক আয়োজন নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়নি প্রত্যাশিত আবহ। এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন তাবিথ নিজেও। তার দাবি, জাতীয় দলকে ঘিরে আগ্রহ তৈরি করতে বাফুফে কাজ করছে।
আয়োজনের দায় নিয়েও বাফুফে ও সাফের অবস্থান আলোচনায় এসেছে। তাবিথের ব্যাখ্যা, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের মূল আয়োজক সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সাফ)। টিভি স্বত্ব, বাণিজ্যিক কার্যক্রম, ব্র্যান্ডিং ও টুর্নামেন্টের বাজেটের দায়িত্ব তাদের। বাফুফে কেবল সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। এমনকি টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য বাফুফের নিজস্ব কোনো খরচও হচ্ছে না বলে দাবি তার।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগ টিকিটের দাম নিয়ে। সাধারণ গ্যালারির টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার টাকা। এ ছাড়া ক্লাব হাউস ৪ হাজার, ভিআইপি গ্যালারি ৭ হাজার, রেড বক্স ৮ হাজার এবং করপোরেট বক্সের টিকিট ১০ হাজার টাকা। এক দিনের টিকিটে দেখা যাবে দুটি ম্যাচ। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে টিকিট বিক্রির ধীরগতিও সেই আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে গ্যালারি ফাঁকা থাকার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও তাবিথের বিশ্বাস, বাংলাদেশের ম্যাচগুলোতে দর্শকসংখ্যা বাড়বে এবং স্টেডিয়াম খালি থাকবে না। অন্য ম্যাচগুলোর দর্শক উপস্থিতি নিয়ে অবশ্য কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি।




