ফারহানের জার্সি আমার, হামজারটা নিয়ে ওরা মারামারি করুক: সাফ শুরুর আগে হাসির সংবাদ সম্মেলন শ্রীলঙ্কা কোচের

ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াই মাঠে শুরু হওয়ার আগেই সংবাদ সম্মেলনে হাসি-রসিকতায় মাতিয়ে তুললেন শ্রীলঙ্কার কোচ আব্দুল্লাহ আল মুতাইরি। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একদিকে বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন, নিজের দলের শিরোপার সম্ভাবনা নিয়ে মজা করেছেন, আবার বাংলাদেশের ফুটবলার ফারহান আলী ওয়াহিদের জার্সি পাওয়ার আবদারও জানিয়েছেন।
তার সবচেয়ে আলোচিত মন্তব্যটি ছিল ফারহানের জার্সি নিয়ে। মুতাইরি বলেন, ‘আমি আমার খেলোয়াড় ও স্ট্রাইকারদের বলে দিয়েছি, বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচে ফারহানের যে জার্সি থাকবে, সেটি যেন আমার কাছে আসে। কেউ যদি ফারহানের জার্সি আনার চেষ্টা করে, তাহলে তাকে এক বছরের জন্য সাসপেন্ড করব।’
হামজা চৌধুরীর জার্সির ক্ষেত্রে অবশ্য শিষ্যদের জন্য কোনো নিষেধাজ্ঞা রাখেননি তিনি। হাসতে হাসতে তার শেষ কথা ছিল, ‘হামজার জার্সি নিয়ে তারা নিজেরা মারামারি করতে পারে, আমার কোনো সমস্যা নেই।’
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানান লঙ্কান কোচ। তিনি বলেন, প্রায় এক বছর ধরে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে তার দল। ভুটানের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার পাশাপাশি সেপ্টেম্বরে সেশেলসের বিপক্ষে দুটি এবং মরিশাসের বিপক্ষে একটি ম্যাচ খেলেছে শ্রীলঙ্কা।
তবে টুর্নামেন্টের আগে বড় ধাক্কার খবরও দেন তিনি—দলের দুই খেলোয়াড় এসিএল চোটে পড়েছেন।
শ্রীলঙ্কা দলে প্রবাসী ও বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের সংখ্যা নিয়েও কথা বলেন মুতাইরি। তার ভাষ্য, দলে এমন খেলোয়াড় রয়েছেন প্রায় ১৮-১৯ জন; তাদের মধ্যে ইংল্যান্ডের পঞ্চম বা ষষ্ঠ বিভাগ থেকে শুরু করে জার্মানির দ্বিতীয় বুন্দেসলিগায় খেলা ফুটবলারও আছেন। শ্রীলঙ্কার রক্ত থাকলেই দেশের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ দেওয়া হবে—এই নীতিতেই এগোচ্ছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন, জানান তিনি।
ফেভারিটের প্রশ্নে নিজের দলকে এগিয়ে রাখতে চাননি মুতাইরি। মজার ছলে তিনি বলেন, ‘আমাদের ফেডারেশন যদি শুনতে পায় আমি শ্রীলঙ্কাকে ফেভারিট বলেছি, তাহলে চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে।’ এরপর নিজের বিবেচনায় ফেভারিটের তালিকা দেন তিনি: প্রথমে বাংলাদেশ, দ্বিতীয় ভারত এবং তৃতীয় পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কার সম্ভাবনা নিয়ে হাসতে হাসতে তার মন্তব্য, শ্রীলঙ্কার কোনো সুযোগ আছে বলে তিনি মনে করেন না; তবে লড়াই করার জন্যই দল নিয়ে এসেছেন তারা।
সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীলঙ্কার উন্নতি তুলে ধরে ফাইনালে খেলার প্রত্যাশা জানতে চাইলে মুতাইরির উত্তর ছিল, সাফ জিতলে চুক্তি অনুযায়ী বড় অঙ্কের বোনাস পাবেন ঠিকই, কিন্তু শুধু এই টুর্নামেন্টের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নষ্ট করতে চান না তিনি। তার মূল লক্ষ্য ২০৩২ এশিয়ান কাপের জন্য শ্রীলঙ্কাকে প্রথমবারের মতো যোগ্যতা অর্জন করানো, আর সেই লক্ষ্যেই সাজানো হয়েছে আগামী চার বছরের পরিকল্পনা।
দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের প্রভাব নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেন লঙ্কান কোচ। বাংলাদেশের হামজা চৌধুরী, শমিত সোম ও ফারহানকে উদাহরণ হিসেবে টেনে তিনি বলেন, এ ধরনের খেলোয়াড়দের বিদেশি হিসেবে আলাদা করে দেখার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে; তাদের দেশের ফুটবলের অংশ হিসেবেই গ্রহণ করতে হবে। আরও বেশি এমন খেলোয়াড় একসঙ্গে খেলতে পারলে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের চিত্র বদলে যেতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে খেলা শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক সুজন পেরেরার কাছেও জানতে চাওয়া হয়, বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও মাঠ সম্পর্কে পরিচিতি তাদের জন্য বাড়তি সুবিধা কি না। জবাবে সুজন জানান, বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের চেনা এবং এখানকার পরিবেশে খেলার অভিজ্ঞতা তাকে সাহায্য করবে।




