…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › শিক্ষা › খবর
শিক্ষা

এইচএসসিতে পাসের হার ২২ বছরের সর্বনিম্ন ৫২ শতাংশ, ইংরেজিতেই ফেল ২ লাখ ৪৩ হাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক

এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করেছে প্রায় ৫২ শতাংশ শিক্ষার্থী, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ফলাফল নিয়ে প্রকাশিত বিশ্লেষণে এই সংখ্যাগুলো উঠে এসেছে।

অকৃতকার্য হয়েছে পাঁচ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে শুধু ইংরেজিতেই ফেল করেছে দুই লাখ ৪৩ হাজার জন। আইসিটিতে ফেল করেছে এক লাখ ৩৮ হাজার জন। দুই বিষয় মিলিয়ে ফেলের সংখ্যা তিন লাখ ৮২ হাজার।

তুলনায় ২০২১ সালে এই একই পরীক্ষায় পাসের হার ছিল প্রায় ৯৫ শতাংশ। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পাঁচ বছরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকেরা বদলাননি; বদলেছে খাতা দেখার নিয়ম ও নির্দেশনা।

বরিশাল বোর্ডে পাসের হার নেমেছে ৬২ শতাংশ থেকে ৪৪ শতাংশে, প্রায় ১৭ পয়েন্ট কমেছে। ২০২৪ সালে এই বোর্ডের পাসের হার ছিল প্রায় ৮২ শতাংশ। দুই বছরে এই বোর্ডে পাসের হার প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

দেশের প্রায় ৩০০ প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষণে ইংরেজিতে বড় সংখ্যায় ফেলের কারণ হিসেবে শিক্ষণপদ্ধতিকে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইংরেজি মুখস্থের বিষয় নয়, এটি একটি দক্ষতা; অথচ শিক্ষার্থীদের ভাষা শেখানো না হয়ে টেন্স, ট্রান্সলেশন আর মুখস্থ প্যারাগ্রাফ শেখানো হয়। বারো বছর ইংরেজি পড়েও অনেক শিক্ষার্থী তিনটি বাক্য বলতে পারে না বলে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে।

আইসিটি নিয়েও একই ধরনের পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে বিশ্লেষণে। কম্পিউটার ছাড়া আইসিটি পড়ানো হচ্ছে অনেক কলেজে; বিষয়টি হাতে-কলমের, ল্যাব ছাড়া এটি পড়ানো যায় না বলে এতে বলা হয়েছে। প্রত্যেক কলেজে অন্তত একটি কার্যকর কম্পিউটার ল্যাবকে ন্যূনতম শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সমাধান হিসেবে বিশ্লেষণে প্রথমত প্রাথমিক স্তর থেকেই ইংরেজি শেখানোর পদ্ধতি বদলানোর কথা বলা হয়েছে—পড়া, লেখা, শোনা ও বলা, এই চারটিরই চর্চা চাই। দ্বিতীয়ত, ইংরেজির শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তৃতীয়ত, প্রতিটি কলেজে দলীয় বিবেচনায় নয়, কঠোর প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। চতুর্থত, একাদশ শ্রেণিতেই দুর্বল শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে আলাদা ক্লাসের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে—ফেল করার পরে নয়, ফেল করার আগেই।

এছাড়া শহর ও গ্রামের শিক্ষার মানের ব্যবধান কমানো, নিয়মিত ক্লাস নিশ্চিত করা এবং ধারাবাহিক মূল্যায়ন চালুর কথাও বলা হয়েছে, যাতে একজন শিক্ষার্থীর দুর্বলতা দুই বছর ধরে চাপা না থাকে।

মন্ত্রী বলেছেন, এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দুই বছরে যে শিক্ষার্থী ইংরেজি শিখতে পারেনি, সে এক মাসে শিখবে কি না, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে বিশ্লেষণে।

বিশ্লেষণটি লিখেছেন ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর স্টাফ সায়েন্টিস্ট ড. রউফুল আলম। তাঁর মতে, না শিখিয়ে পাস করিয়ে দেওয়া সমাজের জন্য আরও ভয়ংকর; পাসের হার বাড়ানো লক্ষ্য হতে পারে না, লক্ষ্য হতে হবে শেখানো।

শিক্ষা বিভাগের আরও খবর

শিক্ষা

দুই বছর ধরে স্থায়ী চেয়ারম্যান নেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগে

আইনি জটিলতা, যৌন নিপীড়নের অভিযোগের তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা এবং অন্য শিক্ষকদের অনিচ্ছার কারণে দীর্ঘ দুই বছর ধরে স্থায়ী চেয়ারম্যান ছাড়াই চলছে ঢাকা বিশ্ব…

ডিসেম্বরে হতে পারে ৯ম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা, প্রথমবার সরাসরি নিয়োগ দেবে এনটিআরসিএ
শিক্ষা

ডিসেম্বরে হতে পারে ৯ম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা, প্রথমবার সরাসরি নিয়োগ দেবে এনটিআরসিএ

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) ৯ম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে পারে। চলমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধান ও…

শিক্ষা

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ৭৪.২ শতাংশের মধ্যে বিষণ্নতার লক্ষণ, তীব্র পর্যায়ে প্রতি তিনজনে একজন: গবেষণা

দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণ শিক্ষার্থীদের প্রতি চারজনের মধ্যে প্রায় তিনজনের বিষণ্নতার লক্ষণ রয়েছে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণায় অংশ নেওয…

শিক্ষা

কিউএস এশিয়া র‍্যাঙ্কিংয়ে আবারও দেশের সেরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, এশিয়ায় ১৩৬তম

আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আবারও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর…