প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়েই বাংলাদেশের মুখোমুখি ভুটান, হামজাকে না পেয়ে হতাশ অধিনায়ক চেনচো

ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের মিশন শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আর স্বাগতিকদের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই এবারের আসরে নিজেদের যাত্রা শুরু করবে ভুটান।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল। একদিকে দীর্ঘ ২৩ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর স্বপ্নে বিভোর বাংলাদেশ, অন্যদিকে সীমিত প্রস্তুতি নিয়েও চমক দেখাতে প্রস্তুত ভুটান।
ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের প্রস্তুতি, দলের শক্তি ও বাংলাদেশের বিপক্ষে পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন ভুটানের প্রধান কোচ গ্যারি এম ফিলিপস ও অধিনায়ক চেনচো গিয়েলছেন।
প্রস্তুতির ঘাটতি থাকলেও প্রতিযোগিতায় আত্মবিশ্বাস নিয়েই নামছে ভুটান। কোচ গ্যারি এম ফিলিপস জানিয়েছেন, অন্যান্য দলের মতো পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পায়নি তার দল। ফিফা উইন্ডোর সময় ভুটানের জাতীয় লিগ চলায় খেলোয়াড়দের একসঙ্গে পাওয়া কঠিন ছিল। এমনকি প্রতিযোগিতার আগে কোনো প্রস্তুতি ম্যাচও খেলতে পারেনি দলটি।
ফিলিপস বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি কিছুটা ছন্দ হারিয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত আমরা কোনো ম্যাচ খেলতে পারিনি। কয়েক সপ্তাহ আগে আমি অনূর্ধ্ব-২০ দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। ফিফা উইন্ডোর সময় জাতীয় লিগ চলায় খেলোয়াড়দের একসঙ্গে পাওয়া কঠিন ছিল। তবে খেলোয়াড়দের দেখার এবং সেরা স্কোয়াড বেছে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। বাংলাদেশের মতো অন্যান্য দলের যে ধরনের প্রস্তুতি ছিল, আমাদের তেমনটা হয়নি। তারপরও আমরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এই প্রতিযোগিতায় নামছি।’
দলের প্রস্তুতি নিয়ে একই রকম বাস্তবতার কথা জানিয়েছেন অধিনায়ক চেনচো গিয়েলছেনও। ভুটানের ফুটবল মৌসুম শেষ হওয়ার পর সাফের জন্য প্রস্তুতির সময় খুব বেশি ছিল না। এর মধ্যে নতুন কোচকে দল নির্বাচন ও সমন্বয় গড়ে তুলতে হয়েছে। ফলে দলে জায়গা পেয়েছেন বেশ কয়েকজন তরুণ ও নতুন মুখ।
তবে কোচের অভিজ্ঞতায় আস্থা রাখছেন অধিনায়ক। চেনচো বলেন, ‘অনুশীলন শুরু হওয়ার সময় আমি কিছুটা দ্বিধায় ছিলাম। কারণ ভুটানের মৌসুম মাত্র শেষ হয়েছিল, সাফের প্রস্তুতির জন্য বেশি সময় পাওয়া যায়নি। অধিকাংশ খেলোয়াড়ই তরুণ ও নতুন মুখ। তবে কোচের অভিজ্ঞতার কারণে এখন আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী।’
হামজাকে নিয়ে প্রশ্নে চেনচোর উত্তরও ছিল বেশ ইতিবাচক। গতবার চোটের কারণে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে পারেননি তিনি। এবার হামজা চৌধুরীকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন ভুটান অধিনায়ক। কিন্তু প্রথম ম্যাচে হামজার না খেলার খবর কিছুটা হতাশ করেছে তাকে।
চেনচো বলেন, ‘হামজা খেলছে না বলে আমি খুশি নই। আসলে আমি চেয়েছিলাম সে খেলুক। সবাই জানে, সে সাফ অঞ্চলের একজন বড় তারকা। তার মতো মানের খেলোয়াড়দের বিপক্ষে খেললে অনেক কিছু শেখার সুযোগ থাকে। আমরা তার সঙ্গে খেলতে পছন্দ করতাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত শুনেছি, সে প্রথম ম্যাচে খেলছে না।’
তবে হামজার অনুপস্থিতিকে বাড়তি সুবিধা হিসেবে দেখলেও জয়ের লক্ষ্য থেকে সরে আসছে না ভুটান। প্রথম ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে যেতে চান অধিনায়ক। তার ভাষায়, প্রতিটি দলেরই সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য থাকে। ভুটানও প্রথম ম্যাচ জিতে শেষ চারে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে এগিয়ে থাকতে চায়।
স্বাগতিক বাংলাদেশকে নিয়ে সতর্ক ভুটান কোচ গ্যারি ফিলিপসও। তিনি বলেন, স্বাগতিকদের বিপক্ষে খেলাটা সবার জন্যই কিছুটা চাপের। তবে এটি এএফসি বা বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব নয়। আঞ্চলিক দলগুলোর বিপক্ষে খেলার সুযোগ এটি। আমাদের দলে অনেক তরুণ খেলোয়াড় রয়েছে। নতুনদের দেখার এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করার ভালো সুযোগ এটি। আমি মাত্র কয়েক সপ্তাহ হলো দায়িত্ব নিয়েছি। এখনো সবার নাম শিখছি। আশা করি ভালো কিছু হবে।
দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে ক্রমেই বাড়ছে অরিজিন খেলোয়াড়দের উপস্থিতি। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো দলগুলোতে এমন খেলোয়াড়দের দেখা গেলেও ভুটানের জাতীয় দল সাজানো হয়েছে শতভাগ স্থানীয় ফুটবলারদের নিয়ে। এ নিয়ে গর্বিত অধিনায়ক চেনচো গিয়েলছেন।
তিনি বলেন, ‘বিশ্ব ফুটবল এখন অনেক বদলে গেছে। শুধু বাংলাদেশ বা শ্রীলঙ্কা নয়, ইন্দোনেশিয়া কিংবা থাইল্যান্ডের মতো দেশেও বিভিন্ন অরিজিন খেলোয়াড়রা প্রতিনিধিত্ব করছেন। কিন্তু আমাদের দল শতভাগ স্থানীয় ভুটানি খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত। শতভাগ স্থানীয় খেলোয়াড় নিয়ে জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত।’




