…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › রাজনীতি › খবর
রাজনীতি

ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার: আগ্রহের পাশাপাশি সন্দেহ ও অবিশ্বাস রাজনীতিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার: আগ্রহের পাশাপাশি সন্দেহ ও অবিশ্বাস রাজনীতিতে
ছবি: সংগৃহীত

সন্দেহ, অবিশ্বাস এবং অনেক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা নিয়ে। ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী বারবার একই অবস্থান তুলে ধরছেন যে, তিনি ডিসেম্বরেই দেশে ফিরবেন।

কিন্তু প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এবং মৃত্যুদণ্ডের রায় মাথায় নিয়ে তিনি আসলে দেশে ফিরবেন কি না, এমন সন্দেহ প্রকাশ করছেন তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলে আসছেন, শেখ হাসিনা তাঁর কর্মীদের হতাশা কাটাতে দেশে ফেরার কথা বলছেন, কিন্তু তিনি ঝুঁকি নিয়ে ফিরবেন না।

দেশে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা তাঁর দল আওয়ামী লীগকে হঠাৎ ঝটিকা মিছিল করে তাদের অস্তিত্বের জানান দেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যাচ্ছে; এর বাইরে তারা সেভাবে প্রকাশ্যে বড় কোনো সাংগঠনিক শক্তি দেখাতে পারেনি।

চব্বিশের ৫ আগস্টের পর থেকেই আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে তাদের বিরোধী দলগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দেশের রাজনীতির মাঠ। সরকারি দল বিএনপি, বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এবং জুলাই ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের দল এনসিপি রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে, এবং শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বর্তমানে সক্রিয় দলগুলোর মধ্যে এক ধরনের ঐকমত্য আছে বলে বিশ্লেষকেরা বলছেন।

আইনগত দিক থেকেও জটিলতার প্রশ্ন উঠছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গত বছরের ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ৬৬৩টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে হত্যা মামলা ৪৫৩টি। দুর্নীতিবিরোধী বেসরকারি সংস্থা টিআইবি গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে একটি মামলায় তাঁর মৃত্যুদণ্ডের সাজাও রয়েছে।

বিএনপি সরকার ভারতের সঙ্গে প্রত্যার্পণ চুক্তির মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ফেরত আনতে চায়। বিএনপি সরকার গঠনের পর গত ১০ মাসে ভারতের বিজেপি সরকারকে কয়েক দফা চিঠি দিয়েছে সরকার। তার আগে অন্তর্বর্তী সরকারও তাদের ১৮ মাসের শাসনে কয়েক দফায় চিঠি পাঠিয়ে তাগিদ দিয়েছিল, কিন্তু হ্যাঁ বা না—কোনো জবাব পায়নি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বিষয়টিকে শুধু আইনি বিষয় হিসেবে বলে আসছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ভারত কোনো জবাব দেয়নি; শেখ হাসিনাকে ফেরত দেবে না, এমনটাও বলেনি। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ দিকে গত বছরের ডিসেম্বরে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছিলেন, ‘শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণ শেষপর্যন্ত নয়াদিল্লির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।’

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রত্যার্পণযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত, ফেরার আসামি ও বন্দিদের হস্তান্তরের চুক্তি রয়েছে ২০১৩ সাল থেকে; এই চুক্তির আওতায় ২০১৫ সালে আসামের আলফা নেতা অনুপ চেটিয়াকে ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। তবে বিএনপি সরকারেরই নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র বলছে, ওই চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরানো যাবে, সেই সম্ভাবনা কার্যত নেই; সাবেক কূটনীতিকদের অনেকেরও ধারণা, ভারত সে পথে যাবে না।

চুক্তির একটি ধারায় বলা হয়েছে, যাকে হস্তান্তরের অনুরোধ জানানো হচ্ছে, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ যদি ‘রাজনৈতিক প্রকৃতি’র হয়, তাহলে সেই অনুরোধ খারিজ করা যাবে। তবে কোন কোন অপরাধকে ‘রাজনৈতিক’ বলা যাবে না, সেই তালিকায় হত্যা, গুম, অনিচ্ছাকৃত হত্যা, বোমা বিস্ফোরণ ও সন্ত্রাসবাদের মতো অপরাধ রয়েছে; এর ভিত্তিতে হস্তান্তরের অনুরোধ জানানোর অধিকার রয়েছে বাংলাদেশ সরকারের।

অন্যদিকে বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের অন্যতম মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেছেন, শেখ হাসিনা ঝুঁকি থাকলেও ডিসেম্বরেই দেশে ফিরবেন এবং এই অবস্থানে তিনি অটল রয়েছেন। সারা দেশে তাদের দলকে সাংগঠনিক দিক থেকে গোছানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি মনে করেন, প্রত্যার্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত নেওয়া বিএনপি সরকারের জন্য বেশ কঠিন; তিনি নিজের ঘোষণা অনুযায়ীই দেশে ফিরবেন।

ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের একজন নেতা জানিয়েছেন, তাদের নেত্রীর বয়স এখন প্রায় আশি বছর; এই বয়সে তিনি লম্বা সময় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে পারবেন না, ফলে তিনি দেশের ভেতরে রাজনীতিতে ফিরতে যেকোনো ঝুঁকি নিতে চান। ওই নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি পরিবার এবং এমনকি ভারতের সঙ্গেও কথা বলেছেন, এবং গত কয়েক মাসে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। তবে ফেরার প্রক্রিয়া ও দিনক্ষণ নিয়ে তিনি এখনও অন্য কারও সঙ্গে আলোচনা করেননি বলে ওই নেতারা জানান।

তাঁর ঘোষণার পর থেকে দেশে থাকা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা কিছুটা উদ্বুদ্ধ হয়েছেন বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন; ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় ঝটিকা মিছিল বেড়েছে এবং এতে গ্রেপ্তারের সংখ্যাও বাড়ছে। সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার ফেরার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনেক প্রশ্নে জটিলতা থেকেই যাচ্ছে।

রাজনীতি বিভাগের আরও খবর

ইউপি নির্বাচন পাঁচ ধাপে, প্রথম ভোট ২১ জানুয়ারি, তফসিল ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে: ইসি
রাজনীতি

ইউপি নির্বাচন পাঁচ ধাপে, প্রথম ভোট ২১ জানুয়ারি, তফসিল ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে: ইসি

স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রথম ধাপের তফসিল ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী বছরের…

রাজনীতি

চট্টগ্রামের তিন ইউনিটে জামায়াতের পুরোনো আমিররাই বহাল, বদল শুধু খাগড়াছড়িতে

রুকনদের (সদস্য) ভোটেও চট্টগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর তিন ইউনিটের শীর্ষ পদে নতুন নেতৃত্ব আসেনি। দলটির ২০২৭-২০২৮ সাংগঠনিক সেশনের জন্য চট্টগ্রাম মহানগর, উত…

মেয়াদ শেষের আট দিন পর রাকসুর দফতর ছাড়লেন জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার
রাজনীতি

মেয়াদ শেষের আট দিন পর রাকসুর দফতর ছাড়লেন জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ১৭তম সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার আট দিন পর নিজের দফতর…

জামায়াতের ৭৭ জেলা-মহানগর আমিরের নাম ঘোষণা, নতুন মুখ ২৭ জন
রাজনীতি

জামায়াতের ৭৭ জেলা-মহানগর আমিরের নাম ঘোষণা, নতুন মুখ ২৭ জন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৭৭টি জেলা ও মহানগর শাখার আমিরের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি জেলা ও মহানগরে নতুন আমির নির্বাচিত হয়েছেন; বাকিগুলোতে …